সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইনি নোটিশ
সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক (ফাইল ছবি)

৫ মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন বহাল রাখলেন আপিল বিভাগ

জুলাই আন্দোলনের সময় যুবদলকর্মী হত্যা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রায় জালিয়াতি এবং দুদকের করা ৫টি মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ করে এই আদেশ দেন।

হাইকোর্ট ইতিপূর্বে বিচারপতি খায়রুল হককে এই ৫ মামলায় জামিন দিলেও রাষ্ট্রপক্ষ তা স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেছিল। আজ সেই আবেদনের শুনানি শেষে সর্বোচ্চ আদালত জামিন বহাল রাখার সিদ্ধান্ত দেন।

আদালতে খায়রুল হকের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী ও অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু।

তবে জামিন বহাল থাকলেও এখনই কারাগার থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না তিনি। অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু গণমাধ্যমকে জানান, বিচারপতি খায়রুল হকের বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলা থাকায় তিনি বর্তমানে কারামুক্ত হতে পারছেন না।

গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে গ্রেপ্তার হন সাবেক এই প্রধান বিচারপতি। পরে তাকে জুলাই আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

এছাড়া তার বিরুদ্ধে আনীত উল্লেখযোগ্য অভিযোগগুলো হলো:

  • তত্ত্বাবধায়ক সরকার রায় জালিয়াতি: ২০১১ সালের ঐতিহাসিক রায়টি নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগে শাহবাগ ও নারায়ণগঞ্জে পৃথক ৩টি মামলা।

  • দুদকের মামলা: প্লট জালিয়াতি ও দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা মামলা।

নিম্ন আদালতে জামিন না পাওয়ায় তিনি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। গত ৮ ও ১১ মার্চ পৃথক আদেশে হাইকোর্ট তাকে ৫ মামলায় জামিন দিয়েছিলেন।

২০১০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান এ বি এম খায়রুল হক। ২০১১ সালের ১৭ মে অবসরে যাওয়ার পর তিনি তিন দফায় আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার দেওয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল সংক্রান্ত রায়টি বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত ও বিতর্কিত বিষয় হিসেবে পরিচিত।