সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেপ্তার না দেখাতে ও হয়রানি না করতে নির্দেশনা দিয়ে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন নিষ্পত্তি করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ।
আজ রোববার (৯ আগস্ট ২০২৬) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন।
এই আদেশের ফলে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া বিচারপতি খায়রুল হককে গ্রেপ্তার না দেখাতে ও হয়রানি না করতে হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশনাটি বহাল থাকছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।
আদালতে হাইকোর্টের আদেশের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী, সারা হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান খান এবং আইনজীবী মাহবুব শফিক, মোনায়েম নবী শাহীন প্রমুখ। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মেহেদি হাসান চৌধুরী।
এর আগে গত ১৭ মে বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দিয়েছিলেন।
নথিপত্র অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়ের ঘটনাবলীতে সংঘটিত দুটি হত্যার মামলায় গত ১২ মে হাইকোর্ট থেকে জামিন পান বিচারপতি খায়রুল হক। তবে রাষ্ট্রপক্ষ সেই জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেছিল।
এরও আগে, যুবদলকর্মী হত্যা, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংক্রান্ত রায় জালিয়াতি এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা পাঁচ মামলায় গত ২৮ এপ্রিল আপিল বিভাগ বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন বহাল রাখেন। তার পূর্বে গত ৮ মার্চ হাইকোর্ট চার মামলায় তাকে জামিন দেন এবং ১১ মার্চ দুদকের মামলায়ও জামিন মঞ্জুর করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এসব জামিন আদেশের বিরুদ্ধে আবেদন করলেও তা আপিল বিভাগে খারিজ হয়ে যায়।
পরবর্তীতে যাত্রাবাড়ী থানায় আরিফ এবং আদাবর থানায় রুবেল হত্যা মামলায় তাকে নতুন করে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। নিম্ন আদালতে জামিন না পেয়ে হাইকোর্টে আবেদন জানালে ১২ মে ওই দুই মামলায়ও তিনি জামিন লাভ করেন। সাবেক এই প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে মোট সাতটি মামলা রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসভবন থেকে সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল।

