এফডিআরের সাড়ে ৩৩ কোটি টাকা নিয়ে দুশ্চিন্তায় চট্টগ্রামের ৮ হাজার আইনজীবী
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি

১৯তম বিজেএসে বয়সসীমা ৩৪ বছর ও ভাইভায় ফেলদের নন-ক্যাডার নিয়োগের দাবি

বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ বছর থেকে বাড়িয়ে ৩৪ বছর করা, চলমান ১৯তম বিজেএস পরীক্ষায় বয়স গণনার ক্ষেত্রে ১ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে সর্বোচ্চ ৩২ বছর বিবেচনা করা এবং ভাইভা পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ প্রার্থীদের নন-ক্যাডার পদে নিয়োগের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করেছে সংগঠনটি। চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মঈনুদ্দীন স্বাক্ষরিত ওই আবেদনে বিজেএস পরীক্ষার্থীদের জন্য তিনটি বিষয়ে জরুরি ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আবেদনে বলা হয়, করোনা মহামারির কারণে দীর্ঘ সময় বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের নিয়মিত সার্কুলার প্রকাশিত হয়নি। করোনা-পরবর্তী সময়ে বিসিএসসহ দেশের অন্যান্য সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা ৩০ বছর থেকে বাড়িয়ে ৩২ বছর করা হলেও বিজেএস পরীক্ষায় কোনো ধরনের বয়স ছাড় বা শিথিলতা দেওয়া হয়নি।

এর ফলে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী মাত্র এক দিন বা কয়েক মাসের বয়সের ব্যবধানে বিজেএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে চিরতরে বঞ্চিত হয়েছেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

সম্প্রতি ১৯তম বিজেএস পরীক্ষার সার্কুলার প্রকাশিত হলেও নির্ধারিত ৩২ বছর বয়সসীমার কারণে অনেক শিক্ষার্থী নিজেদের মেধা ও যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ পাচ্ছেন না বলেও দাবি করেছে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি।

আবেদনে আরও বলা হয়, বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে নিয়োগের ক্ষেত্রে বয়সসীমা বাড়ানোর জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কাছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে সুপারিশ করা হয়েছিল।

ভাইভায় ফেল করা প্রার্থীদের নন-ক্যাডার নিয়োগের দাবি

বিজেএস পরীক্ষার দীর্ঘ ও কঠিন প্রক্রিয়ার বিষয়টিও আবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি বলেছে, একজন প্রার্থী বিজেএস পরীক্ষার দীর্ঘ প্রক্রিয়া পেরিয়ে ১ হাজার নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও ভাইভায় মাত্র কয়েক নম্বরের ব্যবধানে প্রতি বছর প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ জন প্রার্থী অনুত্তীর্ণ হয়ে নিয়োগ থেকে বঞ্চিত হন।

অন্যদিকে বিসিএস পরীক্ষায় নন-ক্যাডার পদে নিয়োগের সুযোগ থাকায় ভাইভায় উত্তীর্ণ হতে না পারা অনেক প্রার্থীও সরকারি চাকরিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ পান। কিন্তু বিজেএসে এ ধরনের সুযোগ না থাকায় দেশের মেধাবী আইন গ্র্যাজুয়েটরা হতাশার শিকার হচ্ছেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সমিতির মতে, লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ভাইভা পর্যন্ত পৌঁছানো প্রার্থীদের মেধা ও যোগ্যতাকে কাজে লাগানোর জন্য আইন-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নন-ক্যাডার পদে নিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন।

যে তিন দাবি জানিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি

বিচার ব্যবস্থার গুণগত মান উন্নয়ন এবং মেধাবীদের নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ দেওয়ার লক্ষ্যে আবেদনে তিনটি দাবি তুলে ধরা হয়েছে।

প্রথমত, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সর্বোচ্চ বয়সসীমা স্থায়ীভাবে ৩২ বছর থেকে বাড়িয়ে ৩৪ বছর নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে।

দ্বিতীয়ত, চলমান ১৯তম বিজেএস পরীক্ষায় বয়স গণনার ক্ষেত্রে ১ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে সর্বোচ্চ ৩২ বছর বয়স বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

তৃতীয়ত, বিসিএসের আদলে বিজেএস পরীক্ষায় ভাইভায় অনুত্তীর্ণ প্রার্থীদের জন্য আইন-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থায় নন-ক্যাডার পদে নিয়োগের বিশেষ বিধিমালা প্রণয়নের দাবি জানানো হয়েছে।

আবেদনে বলা হয়, মানবিক ও যৌক্তিক দিকগুলো বিবেচনা করে এই তিনটি বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে চলমান ১৯তম বিজেএসে অনেক মেধাবী আইন গ্র্যাজুয়েটের অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে বিষয়গুলো বিবেচনা করে জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আবেদন জানানো হয়েছে।