ফাঁসির দণ্ডও সমাজকে রক্ষা করে না : প্রধান বিচারপতি

প্রতিবেদক : বার্তা কক্ষ
প্রকাশিত: ৬ জুলাই, ২০২১ ১১:০১ অপরাহ্ণ
উচ্চ আদালত

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে ভার্চুয়ালি শুনানি হলো তিন ফাঁসির মামলার। এর মধ্যে দুটি মামলায় স্ত্রী হত্যায় স্বামীদের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে। আর একটি হচ্ছে নিজ সন্তান হত্যার দায়ে পিতার ফাঁসি।

এসব মামলায় নিম্ন আদালতের দেওয়া সর্বোচ্চ শাস্তির রায় বহাল রেখেছে হাইকোর্ট। ওই রায়ের বিরুদ্ধে দণ্ডিতদের করা আপিল শুনানিতে রাষ্ট্র ও আসামি পক্ষের কৌসুলিরা আইনি যুক্তিতর্ক তুলে ধরেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের এক পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, ভারতের চেয়ে আমাদের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কোনো অংশেই খারাপ না। কিন্তু সেখানে ২০১৯ সালে মৃত্যুদণ্ড হয়েছে ১২১ জনের আর আমাদের এখানে ৩২৭ জনের। আমাদের এখানে স্ত্রী হত্যা মামলায় ৮০ ভাগ সাজা হচ্ছে। হয় মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন। এতো কঠোর সাজার পরেও কি স্ত্রী হত্যাকাণ্ড বন্ধ হয়েছে? হয়নি। সুতরাং সাজা দিলেই যে দুধের মধ্যে ভাসতে থাকবে এমন ধারণা ভুল। আর ফাঁসির দণ্ডও সমাজকে রক্ষা করে না। তবে যেসব মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড হবে সেখানে সেই দণ্ড দিতেই হবে বলে মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি।

কঠোর লকডাউনে দেশের সর্বোচ্চ আদালত আপিল বিভাগ খোলা রেখেছেন প্রধান বিচারপতি। সপ্তাহের মঙ্গল ও বুধবার শুধু ফাঁসির মামলার শুনানি গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন।

শুরুতে সন্তান হত্যার দায়ে পিতার ফাঁসির মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে শাশুড়ির ঝাড়ুর পিটুনি খেয়ে নিজ সন্তানকে হত্যা করেন দিনমজুর জসিম রাড়ি। সেই মামলায় তাকে নিম্ন আদালত মৃত্যুদণ্ড দেয়। আপিলে তা বহাল রাখে হাইকোর্ট।

হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের শুনানিকালে বিচারপতিরা বলেন, মামলার রেকর্ডে দেখা যাচ্ছে যে ভাত খাওয়ার সময় জসিমকে ঝাড়ু পেটা করেছেন শাশুড়ি। এতে তার নিজের জীবনের উপর ঘৃণা ধরেছে। যার কারণে সে নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সন্তান হত্যার মত ঘটনা ঘটিয়েছে। সন্তান হত্যা মামলায় ২০০৭ সাল থেকে কারাগারে আছেন জসিম।

স্ত্রী হত্যা মামলায় মো. মামুন নামে এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন সাজা দিয়েছে আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতি পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ রবিবার আসামির আপিল খারিজ করে এ রায় দেন। রায়ে মৃত্যুদণ্ডের সাজা হ্রাস করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২০০৫ সাল থেকে আসামি কারাগারে রয়েছেন।

এছাড়া স্ত্রী হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মহসিন মোল্লার আপিলের উপর আংশিক শুনানি হয়েছে। বুধবার পরবর্তী শুনানি হবে।