“স্যার, আমরা কেউ তো রক্তমাখা হাত দেখিনি। কোনো প্রত্যক্ষদর্শী নেই। খুনটা আমরা দেখিনি। তাহলে শুধু কিছু পারিপার্শ্বিক ঘটনা দিয়ে কি একজন মানুষকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যায়?”
প্রশ্নটি এসেছিল একটি আইন প্রশিক্ষণ কর্মশালায়। আমি তখন Evidence Act নিয়ে আলোচনা করছিলাম। সামনে বসা তরুণ আইনজীবীদের চোখে ছিল সংশয়।
আমি টেবিলের ওপর হাত দুটো রাখলাম। তরুণ আইনজীবীদের দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বললাম, “চাক্ষুষ সাক্ষী নেই মানেই কি অপরাধী ভ্যানিশ হয়ে গেছে?”
কেউ উত্তর দিল না।
আমি আবার বললাম—“ধরুন, একজন মানুষকে তার নিজের বাড়িতে হত্যা করা হলো। হত্যার সময় কেউ দেখেনি। কিন্তু হত্যার আগে কার সঙ্গে তার বিরোধ ছিল, কার লাভ হতো তার মৃত্যুতে, কারা ঘটনাস্থলের আশপাশে ছিল, কারা লাশ সরাল, কারা হত্যার পরিকল্পনা করেছিল—এই সব প্রশ্নের উত্তর যদি একে অপরের সঙ্গে মিলে যায়, তখন আদালত কী করবে?”
কক্ষটি নিস্তব্ধ হয়ে গেল।
আমি বললাম—“আজ আপনাদের এমন একটি সত্য ঘটনা বলব, যেখানে কোনো প্রত্যক্ষদর্শী ছিল না। কিন্তু একটি রক্তমাখা লাশ, একটি ম্যানহোল, কয়েকটি confession, এবং একটি অত্যন্ত শক্তিশালী motive, শেষ পর্যন্ত পুরো হত্যাকাণ্ডের অন্ধকার পর্দা সরিয়ে দিয়েছিল।”
ঘটনাটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের। ভিকটিম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এস. তাহের আহমেদ।
১ ফেব্রুয়ারি ২০০৬
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।
রাত তখন গভীর। কোয়াটারে নিস্তব্ধতা। ড. তাহেরের ঢাকা থেকে সন্ধ্যায় ফেরার কথা ছিল। তিনি ফিরেওছিলেন। কিন্তু ঘড়ির কাঁটা যতই এগোচ্ছিল, তাঁর কোয়ার্টারের নীরবতা ততই ভারী হয়ে উঠছিল।
ফোনের রিং বেজেই যাচ্ছে… কেউ ধরছে না।
দরজায় বাইরে থেকে ঝুলছে একটা ভারী তালা।
পরদিন দুপুর পেরিয়ে গেল, কিন্তু ড. তাহের নিখোঁজ। নিখোঁজ সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হলো খোঁজাখুঁজি।
তারপর বাসার পেছনে একটা পরিত্যক্ত ম্যানহোলের ঢাকনা সরাতেই বেরিয়ে এলো এক বিভীষিকাময় দৃশ্য। ম্যানহোলের কুচকুচে কালচে জলের নিচে ডুবে আছে শিক্ষক ড. তাহেরের নিথর দেহ, মাথায় ভারী আঘাতের চিহ্ন, মুখমণ্ডল বিকৃত।
ঘাতকেরা ভেবেছিল ক্যাম্পাসের এই অন্ধকার গর্তে সত্য চিরতরে পচে গলে শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু তারা ভুল করেছিল।
কারণ লাশ কথা বলতে পারে না, কিন্তু লাশের চারপাশের পরিস্থিতি কথা বলতে পারে।
তদন্তে একের পর এক মোড়
তদন্ত শুরু হলো। প্রথমে সন্দেহের কেন্দ্রে এলেন বাড়ির caretaker জাহাঙ্গীর আলম। কারণ তিনি ভিকটিমের বাড়ির দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন।
তদন্তের এক পর্যায়ে তিনি গ্রেপ্তার হলেন। এরপর ঘটল মামলার প্রথম বড় মোড়। জাহাঙ্গীর ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় confession দিলেন। তাঁর বক্তব্য তদন্তকারীদের নিয়ে গেল আরও কয়েকজনের দিকে। একপর্যায়ে আরও দুই আসামি নাজমুল ও আবদুস সালাম confessional statement দেন।
কিন্তু একজন চুপ রইলেন। তিনি হলেন ভিকটিমের সহকর্মী ড. মিয়া মোঃ মহিউদ্দিন। তিনি কোনো confession দিলেন না। বরং নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করলেন।
এখানেই শুরু হলো প্রকৃত আইনি যুদ্ধ।
কারণ রাষ্ট্রপক্ষের সামনে তখন প্রশ্ন—যে ব্যক্তি confession করেননি, তাঁর বিরুদ্ধে অন্যদের confession এবং circumstantial evidence কতটুকু ব্যবহার করা যাবে?
আরও বড় প্রশ্ন—একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কীভাবে একটি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হলেন?
হত্যার পেছনে কী ছিল motive?
তদন্তকারী দল যখন ছায়াশিকারীর মতো অতীতে হাঁটল, তখন বেরিয়ে এলো এক ভয়াবহ হিংসার রূপরেখা।
ড. তাহের এবং ড. মহিউদ্দিন একই বিভাগের দুই সহকর্মী। কিন্তু মহিউদ্দিনের মাথায় তখন ‘প্রফেসর’ হওয়ার ভূত সওয়ার হয়েছে। আর সেই পদোন্নতির দরজায় পাহাদার হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন ড. তাহের।
ড. তাহের ছিলেন ডিপার্টমেন্টাল প্ল্যানিং কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। তদন্ত ও বিচারিক পর্যায়ে যে তথ্য উঠে আসে, তাতে দেখা যায়—ড. তাহের আসামি মহিউদ্দিনের পদোন্নতির যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। এমনকি তাঁর গবেষণাপত্রে অনিয়ম/plagiarism-এর বিষয়ও ড. তাহের জানতেন।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল নির্ধারিত সভায় ড. তাহের উপস্থিত থাকলে মহিউদ্দিনের Professor হওয়ার পথ কঠিন হয়ে যেতে পারত। মহিউদ্দিনের চাকরির মেয়াদ নিয়েও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি ছিল, নির্ধারিত সভার সময় Professor হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ১২ বছরের চাকরির মেয়াদ পূর্ণ হতে আরও কয়েক দিন বাকি ছিল। ড. তাহের এই হিসাব সামনে এনেছিলেন।
অর্থাৎ—ড. তাহের বেঁচে থাকলে মহিউদ্দিনের Professor হওয়ার সম্ভাবনা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হতে পারত। এটাই হয়ে উঠল prosecution-এর ভাষায় Motive।
শুধু motive দিয়ে কি হত্যা প্রমাণ হয়?
আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবী স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে হেসে উঠে বললেন—“Your Honour, পদোন্নতি তো সবাই চায়, পদোন্নতির ইচ্ছা থাকলেই কি মানুষ খুনি হয়ে যায়? আদালতে শুধু motive দিয়ে তো murder প্রমাণ করা যায় না।”
যুক্তিটি নিঃসন্দেহে শক্তিশালী। কারণ criminal jurisprudence-এর মৌলিক নীতি—সন্দেহ যতই প্রবল হোক, তা প্রমাণের বিকল্প নয়।
রাষ্ট্রপক্ষও জানত—শুধু motive দিয়ে এই মামলা জেতা যাবে না। তাই তারা একের পর এক পরিস্থিতির প্রতিটি কড়ি (Circumstances) এক সুতোয় গাঁথতে শুরু করল:
- ড. তাহেরের আকস্মিক অন্তর্ধান,
- দরজায় রহস্যময় তালা,
- কেয়ারটেকার জাহাঙ্গীরের অদ্ভুত আচরণ,
- ম্যানহোল থেকে উদ্ধার হওয়া রক্তাক্ত লাশ,
- সহ-আসামিদের স্বীকারোক্তি,
- এবং পদোন্নতি হারানোর তীব্র আতঙ্ক।
রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে গর্জে উঠে বলল, “Your Honour, ঘটনাগুলোকে আলাদাভাবে দেখবেন না। প্রতিটি ঘটনা এক একটি শিকলের লিঙ্ক। এই লিঙ্কগুলো একসঙ্গে জোড়া দিন—দেখবেন ঘাতকের মুখ স্পষ্ট ভেসে উঠছে।”
Confessional statement-এর গুরুত্ব
এবার এলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ—Confessional statement।
Defence বলল—“পুলিশি হেফাজতে দীর্ঘ সময় থাকার পর confession এসেছে। এটি voluntary নয়।”
আরও বলা হলো—“একজন আসামির confession দিয়ে অন্য আসামিকে দণ্ডিত করা যায় না।”
রাষ্ট্রপক্ষ পাল্টা বলল—“আমরা শুধু confession-এর ওপর দাঁড়িয়ে নেই।”
এটাই ছিল prosecution-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান। কারণ Evidence Act-এর Section 30 অনুযায়ী co-accused-এর confession নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বিবেচনায় আসতে পারে, তবে আদালত সেটিকে একা ও অন্ধভাবে ব্যবহার করতে পারে না।
অন্ধকার রাতে টর্চের আলো
রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে বলল, “Your Honour, ঘটনার রাতে জাহাঙ্গীর ছুরি দিয়ে ড. তাহেরের মাথায় কোপ দেয় এবং অন্যরা বালিশ দিয়ে মুখ চেপে ধরে তাঁর শ্বাসরোধ করে।”
কিন্তু মৃত্যুর পর ভারী লাশটি কীভাবে অন্ধকার রাতে ম্যানহোলে ফেলা হলো?
সহ-আসামির জবানবন্দি ও সাক্ষ্য বিশ্লেষণ করে রাষ্ট্রপক্ষ এমন এক দৃশ্য তুলে ধরল, যা শুনে বিচারকের এজলাস স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল।
রাত তখন নিঝুম। নিজ সহকর্মীর রক্তাক্ত লাশ টেনে হিঁচড়ে ম্যানহোলের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আর সেই অন্ধকার রাতে, লাশ ফেলার পথ মসৃণ করতে সামনে মোবাইলের টর্চের আলো জ্বালিয়ে পথ দেখাচ্ছেন স্বয়ং ড. মহিউদ্দিন।
একজন উচ্চশিক্ষিত প্রফেসর, রাতের আঁধারে সহকর্মীর লাশ গুম করতে টর্চের আলোয় পথ দেখাচ্ছেন—এই একটা দৃশ্যই মামলাটিকে ‘Presence’ থেকে সরাসরি ‘Participation’ (সরাসরি অংশগ্রহণ)-এ রূপান্তর করল।
Eye-witness না থাকলেও কি দণ্ড সম্ভব?
আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবী শেষ অস্ত্র হিসেবে এবার বলল—“এগুলো সব circumstantial evidence।” “কোনো eye-witness নেই।” “কেউ বলেনি—আমি দেখেছি ড. মহিউদ্দিন হত্যা করেছেন।”
রাষ্ট্রপক্ষ এবার খুব সংক্ষিপ্ত উত্তর দিল—“murder case-এ সবসময় হত্যার মুহূর্তের ছবি পাওয়া যায় না।”
“আদালতকে শুধু দেখতে হবে—প্রমাণের প্রতিটি কড়ি কি একই দিকে নির্দেশ করছে?” “নাকি মাঝখানে এমন কোনো reasonable explanation আছে, যা আসামির নির্দোষতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ?”
এই জায়গাতেই circumstantial evidence-এর প্রকৃত পরীক্ষা।
একটি circumstance নয়। দুটি circumstance নয়, বরং একটি complete chain.
ড. তাহেরের বেঁচে থাকা,
মহিউদ্দিনের promotion-এর পথে বাধা,
ড. তাহের তাঁর যোগ্যতা ও গবেষণার অনিয়ম সম্পর্কে জানতেন, তিনি Planning Committee-তে আপত্তি তুলেছিলেন। আর ঠিক সেই সময়—ড. তাহের নিহত।
তারপর—লাশ গোপন। সহ-আসামিদের confession। লাশ সরানোর বর্ণনা। ঘটনাস্থল ও অন্যান্য পারিপার্শ্বিক evidence। সবশেষে—ড. মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে এই পুরো chain।
আদালত দেখলেন—এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এগুলো যেন একটি মালার দানা। একটি দানা আলাদা করলে হয়তো সন্দেহ। দুটি দানা আলাদা করলে হয়তো অনুমান। কিন্তু—সব দানা একসঙ্গে গাঁথলে তৈরি হয় একটি chain of circumstances।
২২ মে ২০০৮: মৃত্যুদণ্ড
২২ মে ২০০৮।
দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ড. মিয়া মোঃ মহিউদ্দিন, জাহাঙ্গীর আলম, নাজমুল এবং আবদুস সালামকে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেন।
এরপর মামলা যায় হাইকোর্ট বিভাগে। হাইকোর্ট বিভাগ প্রমাণ পুনর্মূল্যায়ন করেন।
ড. মহিউদ্দিন ও জাহাঙ্গীরের মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে।
অন্যদিকে আবদুস সালাম ও নাজমুলের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন করা হয়।
কিন্তু গল্প তখনও শেষ হয়নি। মামলা পৌঁছাল বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতে—আপিল বিভাগে।
একজন কন্যার আইনি প্রতিশোধ
ড. তাহেরের হত্যার পর তাঁর পরিবার শুধু একজন প্রিয় মানুষকে হারায়নি—মেয়ে হারিয়েছিল একজন বাবা, একজন শিক্ষক, একজন অভিভাবক। আর তাঁর মেয়ের জীবনে সেই মৃত্যু রেখে গিয়েছিল একটি গভীর ক্ষত।
একদিন যে মেয়ে বাবার হত্যার বিচার দেখতে আদালতের দরজায় দাঁড়িয়েছিল, সময়ের সঙ্গে সেই মেয়েটিই সিদ্ধান্ত নিলেন—তিনি আইনজীবী হবেন।
আইনের বই খুললেন। Evidence Act পড়লেন। CrPC, Penal Code পড়লেন। মামলার নথি পড়লেন। বাবার হত্যার প্রতিটি circumstance নতুন করে বুঝতে চেষ্টা করলেন।
যে মামলায় একদিন তিনি ছিলেন একজন শোকাহত কন্যা, একদিন সেই মামলার courtroom-এ তিনি দাঁড়ালেন একজন আইনজীবী হিসেবে।
কালো গাউন পরা সেই তরুণী যখন আদালতে দাঁড়ালেন, দৃশ্যটি নিছক একটি courtroom appearance ছিল না। এটি ছিল সময়ের এক অদ্ভুত প্রত্যাবর্তন।
একদিন তিনি বাবার জন্য কেঁদেছিলেন। একদিন তিনি জানতে চেয়েছিলেন—“বাবাকে কে হত্যা করল?”
আজ তিনি Evidence Act-এর প্রতিটি relevant fact, প্রতিটি circumstance, প্রতিটি confession, প্রতিটি medical evidence এবং প্রতিটি evidentiary link-এর দিকে একজন আইনজীবীর চোখে তাকাচ্ছেন।
তিনি জানতেন—আবেগ দিয়ে আদালতে বিচার হয় না।
বিচার হয় প্রমাণ দিয়ে। তাই বাবার প্রতি ভালোবাসাকে তিনি আবেগে আটকে রাখেননি। তাকে পরিণত করেছিলেন আইনের শক্তিতে।
তিনি আপিল বিভাগে রাষ্ট্রপক্ষকে সহায়তা করার জন্য সফলভাবে উপস্থিত হলেন। নিজের বাবার হত্যার বিচারিক লড়াইয়ে অংশ নিলেন।
৫ এপ্রিল ২০২২: আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায়
আপিল বিভাগে শুনানি শুরু হলে আসামিপক্ষের শেষ কামড়—“চোখে দেখা কোনো সাক্ষী নেই, সহ-আসামির কনফেশন দিয়ে অন্য আসামিকে শাস্তি দেওয়া যায় না।”
আপিল বিভাগ গভীর পর্যালোচনায় বসলেন। আদালত পর্যবেক্ষণ করলেন—এটি কেবল সন্দেহের ওপর দাঁড়ানো কোনো মামলা নয়। এখানে Circumstantial Evidence + Confessions + Motive + Post-occurrence Conduct—সব মিলে এমন এক নিখুঁত শৃঙ্খল (Coherent Chain) তৈরি করেছে, যেখানে আসামির নির্দোষ হওয়ার আর কোনো গলি বাকি নেই।
০৫/০৪/২০২২ আপিল বিভাগ চূড়ান্ত রায় দিলেন। বিচারকদের কলম থামল—ড. মহিউদ্দিন ও কেয়ারটেকার জাহাঙ্গীরের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার আদেশ দিলেন। আবদুস সালাম ও নাজমুলের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশও বহাল রাখা হয়।
আর সেই মুহূর্তে হয়তো আদালতের দেয়ালগুলোও যেন একটি অদ্ভুত গল্পের সাক্ষী হয়ে রইল—একজন অধ্যাপক তাঁর জীবন দিয়ে যে মামলার জন্ম দিয়েছিলেন, তাঁর মেয়ে আইনজীবী হয়ে সেই মামলার শেষ অধ্যায় লিখলেন।
শেষ কথা: Circumstantial evidence কতটা শক্তিশালী?
প্রশিক্ষণ কক্ষে গল্প শেষ করলাম।
একজন জুনিয়র বললেন—
“সিনিয়র, তাহলে circumstantial evidence কি eye-witness-এর চেয়েও শক্তিশালী?”
আমি বললাম—“সবসময় নয়।”
“কিন্তু ভালো circumstantial evidence অনেক সময় প্রত্যক্ষদর্শীর চেয়েও বেশি নির্ভরযোগ্য হতে পারে।”
“Circumstantial evidence-এর শক্তি কোনো একটি কড়িতে নয়, শক্তি হলো—সব কড়ি একসঙ্গে যুক্ত হলে।”
মামলা: Dr. Miah Md. Mohiuddin & others Vs. The State & others
Citation: 17 SCOB [2023] AD 1
নোট: এটি সত্য ঘটনা ও আপিল বিভাগের রায়ের ওপর ভিত্তি করে রচিত একটি গল্পধর্মী পুনর্কথন। নাটকীয় সংলাপ ও বর্ণনার কিছু অংশ পাঠযোগ্যতার জন্য রচনামূলকভাবে সংযোজিত; সেগুলো আদালতের হুবহু বক্তব্য হিসেবে উদ্ধৃত নয়। আদালতের factual/legal findings-এর ক্ষেত্রে লেখক Supreme Court-এর প্রকাশিত রায়কে ভিত্তি করেছেন।
লেখক: মাসুদুর রহমান; এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট। যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, জেলা আইনজীবী সমিতি, ফেনী।

