খাস কামরায় নয়, বিচারিক আদালতের আদেশ-রায় দিতে হবে প্রকাশ্য আদালতে
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট

অর্থঋণ ও চেক ডিজঅনার মামলা একসঙ্গে চলতে বাধা নেই

খেলাপি ঋণ আদায়ে অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর অধীনে দায়ের করা দেওয়ানি মামলা এবং চেক ডিজঅনারের ঘটনায় নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারায় করা ফৌজদারি মামলা স্বতন্ত্রভাবে চালানোর ক্ষেত্রে হাইকোর্টের দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন আদেশগুলোর কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। এর ফলে একই ঋণের অর্থ আদায়ের জন্য অর্থঋণ আদালতে মামলা চলার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট চেক প্রত্যাখ্যাত হলে ফৌজদারি মামলার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ওই আদেশগুলো আর বাধা হয়ে থাকছে না।

সোমবার (১৩ অক্টোবর) আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হকের চেম্বার আদালত এ আদেশ দেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের করা তিনটি আবেদনের শুনানি শেষে আদালত এ সিদ্ধান্ত দেন।

আদেশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, একই ঋণ আদায়ের বিষয়ে অর্থঋণ আদালতে দেওয়ানি মামলা চলার পাশাপাশি চেক ডিজঅনারের ঘটনায় ফৌজদারি মামলাও চলতে পারে। কারণ, মামলা দুটি ভিন্ন আইনের অধীনে দায়ের করা হয় এবং এগুলোর প্রকৃতিও আলাদা।

তিনি বলেন, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো খেলাপি ঋণ আদায়ের জন্য অর্থঋণ আদালতে মামলা করার পাশাপাশি ঋণের বিপরীতে নেওয়া চেক প্রত্যাখ্যাত হলে সংশ্লিষ্ট আইনে ফৌজদারি ব্যবস্থাও নিতে পারবে।

যে কারণে আইনি জটিলতা

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করার কারণে বিপুল পরিমাণ অর্থ খেলাপি ঋণে পরিণত হচ্ছে। জনগণের আমানতের অর্থ ঋণ হিসেবে নিয়ে কিছু ঋণগ্রহীতা তা পরিশোধ না করে বিদেশে বাড়ি, গাড়ি ও সম্পদ গড়ে তুলছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এ ধরনের ঋণ আদায়ে কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২০০৩ সালে অর্থঋণ আদালত আইন প্রণয়ন করা হয়।

অন্যদিকে, চেক প্রত্যাখ্যাত বা ডিজঅনার হলে নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারায় ফৌজদারি মামলা করার বিধান রয়েছে। ফলে কোনো ঋণগ্রহীতা ঋণের টাকা পরিশোধ না করলে ব্যাংক একদিকে অর্থঋণ আদালতে অর্থ আদায়ের মামলা করতে পারে, অন্যদিকে ঋণের বিপরীতে দেওয়া চেক ডিজঅনার হলে সংশ্লিষ্ট আইনে ফৌজদারি ব্যবস্থাও নিতে পারে।

তবে একই ঋণের অর্থ আদায়ের জন্য দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা একসঙ্গে চালানো যাবে কি না, তা নিয়ে আইনি প্রশ্ন দেখা দেয়। এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সুপ্রিম কোর্টের একাধিক সিদ্ধান্তে মামলা দুটির স্বতন্ত্র প্রকৃতি ও আইনি ভিত্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে একসঙ্গে কার্যক্রম চালানোর সুযোগ স্বীকৃত হয়েছে।

হাইকোর্টের রায় ও আপিল বিভাগের পদক্ষেপ

অ্যাটর্নি জেনারেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৯ মার্চ হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এক রায়ে পর্যবেক্ষণ দেন, খেলাপি ঋণ আদায়ের জন্য অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩ এবং নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারায় একই সঙ্গে মামলা করা বেআইনি ও এখতিয়ারবহির্ভূত। একই সঙ্গে চলমান মামলাগুলোর কার্যক্রম বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।

ওই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে গেলে ২০২৫ সালের ২৬ অক্টোবর লিভ পিটিশন গ্রহণ করে রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করা হয় বলে জানান অ্যাটর্নি জেনারেল।

তিনি আরও জানান, পরবর্তী সময়ে গত ২৮ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের আরেকটি বেঞ্চ কয়েকটি চলমান চেক ডিজঅনার মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেন। ওই অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে আপিল বিভাগে তিনটি আবেদন করা হয়।

সোমবার ওই তিনটি আবেদনের শুনানি শেষে চেম্বার আদালত হাইকোর্টের দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন আদেশগুলোর কার্যকারিতা স্থগিত করেন।

অ্যাটর্নি জেনারেলের মতে, এর ফলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো খেলাপি ঋণ আদায়ের জন্য অর্থঋণ আদালতে দায়ের করা মামলা চালানোর পাশাপাশি চেক ডিজঅনারের ঘটনায় দায়ের করা ফৌজদারি মামলার কার্যক্রমও অব্যাহত রাখতে পারবে।