কক্সবাজারের ডিসিকে হাইকোর্টে তলব
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট। ছবি: জয়দীপ্তা দেব চৌধুরী

রাষ্ট্রদ্রোহ আইন বাতিল চেয়ে রিট খারিজ করলেন হাইকোর্ট

দণ্ডবিধির ১২৪এ ধারা, অর্থাৎ রাষ্ট্রদ্রোহের আইন, সংবিধানবিরোধী ও বাতিলযোগ্য ঘোষণা চেয়ে দায়ের করা রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (৩১ আগস্ট) বিচারপতি রাজিক আল জলিলের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান। রিট খারিজের আদেশের পর তিনি জানান, হাইকোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হবে।

এর আগে দণ্ডবিধির ধারা ১২৪এ-কে সংবিধানবিরোধী ও অকার্যকর ঘোষণা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদনটি দায়ের করেন আইনজীবী ইশরাত হাসান।

রিট আবেদনে বলা হয়, রাষ্ট্রদ্রোহ আইন নাগরিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করে। সরকারের বিরুদ্ধে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রতিটি নাগরিকের রয়েছে। অথচ দণ্ডবিধির ১২৪এ ধারার মাধ্যমে সরকারের প্রতি ঘৃণা, বিদ্বেষ বা বৈরিতা সৃষ্টি কিংবা তা করার চেষ্টাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

দণ্ডবিধির ১২৪এ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি লিখিত বা উচ্চারিত কথা বা উক্তির মাধ্যমে, চিহ্ন দ্বারা, দৃশ্যমান কোনো প্রতীকের সহায়তায় অথবা অন্য কোনোভাবে বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী বৈধভাবে প্রতিষ্ঠিত সরকারের প্রতি ঘৃণা বা বিদ্বেষ সৃষ্টি করলে বা করার চেষ্টা করলে অথবা বৈরিতা উদ্রেক করলে বা করার চেষ্টা করলে তিনি রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধে দণ্ডিত হবেন।

আরও পড়ুনপ্রস্তাবিত সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন আইন: সম্ভাব্য জটিলতা ও করণীয়

এই অপরাধের জন্য আইনে যাবজ্জীবন অথবা তিন বছর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। এর সঙ্গে অর্থদণ্ডও যোগ করা যেতে পারে।

রিটে আরও বলা হয়, রাষ্ট্রদ্রোহ সংক্রান্ত এই আইনটি ঔপনিবেশিক আমলের একটি আইন। মূলত স্বাধীনতা আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে তৎকালীন ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সরকার এ ধরনের আইন প্রণয়ন করেছিল বলে রিটে উল্লেখ করা হয়। স্বাধীন বাংলাদেশের একটি গণতান্ত্রিক সংবিধানের সঙ্গে এ আইন অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও দাবি করা হয়েছে।

রিট আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, দণ্ডবিধির ১২৪এ ধারা সংবিধানের বিভিন্ন মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিশেষ করে সংবিধানের ৭, ২৬, ২৭, ৩১, ৩২ ও ৩৯ অনুচ্ছেদে নাগরিকদের যে অধিকার ও সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে, রাষ্ট্রদ্রোহের এ ধারা তার পরিপন্থি বলে রিটে দাবি করা হয়।

এ কারণে দণ্ডবিধির ১২৪এ ধারাকে সংবিধানবিরোধী ও অকার্যকর ঘোষণা করার পাশাপাশি এ বিষয়ে রুল জারির আবেদন জানানো হয়েছিল।

তবে শুনানি শেষে সোমবার হাইকোর্ট রিট আবেদনটি খারিজ করে দেন। ফলে এ মুহূর্তে দণ্ডবিধির ১২৪এ ধারাকে সংবিধানবিরোধী ঘোষণা করার আবেদনটি হাইকোর্টে টেকেনি। তবে রিটকারী পক্ষের আইনজীবী জানিয়েছেন, তারা হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।