সরকার ও চার পত্রিকাকে এস আলম গ্রুপের আইনি নোটিশ
আইনি নোটিশ

পাভেল ইস্যুতে পুলিশের প্রতি ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম, নইলে হাইকোর্টে রিট

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রহিদ খান পাভেলকে মারধরের ঘটনায় তার মায়ের দায়ের করা শাহবাগ থানার এজাহারকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এফআইআর হিসেবে গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ডেপুটি কমিশনার (রমনা) এবং শাহবাগ থানার ওসির কাছে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের পক্ষে এই নোটিশ প্রেরণ করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট চঞ্চল কুমার বিশ্বাস এবং অ্যাডভোকেট আসলাম মিয়া।

নোটিশে বলা হয়, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রহিদ খান পাভেলের মা ২০২৬ সালের ৯ মার্চ একটি এজাহার দায়ের করেন, যেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সংঘটিত একটি গুরুতর অপরাধের বর্ণনা দেওয়া হয়।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ওইদিন ভোররাত প্রায় ৩টার দিকে সেহরি খাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হলে একদল চিহ্নিত ব্যক্তি তাকে নির্মমভাবে মারধর করে।

এজাহারে অভিযুক্তদের নামসহ ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। একইদিন বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও সামাজিক মাধ্যমে ঘটনাটি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়।

নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৪ ধারার বিধান অনুযায়ী, কোনো আমলযোগ্য অপরাধের তথ্য লিখিত বা মৌখিকভাবে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানানো হলে তা এফআইআর হিসেবে লিপিবদ্ধ করা বাধ্যতামূলক।

আরও পড়ুন : জ্বালানি তেল মজুদদারি ও কালোবাজারি দমনে বিশেষ ক্ষমতা আইনে ব্যবস্থা চেয়ে আইনি নোটিশ

কিন্তু সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা এখনো যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি, যা আইনের পরিপন্থী।

এতে বলা হয়, ভুক্তভোগী একজন আইন মেনে চলা নাগরিক হিসেবে সংবিধানের ২৭ ও ৩১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইনের দৃষ্টিতে সমান আচরণ ও আইনি সুরক্ষা পাওয়ার অধিকারী।

কিন্তু বর্তমান ঘটনায় তাকে বৈষম্যের শিকার হতে হয়েছে এবং ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

নোটিশে অভিযোগ করা হয়, এজাহার প্রত্যাহারের কোনো সুযোগ নেই এবং বিষয়টি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা পুলিশের বাধ্যবাধকতা।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তা আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং এর জন্য তাদের জবাবদিহি করতে হবে।

এ প্রেক্ষিতে নোটিশ প্রাপ্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এফআইআর রেকর্ড করে তদন্ত শুরু এবং আইন অনুযায়ী প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অন্যথায় সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট দায়ের করা হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

এছাড়া নোটিশে সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত কর্মকর্তাকে সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

নোটিশের সঙ্গে ২০২৬ সালের ৯ মার্চের এজাহারের অনুলিপি (সামাজিক মাধ্যম থেকে সংগৃহীত) এবং ১০ মার্চ দৈনিক কালের কণ্ঠে প্রকাশিত সংবাদের কপি সংযুক্ত করা হয়েছে।