গরীব ও অসহায়দের পক্ষে মামলা পরিচালনার শর্তে দণ্ডিত আইনজীবী প্রবেশনে মুক্ত
আইনজীবী (প্রতীকী ছবি)

চেক জালিয়াতির মামলায় আইনজীবী হুমায়ুন কবির কারাগারে

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে চেকের স্বাক্ষর জাল করে ৩৬ লাখ ৮১ হাজার টাকা উত্তোলনের চেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় আইনজীবী হুমায়ুন কবির হাওলাদারকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহাম্মদ রেজাউল হক তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এ আদেশ দেন।

হুমায়ুন কবির হাওলাদার লক্ষ্মীপুর আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তিনি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দালাল বাজার ইউনিয়নের মহাদেবপুর গ্রামের বাসিন্দা।

রোববার সন্ধ্যায় আদালতের জারিকারক মো. মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, চেক জালিয়াতির মামলাটি সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুর সার্কেল) তদন্ত করেছেন। তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পর আদালত হুমায়ুন কবিরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ফিরোজ আলম বলেন, গত ৭ অক্টোবর হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। রোববার তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। আদালত আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ মামলার অপর আসামি আব্দুস শহীদ পলাতক রয়েছেন।

যেভাবে চেক জালিয়াতির অভিযোগ

মামলার বাদী ইউছুফ আলী রায়পুর উপজেলার উদমারা গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর স্ত্রী মরিয়ম বেগমের ব্যাংক হিসাবের চেক চুরি করে তাতে স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে টাকা উত্তোলনের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

আইনজীবী ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মরিয়ম বেগম অভিযুক্ত হুমায়ুন কবিরের আত্মীয়। মরিয়মের বাড়িতে দাওয়াতে গিয়ে তিনি সাউথইস্ট ব্যাংকের হায়দরগঞ্জ শাখার একটি চেক চুরি করে নিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরে ওই চেকে ৩৬ লাখ ৮১ হাজার টাকা লিখে মরিয়ম বেগমের স্বাক্ষর জাল করে টাকা উত্তোলনের জন্য ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়। চেকের স্বাক্ষরের সঙ্গে ব্যাংকে সংরক্ষিত স্বাক্ষরের অমিল দেখতে পেয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ মরিয়মকে বিষয়টি জানায়।

এরপর তাঁর স্বামী ইউছুফ আলী বাদী হয়ে হুমায়ুন কবির হাওলাদার ও আব্দুস শহীদের বিরুদ্ধে রায়পুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। মামলাটি ৪৮১/২৫ নম্বরে নথিভুক্ত হয়।

তদন্তে স্বাক্ষর জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়ার দাবি

আদালত মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেন সহকারী পুলিশ সুপারকে (রায়পুর সার্কেল)। দীর্ঘ তদন্তের পাশাপাশি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় চেকের স্বাক্ষর জালিয়াতির সত্যতা পাওয়া গেছে বলে মামলার সূত্রে জানা গেছে।

তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ৭ অক্টোবর আদালত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

সমঝোতার চেষ্টা হয়েছিল: আইনজীবী সমিতির সভাপতি

লক্ষ্মীপুর আইনজীবী সমিতির সভাপতি মনিরুল ইসলাম হাওলাদার সাংবাদিকদের বলেন, সমিতির সভাপতি হিসেবে আদালত বিষয়টি সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির জন্য তাঁকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন। এ জন্য তাঁরা সাত দিনের সময় চেয়েছিলেন। তবে বাদীপক্ষ প্রতিকার চাওয়ায় শেষ পর্যন্ত সমঝোতা হয়নি।