কক্সবাজারে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি (ইউসিবি) এর ঈদগাঁও শাখায় এক গ্রাহকের হিসাব থেকে ৩৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা উধাও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হিসাবটির গ্রাহক কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ মুজিবুল হক ঈদগাঁও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ মুজিবুল হক জানান, রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে চেকের মাধ্যমে টাকা উত্তোলনের জন্য তিনি তাঁর একজন কর্মচারীকে ব্যাংকে পাঠান। এ সময় হিসাবটিতে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় চেকটি ডিজঅনার করা হয়।
পরে তিনি নিজে ব্যাংকে গিয়ে খোঁজ নিলে জানতে পারেন, তাঁর অজান্তেই হিসাব থেকে জমানো ৩৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা উধাও হয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে ব্যাংকের ব্যবস্থাপকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে জানতে চাইলেও তাঁরা তাঁকে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি বলে দাবি করেন অধ্যক্ষ।
থানায় জিডি, তদন্ত করছে পুলিশ
ঘটনাটি নিয়ে ডা. মোহাম্মদ মুজিবুল হক ঈদগাঁও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। জিডি নম্বর ৯৭৪ এবং ট্র্যাকিং নম্বর DEL665।
ঈদগাঁও থানা কর্তৃপক্ষ জিডি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, তারা ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে দেখছে।
এ ঘটনায় ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ লেনদেনপ্রক্রিয়া, হিসাব থেকে অর্থ স্থানান্তরের পদ্ধতি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে ব্যাংকটির অন্য গ্রাহকদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে জানতে ইউসিবি ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা এ বিষয়ে কোনো তথ্য জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেছে।
ব্যাংকের নিরাপত্তা ও জবাবদিহি নিয়ে উদ্বেগ
একজন গ্রাহকের হিসাব থেকে ৩৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা উধাও হওয়ার অভিযোগের বিষয়ে কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারী উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন, দেশের আস্থার প্রতিষ্ঠানগুলো, বিশেষ করে বাণিজ্যিক ব্যাংক ও অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানগুলো দিন দিন চরম আস্থার সংকটে পড়ছে। বিষয়টি সমাজকে ভাবিয়ে তুলছে। এ বিষয়ে রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট মহলকে আরও দায়িত্বশীল ও কঠোর ভূমিকা রাখতে হবে।
মমতাজ উদ্দিন বাহারী আরও বলেন, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের মতো একজন সচেতন গ্রাহকের হিসাব থেকে যদি ৩৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা খোয়া যায়, তাহলে সাধারণ মানুষের অবস্থা আরও শোচনীয় হবে।
তবে গ্রাহকের হিসাব থেকে অর্থ কীভাবে উধাও হয়েছে, এ ঘটনায় কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না এবং অর্থ উদ্ধারের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে—তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

