সরকার ও চার পত্রিকাকে এস আলম গ্রুপের আইনি নোটিশ
আইনি নোটিশ

মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতনের প্রেক্ষাপটে সব ধারার শিক্ষায় কোরআন-হাদিস শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক : মাদ্রাসায় শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়ন, বলাৎকার ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে উদ্বিগ্ন মুসলিম অভিভাবকদের জন্য নিরাপদ প্রাতিষ্ঠানিক বিকল্প তৈরি এবং ধর্মীয় শিক্ষার সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষায় সাধারণ, ইংলিশ মিডিয়াম ও কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থায় পবিত্র কোরআন ও হাদিস শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার দাবিতে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জন্য ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে হিফজুল কোরআন কোর্স চালুর দাবি জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জনস্বার্থে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন এ আইনি নোটিশ পাঠান।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে রেজিস্টার্ড ডাকযোগে এ নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

আইনি নোটিশে সাধারণ ও ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষায় প্রথম শ্রেণি থেকে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সব পাঠ্যক্রমে মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য কোরআন ও হাদিস শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে হিফজুল কোরআন কোর্স চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে।

ধর্মীয় শিক্ষা ও শিশু সুরক্ষার সাংবিধানিক অধিকারের প্রশ্ন

নোটিশে সংবিধানের ৪১(১)(ক) অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ধর্ম পালন ও ধর্মীয় শিক্ষা লাভের অধিকার নাগরিকের মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত। নোটিশদাতার মতে, সন্তানদের নৈতিক চরিত্র গঠন এবং ইসলামি জ্ঞান অর্জনের সুযোগ নিশ্চিত করতে আগ্রহী অভিভাবকদের জন্য নিরাপদ প্রাতিষ্ঠানিক বিকল্প থাকা প্রয়োজন।

নোটিশে স্পষ্ট করা হয়েছে, ঐতিহ্যবাহী মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থাকে হেয় করা বা বন্ধ করা এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য নয়। বরং বিভিন্ন মাদ্রাসায় শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতন, বলাৎকার, অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ এবং শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ ও মামলা নিয়ে অভিভাবকদের উদ্বেগের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

আইনজীবী মাহমুদুল হাসান মামুনের বক্তব্য অনুযায়ী, মাদ্রাসার পরিবেশ নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকদের অনেকে সন্তানদের সেখান থেকে সরিয়ে আনতে দ্বিধায় পড়েন। কারণ, সাধারণ, ইংলিশ মিডিয়াম ও কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থায় তাঁদের প্রত্যাশা অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ ও পদ্ধতিগত ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ সীমিত বলে তাঁরা মনে করেন।

নোটিশে এ পরিস্থিতিকে শিশুদের শারীরিক নিরাপত্তা এবং ধর্মীয় শিক্ষা লাভের অধিকারের মধ্যে একটি সংকট হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এ সংকট নিরসনে রাষ্ট্রকে উদ্যোগী হয়ে মূলধারার শিক্ষাব্যবস্থায় ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণের নিরাপদ সুযোগ তৈরির আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রথম শ্রেণি থেকে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত দুটি কোর্সের প্রস্তাব

আইনি নোটিশে সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদে বর্ণিত শিক্ষাসংক্রান্ত নীতিমালা এবং ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে আইনের আশ্রয়, জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার সুরক্ষার বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে সাধারণ ও ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষায় প্রথম শ্রেণি থেকে মাস্টার্স পর্যন্ত এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সব পাঠ্যক্রমে মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য দুটি পৃথক কোর্স চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। কোর্স দুটি হলো:

  • পবিত্র কোরআন শিক্ষা।
  • হাদিস শিক্ষা।

নোটিশদাতার প্রস্তাব অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের মেধা ও ধারণক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে এসব কোর্সের পাঠ্যক্রম নির্ধারণ করতে হবে।

এ ছাড়া যেসব শিক্ষার্থী পবিত্র কোরআনের হাফেজ হতে আগ্রহী, তাদের জন্য সাধারণ, ইংলিশ মিডিয়াম এবং প্রযোজ্য কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দিবাকালীন নিরাপদ পরিবেশে ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে হিফজুল কোরআন কোর্স চালুর দাবি জানানো হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, এ ধরনের ব্যবস্থা চালু হলে ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণের জন্য শিশুদের পরিবার থেকে দূরে কোনো প্রতিষ্ঠানে অবস্থান করতে হবে না। একই সঙ্গে অমুসলিম শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সংবিধানের ৪১(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নিজ নিজ ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা সমমর্যাদায় নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়েছে।

১৫ দিনের সময়সীমা, অন্যথায় হাইকোর্টে রিট

আইনি নোটিশে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিশেষ করে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরকে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

নোটিশ অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সাধারণ, ইংলিশ মিডিয়াম ও কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থায় কোরআন ও হাদিস শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা এবং ঐচ্ছিক হিফজুল কোরআন কোর্স চালুর বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে।

নোটিশদাতার দাবি, শিশুদের জীবনের নিরাপত্তা, শারীরিক সুরক্ষা, মর্যাদা এবং ধর্মীয় শিক্ষা লাভের অধিকার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।