ভুক্তভোগীকে দুই কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে বললেন সুপ্রিম কোর্ট
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট। ছবি: জয়দীপ্তা দেব চৌধুরী

মালিকানা নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অর্পিত সম্পত্তি অবমুক্ত নয়: হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক : অর্পিত সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষের অনুকূলে জমি অবমুক্ত করা যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। উপযুক্ত দেওয়ানি আদালতে জমির মালিকানা নির্ধারিত হওয়ার পর যার পক্ষে মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হবে, তার অনুকূলে সম্পত্তি অবমুক্ত করতে জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সম্পত্তির দখলসংক্রান্ত বর্তমান অবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রায়ে বলা হয়েছে, জমির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণের বিষয়টি রিটের সংক্ষিপ্ত বিচারিক কার্যক্রমে নিষ্পত্তি করা সম্ভব নয়। এ জন্য উপযুক্ত দেওয়ানি আদালতে আগে মালিকানা নির্ধারণ করতে হবে।

শাহাবুদ্দিন আহমেদ বনাম রাষ্ট্র এবং অন্যান্য মামলায় এমন রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

জমির স্বত্ব ও মালিকানা নিয়ে দায়ের করা পৃথক দুটির রিট আবেদন নিষ্পত্তি করে বিচারপতি ফাতেমা নজীব এবং বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ১৯ মে এ রায় দেন।

২২ পৃষ্ঠার ওই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। আদালতের মূল রায়টি লিখেছেন বিচারপতি এ. এফ. এম সাইফুল করিম।

মামলার পটভূমি

মামলার নথি অনুযায়ী, ফরিদপুরের বিরোধপূর্ণ জমির মূল মালিকানা নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয় জামুনা চামার ও গয়া চামারের মালিকানাধীন জমি থেকে। শাহাবুদ্দিন আহমেদের দাবি অনুযায়ী, জমির একটি অংশ জামুনা চামার ১৯৭২ সালের ২৬ আগস্ট নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে অনিল কুমার দত্তের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে অনিল কুমার দত্ত ১৯৯৩ সালের ৩ মে নিবন্ধিত দানপত্রের মাধ্যমে জমি তাঁর ছেলে অলোক কুমার দত্তকে দেন। এরপর অলোক কুমার দত্ত ১৯৯৬ সালের ৮ জুলাই নিবন্ধিত বিক্রয় দলিলের মাধ্যমে বিরোধপূর্ণ জমি শাহাবুদ্দিন আহমেদের কাছে বিক্রি করেন।

শাহাবুদ্দিনের দাবি, জমি কেনার পর তিনি সেখানে স্থাপনা নির্মাণ করেন, নিজের নামে নামজারি করান এবং ভূমি উন্নয়ন কর, পৌরসভার হোল্ডিং করসহ সরকারি পাওনা পরিশোধ করে আসছিলেন। জমির মালিকানাসংক্রান্ত মূল দলিলও অলোক কুমার দত্ত তাঁর কাছে হস্তান্তর করেছিলেন বলে তিনি দাবি করেন।

অন্যদিকে, মো. জাহিদুর রহমানের দাবি, অলোক কুমার দত্ত ১৯৯৬ সালের ২৩ মে তাঁর সঙ্গে জমি বিক্রির চুক্তি করেন। পরে অলোক কুমার দত্ত জমির বিক্রয় দলিল সম্পাদন ও নিবন্ধন করে দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে ফরিদপুরের সংশ্লিষ্ট আদালতে ২০০১ সালে দেওয়ানি মামলা করেন। মামলাটির নম্বর টাইটেল স্যুট ৯/২০০১। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ২০০১ সালের ২৮ অক্টোবর মামলাটিতে ডিক্রি হয় এবং ওই ডিক্রির ভিত্তিতে ২০০৩ সালের ২৬ জানুয়ারি আদালতের মাধ্যমে নিবন্ধিত বিক্রয় দলিল সম্পাদিত হয়।

ফলে একই জমির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। শাহাবুদ্দিন ১৯৯৬ সালের নিবন্ধিত বিক্রয় দলিলের ভিত্তিতে মালিকানা দাবি করেন। জাহিদুর রহমান দাবি করেন, ১৯৯৬ সালের মে মাসে করা বিক্রয়চুক্তি এবং পরবর্তী আদালতের ডিক্রি ও ২০০৩ সালের নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে জমিতে তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

অর্পিত সম্পত্তির তালিকাভুক্তি নিয়ে বিরোধ

জমিটি অর্পিত সম্পত্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে মামলা চলে। মামলার নথিতে বলা হয়েছে, অনিল কুমার দত্ত ১৯৭৭ সালে সরকারের বিরুদ্ধে টাইটেল স্যুট ৪০/১৯৭৭ দায়ের করে জমিটিকে অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত করার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেন। ওই মামলায় ১৯৯৮ সালের ১৯ অক্টোবর তাঁর পক্ষে ডিক্রি হয়। পরে সরকার আপিল করলে সেই রায় বাতিল হয়েছিল। এরপর অনিল কুমার দত্ত হাইকোর্ট বিভাগে দেওয়ানি রিভিশন করেন। হাইকোর্ট বিভাগে তাঁর পক্ষে রায় হওয়ার পর সরকার আপিল বিভাগে লিভ টু আপিলের আবেদন করে। ২০০৩ সালের ২৯ জানুয়ারি আপিল বিভাগ সরকারের সেই আবেদন খারিজ করেন।

এই মামলার ধারাবাহিকতায় জমিটি অর্পিত সম্পত্তি নয় বলে মালিকানা প্রতিষ্ঠার দাবি ওঠে। পরবর্তী সময়ে জমিটি অর্পিত সম্পত্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়াকে কেন্দ্র করে শাহাবুদ্দিন ও জাহিদুর রহমান পৃথকভাবে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন।

শাহাবুদ্দিন আহমেদ ২০১২ সালের ২৬ জুন অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনালে ৪৫/২০১২ নম্বর মামলা দায়ের করে জমিটি তালিকা থেকে অবমুক্ত করার আবেদন করেন। অন্যদিকে, মো. জাহিদুর রহমান ২০১২ সালের ৫ আগস্ট ৫৯৮/২০১২ নম্বর মামলা দায়ের করে একই জমি অবমুক্ত করার আবেদন জানান। দুই মামলাতেই সরকার এবং অপর পক্ষের দাবি ও বক্তব্য বিবেচনায় আসে।

সরকারের বক্তব্য

ট্রাইব্যুনালে সরকার উভয় মামলায় জমির মালিকানা ও অর্পিত সম্পত্তির তালিকাভুক্তি নিয়ে আপত্তি জানায়। সরকারের বক্তব্য ছিল, মূল মালিক জামুনা চামার ও গয়া চামার ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় জমি বিক্রি বা হস্তান্তর না করেই ভারতে চলে যান এবং তাঁরা বা তাঁদের উত্তরাধিকারীরা আর বাংলাদেশে ফিরে আসেননি। এ কারণে ১৯৬৯ সালের ডিফেন্স অব পাকিস্তান অর্ডিন্যান্সের ১৮২ ধারার অধীনে জমিটি শত্রুসম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। পরে ওই অধ্যাদেশ রহিত হলে ১৯৭৪ সালের শত্রুসম্পত্তি আইনের ৩ ধারার ভিত্তিতে জমিটি সরকারের মালিকানায় ন্যস্ত হয় বলে সরকার দাবি করে।

সরকার আরও জানায়, সংশ্লিষ্ট জমি নারায়ণ চন্দ্র কর্মকার ও অন্যদের অনুকূলে ইজারা দেওয়া হয়েছিল এবং তাঁরা সরকারের পক্ষে জমিটি ভোগদখল করছিলেন। সরকারের মতে, বাদীরা মূল মালিকের বৈধ উত্তরাধিকারী বা হস্তান্তরগ্রহীতা নন; তাই জমি অবমুক্ত করার আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়।

শাহাবুদ্দিন আহমেদের আইনি যুক্তি

শাহাবুদ্দিন আহমেদের পক্ষে আইনজীবী জাকির হোসেন ভূঁইয়া হাইকোর্টে যুক্তি দেন, তাঁর মক্কেল ১৯৯৬ সালের ৮ জুলাই অলোক কুমার দত্তের কাছ থেকে নিবন্ধিত বিক্রয় দলিলের মাধ্যমে জমি কিনেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই দলিলের ভিত্তিতে শাহাবুদ্দিন জমির দখল গ্রহণ করেন, নিজের নামে নামজারি করান এবং নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন কর ও অন্যান্য সরকারি পাওনা পরিশোধ করেন।

শাহাবুদ্দিনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, ২০০১ সালের টাইটেল স্যুট ৯/২০০১ দায়েরের অনেক আগেই অলোক কুমার দত্ত জমিটি তাঁর কাছে বিক্রি করেছিলেন। অথচ জাহিদুর রহমান ওই মামলায় শাহাবুদ্দিনকে পক্ষভুক্ত করেননি। ফলে শাহাবুদ্দিনের দাবি অনুযায়ী, তাঁর স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে দেওয়া একতরফা ডিক্রি এবং সেই ডিক্রির ভিত্তিতে ২০০৩ সালে সম্পাদিত বিক্রয় দলিল আইনগতভাবে কার্যকর হতে পারে না।

তাঁর আইনজীবীর আরেকটি যুক্তি ছিল, ১৯৯৬ সালের ৮ জুলাইয়ের নিবন্ধিত বিক্রয় দলিলটি ২০০৩ সালের দলিলের আগের। তাই পরবর্তী সময়ে সম্পাদিত দলিলের ভিত্তিতে আগের ক্রেতার অধিকার নাকচ করা যায় না। জাহিদুর রহমানের দাবি করা ১৯৯৬ সালের ২৩ মে তারিখের বায়নাপত্রকে শাহাবুদ্দিনের পক্ষ থেকে জাল, পূর্বতারিখযুক্ত ও বিনিময়মূল্যবিহীন বলে দাবি করা হয়। তাঁদের বক্তব্য ছিল, ওই বায়নাপত্রের ভিত্তিতে করা মামলা ও ডিক্রি পরবর্তী সময়ে জমির ওপর অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে।

শাহাবুদ্দিনের পক্ষ আরও যুক্তি দেয়, অর্পিত সম্পত্তির তালিকাভুক্তি নিয়ে আগের মামলায় অনিল কুমার দত্তের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং সেই ধারাবাহিকতায় অলোক কুমার দত্তের কাছ থেকে বৈধভাবে জমি কেনার কারণে শাহাবুদ্দিনেরও অধিকার রয়েছে।

জাহিদুর রহমানের আইনি যুক্তি

জাহিদুর রহমানের পক্ষে আইনজীবী মো. নাসির শিকদার বলেন, অলোক কুমার দত্ত ১৯৯৬ সালের ২৩ মে তাঁর মক্কেলের সঙ্গে জমি বিক্রির বায়নাপত্র সম্পাদন করেন। কিন্তু পরে বিক্রয় দলিল নিবন্ধন করে দিতে অস্বীকৃতি জানালে জাহিদুর রহমান চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য টাইটেল স্যুট ৯/২০০১ দায়ের করেন। ওই মামলায় ডিক্রি হওয়ার পর আদালতের মাধ্যমে ২০০৩ সালের ২৬ জানুয়ারি জমির নিবন্ধিত বিক্রয় দলিল পান বলে তিনি দাবি করেন। এরপর থেকে তিনি জমির শান্তিপূর্ণ দখলে আছেন এবং নিজের নামে হোল্ডিং খুলে পৌরকর ও অন্যান্য সরকারি পাওনা পরিশোধ করছেন বলেও আদালতে বক্তব্য দেন।

আইনজীবী মো. নাসির শিকদার মক্কেল জাহিদুর রহমানের পক্ষে যুক্তি দেখান, তাঁর বায়নাপত্র শাহাবুদ্দিনের ১৯৯৬ সালের ৮ জুলাইয়ের বিক্রয় দলিলের আগের। সে কারণে পরবর্তী দলিলটি জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আপিল ট্রাইব্যুনাল যথাযথভাবে বিবেচনা করেছে যে জমিটি অর্পিত সম্পত্তি নয় এবং মূল মালিকানার বিষয়ে আগের মামলার সিদ্ধান্তও রয়েছে। তাই অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আপিল ট্রাইব্যুনালের রায়ে হস্তক্ষেপ করার প্রয়োজন নেই।

জাহিদুর রহমানের পক্ষে আইনজীবী আরও বলেন, ট্রাইব্যুনালের প্রাথমিক পর্যায়ের রায়ে দুই মামলার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। ফলে আপিল ট্রাইব্যুনাল ওই রায় বাতিল করে যে সিদ্ধান্ত দিয়েছে, তা বহাল রাখা উচিত। সরকারপক্ষের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলও রুলের বিরোধিতা করেন।

ট্রাইব্যুনাল ও আপিল ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত

মামলার নথি অনুযায়ী, উভয় পক্ষ সাক্ষী উপস্থাপন ও প্রয়োজনীয় দলিল দাখিল করে। শুনানি শেষে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনাল ২০১৮ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর শাহাবুদ্দিন আহমেদের দায়ের করা ৪৫/২০১২ নম্বর মামলা মঞ্জুর করে এবং জাহিদুর রহমানের ৫৯৮/২০১২ নম্বর মামলা খারিজ করে।

এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জাহিদুর রহমান ২০১৮ সালে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আপিল ট্রাইব্যুনালে পৃথক আপিল করেন। আপিল নম্বর ছিল ৬৩/২০১৮ ও ৬৪/২০১৮। আপিল ট্রাইব্যুনাল ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি উভয় আপিল মঞ্জুর করে এবং ট্রাইব্যুনালের আগের রায় ও ডিক্রি বাতিল করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে শাহাবুদ্দিন আহমেদ হাইকোর্টে ২০২১ সালে দুটি রিট দায়ের করেন।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

হাইকোর্ট প্রথমে উল্লেখ করেন, দুটি রিটের বিষয়বস্তু একই জমি এবং অর্পিত সম্পত্তির তালিকা থেকে জমিটি অবমুক্ত করার প্রশ্নের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই আদালত দুটি রিট একসঙ্গে শুনানি করে একটি রায়ের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করেন।

নথি পর্যালোচনা করে আদালত দেখতে পান, শাহাবুদ্দিন আহমেদ ১৯৯৬ সালের নিবন্ধিত বিক্রয় দলিলের ভিত্তিতে জমির মালিকানা দাবি করছেন। তাঁর দাবির সমর্থনে দলিলের পাশাপাশি নামজারির আদেশ, খতিয়ান, নামজারির অর্থ জমার রসিদ, ভূমি উন্নয়ন কর ও পৌরকর পরিশোধের রসিদ দাখিল করা হয়েছে। অন্যদিকে, জাহিদুর রহমান ২০০১ সালের দেওয়ানি মামলার ডিক্রি এবং সেই ডিক্রির ভিত্তিতে ২০০৩ সালে আদালতের মাধ্যমে সম্পাদিত নিবন্ধিত বিক্রয় দলিলের ওপর নির্ভর করছেন।

উচ্চ আদালত আরও লক্ষ করেন, জাহিদুর রহমানের পক্ষে ২০০১ সালের মামলায় দেওয়া ডিক্রির বৈধতা ও কার্যকারিতা নিয়ে পরবর্তী সময়ে আইনি বিরোধ তৈরি হয়েছে। ওই ডিক্রির বিরুদ্ধে শাহাবুদ্দিন আহমেদ ২০২১ সালের ২৫ আগস্ট ফরিদপুরের জেলা জজ আদালতে টাইটেল আপিল ৯৩/২০২১ দায়ের করেন। বিলম্ব মার্জনা করে আপিলটি শুনানির জন্য গ্রহণ করা হলেও এ নিয়ে পরবর্তী সময়ে জাহিদুর রহমান দেওয়ানি রিভিশন দায়ের করেন। হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়, ২০২৪ সালের দেওয়ানি রিভিশন ৬৭৩/২০২৪ এখনো বিচারাধীন রয়েছে।

আরও পড়ুন : উত্তরাধিকার সনদ পরে বাতিল হলেও আগের সনদের ভিত্তিতে শেয়ার হস্তান্তর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল নয়: হাইকোর্ট

অর্থাৎ, ২০০১ সালের মামলার ডিক্রির ভিত্তিতে জাহিদুর রহমানের মালিকানা প্রতিষ্ঠার প্রশ্নটি এখনো চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়নি। একই সঙ্গে শাহাবুদ্দিনের ১৯৯৬ সালের বিক্রয় দলিলের সত্যতা নিয়েও জাহিদুর রহমান আপত্তি তুলেছেন। হাইকোর্ট মনে করেন, এসব বিতর্কিত বিষয় নির্ধারণ করতে দলিলের সত্যতা, মালিকানার ধারাবাহিকতা এবং সংশ্লিষ্ট দেওয়ানি মামলার ফলাফল বিবেচনা করা প্রয়োজন।

আদালত বলেন, দুই পক্ষই অলোক কুমার দত্তের কাছ থেকে মালিকানা পাওয়ার দাবি করছেন। একজন ১৯৯৬ সালের নিবন্ধিত বিক্রয় দলিলের ওপর নির্ভর করছেন, অন্যজন ১৯৯৬ সালের বায়নাপত্রের ভিত্তিতে দায়ের করা মামলার ডিক্রি ও ২০০৩ সালের আদালতের মাধ্যমে সম্পাদিত দলিলের ওপর নির্ভর করছেন। ফলে বিরোধটি কেবল জমিটি অর্পিত সম্পত্তির তালিকায় থাকবে কি না, সেই প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই; জমির প্রকৃত মালিক কে, সেটিও নির্ধারণ করা জরুরি।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, রিটের সংক্ষিপ্ত বিচারিক প্রক্রিয়ায় দুই পক্ষের দলিলের সত্যতা ও মালিকানার বিরোধ নিষ্পত্তি করা সম্ভব নয়। এ ধরনের বিরোধ নির্ধারণের জন্য উপযুক্ত দেওয়ানি আদালতের বিচার প্রয়োজন। আদালত আরও উল্লেখ করেন, ২০০১ সালের ডিক্রির পরিণতি এবং ১৯৯৬ সালের বিক্রয় দলিলের সত্যতা নির্ধারিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষের মালিকানার দাবি চূড়ান্ত বলে ধরে নিয়ে জমি অবমুক্ত করা সমীচীন হবে না।

হাইকোর্টের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

সব দিক বিবেচনায় হাইকোর্ট সিদ্ধান্ত দেন, বিরোধপূর্ণ জমির মালিকানা প্রথমে উপযুক্ত দেওয়ানি আদালতের মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে। মালিকানা নির্ধারণের আগে শাহাবুদ্দিন আহমেদ বা মো. জাহিদুর রহমান—কারও অনুকূলে জমিটি অর্পিত সম্পত্তির তালিকা থেকে অবমুক্ত করা যাবে না।

রায়ে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, টাইটেল স্যুট ৯/২০০১-এর ডিক্রিকে কেন্দ্র করে শাহাবুদ্দিন আহমেদ ও জাহিদুর রহমানের মধ্যে চলমান আইনি বিরোধে যে পক্ষের মালিকানা নির্ধারিত হবে, সেই পক্ষের অনুকূলে জমিটি অবমুক্ত করতে হবে।

এ ছাড়া জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সম্পত্তি অবমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে জমির দখলসংক্রান্ত বর্তমান অবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রায়ে ব্যয়ের বিষয়ে কোনো আদেশ দেওয়া হয়নি। এ নির্দেশনার মাধ্যমে দুটি রিটের রুল নিষ্পত্তি করা হয়েছে।