মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের মোঃ মোজাহারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। তিনি শাহজাদপুর উপজেলার কায়েমপুর এলাকার বাসিন্দা। আদালতের আদেশে তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে একটি মিস মামলা দায়েরের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
শাহজাদপুর চৌকি আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মোসলেম উদ্দীন এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মোঃ মোজাহার, পিতা মৃত পলান সরকার, সাং বাতিয়ার পাড়া, হাল সাং কায়েমপুর, ডাকঘর কায়েমপুর, উপজেলা শাহজাদপুর, জেলা সিরাজগঞ্জ—তিনি মোঃ উজ্জল আলী প্রামানিক, পিতা মৃত আলীমুদ্দিন, মাতা চন্দ্র ভান, সাং কায়েমপুর, থানা শাহজাদপুর, জেলা সিরাজগঞ্জের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪৬৫/৪৬৮/৪৭১/১১৪/৩৪ ধারায় একটি নালিশি মামলা দায়ের করেন।
নালিশি দরখাস্তে ফরিয়াদী উল্লেখ করেন, তিনি ২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৯০ তারিখে চাঁদ আলীর কাছ থেকে কায়েমপুর মৌজার এসএ ১৫৫২ খতিয়ান, আরএস ২৩৭৬ খতিয়ানের দাগ নম্বর ১০৭১, ২৩৭৭, ১০৬৯, ২৩৭৮, ২৪১৫ ও ৩৯৪৫ উল্লেখ করে ১৭২৭ নম্বর দলিলের মাধ্যমে সম্পত্তি প্রাপ্ত হয়ে ভোগদখলে ছিলেন।
ফরিয়াদীর অভিযোগ, বিবাদী তাঁর নাম, পিতার নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করে অন্য কোনো ব্যক্তির স্বাক্ষর সংযুক্ত করে ২২ এপ্রিল ১৯৯২ তারিখে শাহজাদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ২৪৫২ নম্বর বিনিময় দলিল তৈরি করে গোপন রাখেন। ফরিয়াদীর দাবি, তিনি ওই তারিখে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কোনো দলিল সম্পাদন করেননি এবং ওই দলিলে স্বাক্ষরও করেননি।
নালিশি দরখাস্তে তিনি আরও দাবি করেন, ওই দলিলটি যোগসাজশপূর্ণ ও জাল এবং ওই দলিলে উল্লেখিত সম্পত্তি তিনি বিবাদীকে দখল দেননি।
তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পায়নি সিআইডি
পরে আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য বিশেষ পুলিশ সুপার, ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি), সিরাজগঞ্জ জেলা, সিরাজগঞ্জকে নির্দেশ দেন।
আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্ত করেন সিআইডি সিরাজগঞ্জ জেলার এসআই মোঃ আব্দুস সালাম (বিপি-৭২৯১০০৭৩২২)।
তদন্তকালে প্রাপ্ত সাক্ষ্য, হস্তলিপি বিশারদের মতামত, ফিঙ্গারপ্রিন্ট এক্সপার্টের মতামত এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা পর্যালোচনা করে তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল করেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আসামি মোঃ উজ্জল আলী প্রামানিকের বিরুদ্ধে ফরিয়াদীর আনা দণ্ডবিধির ৪৬৫/৪৬৮/৪৭১/১১৪/৩৪ ধারার অভিযোগের পক্ষে সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিকতায় কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
মিথ্যা মামলা দায়েরের বিষয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ
নালিশি দরখাস্ত ও তদন্ত প্রতিবেদনের মধ্যে বৈপরীত্যের বিষয়টি উল্লেখ করে আদালত মামলাটি মিথ্যা মর্মে পর্যবেক্ষণ দেন।
আদালত বলেন, কোনো ব্যক্তি অপর কোনো ব্যক্তির ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে যথাযথ ও আইনগত কারণ না থাকা সত্ত্বেও আক্রোশবশত এবং ধারণাপ্রসূত অসৎ উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য মিথ্যা মামলা দায়ের করলে তিনি দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ২১১ ধারার অপরাধে দোষী হতে পারেন।
এ কারণে উক্ত ধারার অপরাধ আমলে নেওয়ার বিষয়ে কেন ফরিয়াদীর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর জন্য ১৮ নভেম্বর ২০২৫ তারিখের ১২ নম্বর আদেশে ফরিয়াদী মোঃ মোজাহারকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে আদালতের আদেশ অনুযায়ী ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে আদালতে উপস্থিত হয়ে তিনি কোনো কারণ দর্শানোর ব্যাখ্যা দেননি।
এরপর ২৭ এপ্রিল, ১৬ জুন, ৬ সেপ্টেম্বর এবং সর্বশেষ ১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখেও তিনি আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। একই সঙ্গে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর বিষয়েও কোনো পদক্ষেপ নেননি।
ফরিয়াদীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
বারবার আদালতে অনুপস্থিত থাকা এবং কারণ দর্শানোর বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় আদালত ফরিয়াদী মোঃ মোজাহারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন।
আদালত ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ১৯৫(১)(বি) ধারার বিধান সাপেক্ষে একই আইনের ৪৭৬ ধারা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট আদেশ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করে একটি মিস মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।
এর পাশাপাশি ফরিয়াদী মোঃ মোজাহারকে আসামি করে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

