জ্ঞানের সওদা কি সবাই করতে পারে? এক অনন্য আইনজীবীর প্রস্থান ও কিছু অনুচিন্তন

আব্দুল্লাহ আল মামুন: সকাল থেকে উনাকে নিয়ে বিভিন্ন লেখা ফিডে আসছে। আমাদের বেশ কয়েকজন সম্মানিত বিচারক উনাকে নিয়ে লিখেছেন। সবার বক্তব্যমতে, ট্রায়ালের জন্য অসাধারণ আইনজীবী ছিলেন। জ্ঞানী, নম্র, আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল একজন বিজ্ঞ আইনজীবী ছিলেন। যেহেতু ঢাকা কোর্টে কখনো কাজ করার সুযোগ হয়নি, তাই উনাকে দেখার সুযোগ হয়নি। দেখার সুযোগ হলে নিশ্চয়ই কিছু শিখতেও পারতাম। যেমন আমি প্রতিনিয়ত শেখার চেষ্টা করি নবীন, প্রবীণ সবার কাছ থেকে। জ্ঞানের সওদা কি সবাই করতে পারে? পারে না। অল্প কিছু মানুষ পারে। সেজন্যই তারা অনন্য হন।

সবার লেখা পড়ে মনে হচ্ছে একজন জ্ঞানী, ভালো মানুষ, ভালো আইনজীবী আমাদের মাঝ থেকে চলে গেলেন। উনি নিশ্চয়ই ভালো শিক্ষক ছিলেন। শ্রদ্ধাবনত শিষ্যদের লেখা দেখতে ভালো লাগছে।

ভালো লাগতো উনি বেঁচে থাকতে উনাকে নিয়ে কেউ লিখলে। সেই লেখা পড়ে হয়তো অনেক নবীন আইনজীবী, আইনের ছাত্র উনার থেকে দীক্ষা নিতেন; ফলে আমরা পেতাম ভবিষ্যৎ ভালো, সুদক্ষ আইনজীবী, বিনম্র আইনের ছাত্র। অনেক সময় বিচারকরা এরকম লেখা লেখেন। অনুরোধ থাকবে—জেলা পর্যায়ের এরকম যারা ভালো আইনজীবী আছেন, তাদের নিয়ে তাদের সহকর্মীরা যেন লেখেন। কী শিক্ষা নিয়েছেন তা যেন জানান।

আরও পড়ুন : জুয়া দমন আইনের আড়ালে রাষ্ট্রের হাতে নতুন ‘ডিজিটাল অস্ত্র’?

যেমন আমি খাগড়াছড়ি, ফেনী, বান্দরবান, বরগুনা, কক্সবাজারের আইনজীবীদের নিয়ে লিখতে পারি। অনেক মহৎপ্রাণ বিজ্ঞ আইনজীবী পেয়েছি, দেখেছি, শিখেছি—যাঁরা তাঁদের জ্ঞান আদালতে বিতরণ করতেন। কিন্তু কখনোই আদালতের উপর চাপিয়ে দিতেন না। তাঁরা সবসময়ই উন্মুক্ত থাকতেন। যিনি একটি ধারণায় আবদ্ধ হয়ে যান, তিনি কখনোই নতুন জ্ঞানের সৃষ্টি করতে পারেন না। তিনি টিপিক্যাল হয়ে যান। যিনি নতুন জ্ঞানকে পুরনো জ্ঞানের সাথে মিশ্রিত করে নতুন জ্ঞানের সৃষ্টি করতে পারেন, তিনিই শেখানোর যোগ্য।

এখন অবশ্য চাপিয়ে দেওয়ার যুগ। “আমি যা জানি তা-ই সঠিক”—এই ধারণা যখন কারো মনে গেঁড়ে বসে, তখন তিনি তার ধারণা দ্বারাই আবদ্ধ হয়ে যান। আদালতে তিনি নতুন কিছু সৃষ্টি করতে পারেন না।

এই জ্ঞানহীন মূর্খতার কিংবা জ্ঞানপাপীর কিংবা জ্ঞান ও দক্ষতার আকালের যুগে এই ধরণের মানুষদের চলে যাওয়া তাই বিশাল শূন্যতা তৈরি করে।

আমরা মহান আল্লাহর কাছ থেকে এসেছি, আমরা তাঁর কাছেই ফিরে যাবো। আল্লাহ আপনাকে ইহকালে যেমন সম্মান দিয়েছেন, পরকালেও যেন সম্মানিত করেন। আপনার পরিবারকে এই শোক বইবার শক্তি দিন।

লেখক : বিচারক, শিশু ধর্ষণ অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল