সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এজলাসে আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার জন্য প্রধান বিচারপতিকে ফের চিঠি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট রিপোর্টার্স ফোরাম (এসআরএফ)।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীর কাছে চিঠিটি হস্তান্তর করা হয়।
এসআরএফের সভাপতি মো. দিদারুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ডালিম স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের বিচারিক কার্যক্রম, গুরুত্বপূর্ণ আদেশ ও রায় এবং বিচারাঙ্গনের বিভিন্ন বিষয়ে জনসাধারণকে সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য জানাতে সুপ্রিম কোর্টে কর্মরত সাংবাদিকেরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন। আদালতের ভাবমূর্তি ও মর্যাদা সমুন্নত রেখে ইতিবাচক ও তথ্যনির্ভর সংবাদ পরিবেশনে এসআরএফের সদস্যরা সবসময় সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসছেন।
চিঠিতে আরও বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে আপিল বিভাগের এজলাসে সাংবাদিকদের প্রবেশের সুযোগ নেই। ফলে আপিল বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি সরাসরি প্রত্যক্ষ করে সংবাদ সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে বিচারিক কার্যক্রম সম্পর্কে নির্ভুল ও পূর্ণাঙ্গ সংবাদ পরিবেশনে নানা সীমাবদ্ধতার মুখে পড়তে হচ্ছে সাংবাদিকদের। এ বিষয়ে এর আগেও সুপ্রিম কোর্ট রিপোর্টার্স ফোরাম প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তবে এখনো কাঙ্ক্ষিত সমাধান পাওয়া যায়নি।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সাংবাদিকেরা আদালতের কার্যক্রমে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে চান না। বরং আদালতের শৃঙ্খলা ও মর্যাদা বজায় রেখে সংবাদ সংগ্রহ করাই তাঁদের প্রত্যাশা।
বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও বিচার বিভাগের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও জনসাধারণের তথ্যপ্রাপ্তির স্বার্থে আদালতের উন্মুক্ত কার্যক্রম সম্পর্কে সংবাদ পরিবেশনের সুযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
এসআরএফ নেতারা বিশ্বাস করেন, সাংবাদিকদের এজলাসে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হলে সঠিক ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ জনগণের কাছে পৌঁছানো সহজ হবে। একই সঙ্গে বিচার বিভাগের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস আরও সুদৃঢ় হবে।
সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে চিঠিটি হস্তান্তর করেন এসআরএফের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ডালিম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফোরামের কোষাধ্যক্ষ ইমন মাহমুন, দপ্তর সম্পাদক রাব্বি হোসেন, কার্যনির্বাহী সদস্য সৈয়দা সাবরিনা মজুমদার এবং সদস্য তুলনা আফরিন, নাজমুল হুদা, জুনায়েদ আল হাবিব ও ইমদাদুল আজাদ।

