ঢাকা, ২৪ ভাদ্র (৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫): গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে আলোচিত সাইবার হ্যাকার চক্রের প্রধান আসামি পলাশ রানাকে শিশু দেখিয়ে ভুয়া জন্মনিবন্ধনের মাধ্যমে জামিন আদায়ের ঘটনায় জড়িত থাকা গাইবান্ধা জেলা এ্যাডভোকেট বার এসোসিয়েশনের সদস্য অ্যাডভোকেট মো. শেফাউল ইসলাম (রিপন)-এর সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
গত ৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত জেলা বার এসোসিয়েশন গাইবান্ধার এডহক কমিটির সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের আলোকে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
বারের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল (২) থেকে অ্যাডভোকেট রিপনের বিরুদ্ধে অবগতকরণ পত্র এবং এজাহার দায়েরের নির্দেশ পাওয়া যায়।
পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে অপেশাদার আচরণ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনিয়ম এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গ করার অভিযোগও উঠে এসেছে।
এছাড়া, দায়রা জজ আদালত থেকে তার বিরুদ্ধে তদন্ত পরিচালনার নির্দেশও জেলা বার এসোসিয়েশন পেয়েছে।
এসব বিবেচনায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া বা দায়মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত তার সদস্যপদ স্থগিত থাকবে।
একইসঙ্গে তার অনুকূলে প্রদত্ত আর্থিক সুবিধা বন্ধ থাকবে এবং গাইবান্ধা জেলার সব আদালত ও ট্রাইব্যুনালে পেশাগত কার্যক্রম পরিচালনা থেকে বিরত থাকার সাংগঠনিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ সিদ্ধান্ত এডহক কমিটির উপস্থিত সদস্যদের সর্বসম্মত মতামতের ভিত্তিতে গৃহীত হয় এবং তা অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে।
অনুলিপি জ্ঞাতার্থে গাইবান্ধার জেলা ও দায়রা জজ আদালত, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ ও ২, চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (গোবিন্দগঞ্জ), জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়ুন : শিশু দেখিয়ে দুই সন্তানের বাবাকে জামিন: আইনজীবীর বিরুদ্ধে মামলা
প্রসঙ্গত, সরকারি ভাতা হ্যাক করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চলতি বছরের গত ১৫ জুলাই গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তালুককানুপুর গ্রাম থেকে পলাশ রানা (২৫), তার সহযোগী সুমন মিয়া, সাইদুল ইসলাম ও আবু সাইদ লিটনকে যৌথবাহিনী আটক করে।
তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ মোবাইল সিম, মোবাইল ফোন ও প্রযুক্তি সরঞ্জাম উদ্ধার হয়। পরবর্তীতে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
প্রথমে ২০ জুলাই আমলী আদালত আসামিদের জামিন নামঞ্জুর করেন। পরে ২৭ জুলাই জেলা দায়রা জজ আদালতে জামিনের আবেদন করেন আইনজীবী শেফাউল ইসলাম রিপন।
তবে তথ্য গোপন রেখে তিনি ৩ আগস্ট জেলা শিশু আদালতে ভুয়া জন্মনিবন্ধন সনদ দিয়ে পলাশ রানার বয়স ১৭ বছর ৭ মাস দেখিয়ে জামিন আবেদন করেন এবং আদালত তা মঞ্জুর করে।
পরবর্তীতে ১২ আগস্ট জেলা দায়রা জজ আদালতে আইনজীবী সরওয়ার হোসেন বাবুল এ জালিয়াতির তথ্য প্রকাশ করলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় ভুয়া জন্মনিবন্ধনের মাধ্যমে জামিন আদায়ের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আইনজীবী শেফাউল ইসলাম রিপনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। গত ২ সেপ্টেম্বর) রাতে মামলাটি দায়ের করেন গাইবান্ধা জেলা শিশু আদালতের পেশকার সালাহউদ্দিন।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে পেশকার সালাহউদ্দিন বলেন, “আদালতের নির্দেশে বাদী হয়ে থানায় এজাহার জমা দিয়েছি।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আইনজীবী শেফাউল ইসলাম রিপন বলেন, “আমার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ মিথ্যা। মামলা হলে আদালতে মোকাবিলা করা হবে।”

