সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের একাংশ সমিতি প্রাঙ্গণে ‘সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের’ ব্যানারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছবি: সংগৃহীত
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের একাংশ সমিতি প্রাঙ্গণে ‘সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের’ ব্যানারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। ছবি: সংগৃহীত

বরিশাল আদালত ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে মানববন্ধন, মিছিল ও ভাঙচুরের অভিযোগ

বরিশাল আদালতের এক বিচারকের এজলাস কক্ষে হট্টগোল ও ভাঙচুরের ঘটনার প্রতিবাদে ‘সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ’-এর ব্যানারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট-এর আইনজীবীদের একাংশ। কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হয় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে।

মানববন্ধনের পরপরই আওয়ামী লীগবিরোধী স্লোগান দিয়ে মিছিল করে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম। পরে সমিতির সভাপতির কক্ষের সামনে সংক্ষিপ্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সমিতির বর্ধিত ভবনে অবস্থিত একাধিক কক্ষে ভাঙচুর ও কয়েকজন আইনজীবী লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগ ওঠে।

মানববন্ধনে বক্তব্য

বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি দুপুরে সমিতি প্রাঙ্গণে আয়োজিত মানববন্ধনে আইনজীবী চঞ্চল কুমার বিশ্বাস, কুমার দেবুল দে, তামান্না ফেরদৌস, উজ্জ্বল হোসেন ও আসলাম মিয়া বক্তব্য দেন। কর্মসূচি সঞ্চালনা করেন আইনজীবী সুবীর নন্দী দাস।

বক্তারা বরিশাল আদালতের বিচারকের এজলাস কক্ষে ঘটে যাওয়া হট্টগোল ও ভাঙচুরের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং বিচার বিভাগের মর্যাদা রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।

মিছিল ও সভা

মানববন্ধন শেষে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আইনজীবীরা স্লোগানসহ সমিতি ভবন প্রদক্ষিণ করে মিছিল করেন। পরে ভবনের সামনে সংক্ষিপ্ত সভায় বক্তব্য দেন ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী কামরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, সরকারের এক মাস পূর্তি হয়নি, এর মধ্যেই আওয়ামী লীগ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। গত ১৭ বছরে হাইকোর্টে যা হয়েছে, তা সাধারণ আইনজীবীরা আর দেখতে চান না। ভবিষ্যতে লাউঞ্জে বা ভিন্ন নামে কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালিত হলে সেখান থেকে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তার দায় জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম নেবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আইনজীবীরা স্লোগান ও মিছিল নিয়ে সমিতি ভবন প্রদক্ষিণ করেন। পরে সমিতি ভবনের সামনে সংক্ষিপ্ত সভা করেন। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আইনজীবীরা স্লোগান ও মিছিল নিয়ে সমিতি ভবন প্রদক্ষিণ করেন। পরে সমিতি ভবনের সামনে সংক্ষিপ্ত সভা করেন। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ফোরামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব আবদুল্লাহ আল মাহবুব ও গাজী তৌহিদুল ইসলাম, সমিতির সাবেক সিনিয়র সহসম্পাদক কাজী জয়নাল আবেদীনসহ অন্যরা।

এ সময় ‘আওয়ামী লীগের আস্তানা’ ও ‘ফ্যাসিস্টদের আস্তানা সুপ্রিম কোর্ট হবে না’ স্লোগান দেওয়া হয়।

ভাঙচুর ও হামলার অভিযোগ

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া আইনজীবী চঞ্চল কুমার বিশ্বাস অভিযোগ করেন, কর্মসূচি শেষে তিনি সমিতির বর্ধিত ভবনে নিজের চেম্বার, রুম নম্বর ৪০২১-এ গেলে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আইনজীবী গাজী তৌহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল সমর্থক প্রথমে আইনজীবী আবু সাঈদ সাগরের রুম, কক্ষ নম্বর ২০২১, ভাঙচুর করেন।

আইনজীবী আবু সাঈদ সাগরের কক্ষে ভাঙচুর করা হয়। ছবি: সংগৃহীত
আইনজীবী আবু সাঈদ সাগরের কক্ষে ভাঙচুর করা হয়। ছবি: সংগৃহীত

তার অভিযোগ, পরে মিছিল নিয়ে তাঁর কক্ষে হামলা চালানো হয়। এ সময় তাঁর জুনিয়র সহকর্মী সুপ্রকাশ দত্ত অমিত বাধা দিতে গেলে তাঁকে মারধর করা হয়। তিনিও হামলার শিকার হন বলে দাবি করেন।

উল্লেখ্য, আইনজীবী আবু সাঈদ সাগর পূর্বে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেল থেকে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি পদে নির্বাচন করেছিলেন।

ফোরামের বক্তব্য

অভিযোগ প্রসঙ্গে গাজী কামরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, আবু সাঈদ সাগর দুদিন আগে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে কটূক্তি করেছেন বলে আইনজীবীদের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। মিছিল যখন তাঁর কক্ষের সামনে দিয়ে যাচ্ছিল, তখন সেখানে আওয়ামী লীগের একটি সভা চলছিল বলে দাবি করেন তিনি। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।

তিনি বলেন, ঘটনাটি একতরফা নয়, দুই পক্ষের মধ্যেই উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। কক্ষ ভাঙচুরের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।