সুপ্রিম কোর্ট রিপোর্টার্স ফোরামের আত্মপ্রকাশ
সুপ্রিম কোর্ট রিপোর্টার্স ফোরাম

সুপ্রিম কোর্টের এজলাসে প্রবেশে বাধা: মুখে কালো কাপড় বেঁধে সাংবাদিকদের প্রতিবাদ

মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে সুপ্রিম কোর্টের এজলাস কক্ষে সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে মুখে কালো কাপড় বেঁধে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন সুপ্রিম কোর্ট বিটে কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীরা। মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে সংবাদ সংগ্রহের ওপর আরোপিত এই মৌখিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে অবাধ তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

রোববার (৩ মে) দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের সামনে ‘সুপ্রিম কোর্ট রিপোর্টার্স ফোরাম’ (এসআরএফ)-এর ব্যানারে এই মানবন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে সুপ্রিম কোর্টে কর্মরত শতাধিক সংবাদকর্মী অংশ নেন।

মানববন্ধনে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, গত চার মাস ধরে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এজলাস এবং হাইকোর্ট বিভাগের বিভিন্ন বেঞ্চে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। তারা বলেন, “আদালত কক্ষ হচ্ছে একটি পাবলিক প্লেস, যেখানে বিচার কার্যক্রম সর্বসাধারণের পর্যবেক্ষণের জন্য উন্মুক্ত থাকে। তাই আদালতের সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়া কেবল পেশাগত প্রতিবন্ধকতা নয়, বরং এটি সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ প্রদত্ত মতপ্রকাশ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।”

সাংবাদিক নেতারা আরও অভিযোগ করেন, যুগের পর যুগ ধরে গণমাধ্যমকর্মীরা আপিল বিভাগের এজলাস কক্ষে অবাধ প্রবেশের মাধ্যমে সংবাদ সংগ্রহ করে আসছিলেন। কিন্তু প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এজলাস কক্ষগুলোতে সাংবাদিকদের প্রবেশে ‘মৌখিক নিষেধাজ্ঞা’ জারি করা হয়েছে। স্বচ্ছ বিচারব্যবস্থা নিশ্চিত করতে আদালতসহ সকল পাবলিক প্লেসে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার বজায় রাখা প্রশাসনের সাংবিধানিক দায়িত্ব বলে তারা উল্লেখ করেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্ট রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি মাসউদুর রহমান রানা, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ডালিম এবং চ্যানেল আইয়ের বিশেষ প্রতিনিধি মাজহারুল হক মান্না

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এসআরএফ-এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী, বর্তমান কোষাধ্যক্ষ কামরুল ইসলাম ফকির, দপ্তর সম্পাদক মাঈনুল আহসান, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য দিদারুল আলম, সৈয়দা সাবরিনা মজুমদারসহ আরও অনেকে।

সংহতি জানিয়ে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, সুপ্রিম কোর্ট হচ্ছে ন্যায়বিচারের শেষ আশ্রয়স্থল। সেখানে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থার ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করে। তারা দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চেয়ে প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ কামনা করেন।