সংবিধানের বিধানাবলি সঠিকভাবে অনুসরণের আহ্বান রাষ্ট্রপতির
সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ১.৮৭ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক ও ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের প্রেক্ষিতে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের নামে থাকা প্রায় ১ কোটি ৮৭ লাখ টাকার স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক (Attachment) এবং ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ (Freeze) করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ঢাকার সিনিয়র বিশেষ জজ আদালত বিচারিক বিবেচনা শেষে দুদকের আবেদনের পক্ষে এই আদেশ মঞ্জুর করেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের আবেদনের ভিত্তিতে আদালত সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের নামে অর্জিত ও দৃশ্যমান নিম্নোক্ত সম্পত্তি ক্রোক ও অবরুদ্ধের নির্দেশ দিয়েছেন:

  • স্থাবর সম্পত্তি (ক্রোক): দেশের বিভিন্ন জেলায় সাবেক রাষ্ট্রপতির নামে থাকা মোট ১৮টি প্লট ক্রোক করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

  • অস্থাবর সম্পত্তি (অবরুদ্ধ): সাবেক রাষ্ট্রপতির নামে থাকা ২টি পৃথক ব্যাংক হিসাবে রক্ষিত মোট ৩৭ হাজার টাকা অবরুদ্ধ বা ফ্রিজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিভিন্ন জেলায় সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের নামে আনুমানিক ১ কোটি ৮৭ লাখ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া গেছে। সংস্থাটির দাবি, এই সম্পদসমূহ তাঁর বৈধ ও আয়কর বিবরণীতে ঘোষিত প্রকৃত আয়ের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে এবং আসামি যেন স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর বা টাকা উত্তোলন করতে না পারেন, সে লক্ষ্যে সম্পদ ক্রোক ও ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আইনি আবেদন জানানো হয়েছিল।

এর আগেও সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে ব্যাংক খাতের অনিয়মের অভিযোগে আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি সামনে এসেছিল। বিশেষ করে বিতর্কিত ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা ও ঋণ সংক্রান্ত আর্থিক অনিয়ম ও লুটপাটের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় তাঁকে আসামি শ্রেণীভুক্ত করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ার আগের দুর্নীতি ও পদে থাকাকালীন বিভিন্ন বিষয়ে ইতোমধ্যে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলেও তদন্ত প্রক্রিয়া ও পর্যালোচনা চলমান রয়েছে।