জনগণের অর্থ রক্ষা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় গতিশীলতা আনার লক্ষ্যে সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির আলংকারিক পদ (Ornamental post) বাতিল করে ‘রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা’ প্রবর্তনের দাবিতে সরকারকে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (০৬ আগস্ট ২০২৬) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. মাহমুদুল হাসান (মামুন) জনস্বার্থে এই আইনি নোটিশটি প্রেরণ করেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং সংসদ সচিবালয়ের সচিব বরাবর এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশে বর্তমানে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা চালু রয়েছে, যেখানে প্রধানমন্ত্রীকে সরকার প্রধানের পাশাপাশি সংসদ সদস্য হিসেবেও ব্যাপক দায়িত্ব পালন করতে হয়। এই দ্বৈত দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর ওপর চরম প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি করে, যা নির্বাহী বিভাগের মসৃণ কার্যক্রমে বাধা দেয়।
অন্যদিকে, বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামোতে রাষ্ট্রপতির পদটি নিছক একটি আলংকারিক পদ, যার কোনো কার্যকর নির্বাহী ক্ষমতা নেই। কোনো ক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্রপতির বাসভবন এবং রাষ্ট্রীয় প্রটোকল বজায় রাখতে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে জনগণের বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়। বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশের জন্য নিছক আলংকারিক পদের পেছনে জনগণের এই বিশাল অর্থ ব্যয় সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং আর্থিকভাবে চরম হুমকিস্বরূপ।
আরও পড়ুন : দুর্ঘটনায় আহতদের জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিতের নির্দেশ হাইকোর্টের
নোটিশে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলা হয়, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও জাপানের মতো উন্নত দেশগুলো সাংবিধানিক রাজতন্ত্র বা সম্রাটের অধীনে পরিচালিত হয়। এসব দেশের রাজতন্ত্রের নিজস্ব ঐতিহাসিক সম্পত্তি ও এস্টেট রয়েছে, যেখান থেকে প্রাপ্ত আয়ের একটি বড় অংশ তাদের আনুষ্ঠানিক ব্যয়ভার মেটাতে ব্যবহৃত হয়। ফলে সাধারণ জনগণের ট্যাক্সের টাকার বিপুল অপচয় সেখানে এড়ানো সম্ভব হয়। এছাড়া বিশ্বের অধিকাংশ শক্তিশালী দেশ সরাসরি রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থায় অত্যন্ত কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
আইনি যুক্তি তুলে ধরে নোটিশে বলা হয়, সংবিধানের ২১(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংবিধান ও আইন মেনে চলা, সরকারি দায়িত্ব পালন করা এবং জনগণের সম্পত্তি রক্ষা করা প্রত্যেক নাগরিকের পরম সাংবিধানিক কর্তব্য। এই সাংবিধানিক ম্যান্ডেট অনুযায়ী একটি আলংকারিক পদের পেছনে জনগণের অর্থ ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের এই চলমান অপচয় রোধ করতেই নোটিশটি দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া সংবিধানের ২১(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সব সময় জনগণের সেবা করার চেষ্টা করা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির কর্তব্য। প্রধানমন্ত্রীকে চরম প্রশাসনিক চাপে রাখা এবং একটি আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রপতির জন্য জনগণের অর্থ ব্যয় করা রাষ্ট্র কর্তৃক জনগণকে কার্যকর সেবা প্রদানের সাংবিধানিক কর্তব্যের সরাসরি লঙ্ঘন।
নোটিশে আগামী ১৫ (পনেরো) দিনের মধ্যে সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির আলংকারিক পদ বাতিল করে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের লক্ষ্যে কার্যকর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশের সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে বলে নোটিশে জানানো হয়েছে।

