কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির নেতৃত্বে মান্নান-হেলালী
ছবি : নির্বাচিত সভাপতি অ্যাড: আবদুল মন্নান ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আখতার উদ্দিন হেলালী

কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতি নির্বাচন: বিএনপি ৪, জামায়াত ৬, আওয়ামী লীগ ৭ পদে বিজয়ী

মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী : কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির বার্ষিক নির্বাচনে তিনটি রাজনৈতিক সমর্থিত প্যানেলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম ৪টি, জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিল ৬টি এবং আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেল ৭টি পদে বিজয় লাভ করেছে। শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

সভাপতি পদে বিএনপি, সাধারণ সম্পাদক পদে জামায়াত

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম মনোনীত মোহাম্মদ আবদুল মন্নান-ছলিমুল মোস্তফা প্যানেলের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবদুল মন্নান ৪০৪ ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আমির হোসাইন পান ২৫৭ ভোট। আওয়ামী লীগ মনোনীত সভাপতি প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ বদিউল আলম সিকদার পান ২১৫ ভোট।

সাধারণ সম্পাদক পদে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্যানেলের অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আখতার উদ্দিন হেলালী ৩৫১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নুরুল হুদা পান ২৯২ ভোট। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম মনোনীত অ্যাডভোকেট ছলিমুল মোস্তফা পান ২৩১ ভোট।

বিএনপি সমর্থিত প্যানেলের অন্যান্য বিজয়ীরা

সহ সভাপতি পদে মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ২ পান ৪৬৮ ভোট, পাঠাগার ও তথ্য প্রযুক্তি সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট শওকত ওসমান পান ৩১৭ ভোট এবং নির্বাহী সদস্য পদে অ্যাডভোকেট আজিজুল করিম জয় পান ৩৬৫ ভোট। ১৭টি পদের বিপরীতে ১৬ জন প্রার্থী দিয়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম ৪টি পদে জয়লাভ করে।

জামায়াত সমর্থিত প্যানেলের বিজয়ীরা

জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আমির হোসাইন-অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আখতার উদ্দিন হেলালী প্যানেলের অন্যান্য বিজয়ীরা হলেন- সিনিয়র সহ সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট আবদুল বারী পান ৪৫৮ ভোট, সহ সাধারণ সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট জিয়াউদ্দিন মাহমুদ তমাল পান ৩৯৬ ভোট। সিনিয়র নির্বাহী সদস্য পদে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নেজামুল হক পান ৪৭১ ভোট এবং অ্যাডভোকেট এ কে এম ও শাহজালাল চৌধুরী পান ৩৫১ ভোট। নির্বাহী সদস্য পদে অ্যাডভোকেট এস এম জসিম উদ্দিন পান ৩৩৪ ভোট। ১৭টি পদের বিপরীতে ১৭ জন প্রার্থী দিয়ে জামায়াত সমর্থিত প্যানেল ৬টি পদে জয়লাভ করে।

আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেলের বিজয়ীরা

আওয়ামী লীগ মনোনীত অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ বদিউল আলম সিকদার-অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নুরুল হুদা প্যানেলের বিজয়ী ৭ জন হলেন- সহ সাধারণ সম্পাদক হিসাব পদে অ্যাডভোকেট মো. মহিউদ্দিন পান ৩৩৩ ভোট, আপ্যায়ন সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ রিদুয়ান আলী পান ৩৫৯ ভোট, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে নাহিদা খানম কক্সী পান ৪৩৮ ভোট। সিনিয়র নির্বাহী সদস্য পদে অ্যাডভোকেট ইকবালুর রশিদ আমিন পান ৪৯৬ ভোট এবং অ্যাডভোকেট জিয়াউদ্দিন আহমদ পান ৪২৭ ভোট। নির্বাহী সদস্য পদে অ্যাডভোকেট সেকাব উদ্দিন পান ৩৯৮ ভোট এবং অ্যাডভোকেট পারভীন সুলতানা পিয়া নির্বাচিত হন। ১৪ জন প্রার্থী দিয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেল ৭টি পদে জয়লাভ করে।

ভোটার উপস্থিতি ও ভোটগ্রহণ

সমিতির মোট ৯৪৮ জন ভোটারের মধ্যে কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতি ভবন কেন্দ্রে ৮০৬ জন এবং চকরিয়া উপজেলা আইনজীবী সমিতি ভবন কেন্দ্রে ৮৬ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। মোট ভোট কাস্ট হয় ৮৯২টি। ১৭টি পদের বিপরীতে ৪৭ জন আইনজীবী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

এবারই প্রথম বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত তিনটি পৃথক প্যানেল সরাসরি নির্বাচনে অংশ নেয়। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতি ভবন ও চকরিয়া উপজেলা চৌকি আদালত ভবন কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচন কমিশন

জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাং আহমদ কবির অ্যাডভোকেট প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সহকারী প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন এম রেজাউল করিম, সৈয়দ রাশেদ উদ্দিন ও মোস্তাক আহমদ ৪। এছাড়া ফরিদ আহমদ, নুর আহমদ ২, আবু ছিদ্দিক, তাপস রক্ষিত, মোহাম্মদ সিরাজউল্লাহ, এ কে ফিরোজ আহমদ ও মোহাং আরিফ উল্লাহ অ্যাডভোকেট নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯০১ সালে প্রতিষ্ঠিত কক্সবাজার জেলার সর্ববৃহৎ পেশাজীবী সংগঠন কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির ইতিহাসে গঠনতান্ত্রিক বাধ্যবাধকতার কারণে এবারই প্রথম রোজার সময় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের নির্বাচনে কার্যনির্বাহী কমিটির ১৭টি পদের মধ্যে বিএনপি সমর্থিত প্যানেল ৯টি, জামায়াত সমর্থিত প্যানেল ৬টি এবং আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেল ২টি পদে জয়লাভ করেছিল।