চট্টগ্রাম ব্যুরো | হাজতখানায় বিচারাধীন বা বন্দি থাকা আসামিদের সুনির্দিষ্ট অনুমতি ও সম্মতি ছাড়া জোরপূর্বক বা বেআইনিভাবে ওকালতনামা সই করানোর অপচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি।
আসামির অজান্তে বা তার সম্মতি ছাড়াই ওকালতনামা পাঠিয়ে মামলা পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার এক অনভিপ্রেত প্রবণতা রুখতে গতকাল ৮ জুন (সোমবার) চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মঈনুদ্দীন স্বাক্ষরিত এক জরুরি সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে এই ধরনের আচরণকে আইনজীবী সমাজের ভাবমূর্তি বিনষ্টকারী ও পেশাগত আচরণবিধির চরম পরিপন্থী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি আদালতের হাজতখানায় (কোর্ট লক-আপ) বন্দি থাকা আসামিদের সুনির্দিষ্ট অনুমতি ও পূর্ব সম্মতি ছাড়াই কিছু আইনজীবী ওকালতনামা (Vakalatnama) পাঠাচ্ছেন, যা সম্পূর্ণ অনৈতিক।
বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে—
-
আসামির অনুমতি বা সম্মতি ব্যতিত তার পক্ষে জোরপূর্বক মামলা পরিচালনার জন্য ওকালতনামা প্রদান করা বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের মূল আচরণবিধি এবং চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নিজস্ব গঠনতন্ত্রের পরিপন্থী।
-
এরূপ অনভিপ্রেত ও অন্যায্য কর্মকাণ্ডের কারণে একদিকে যেমন বিজ্ঞ আইনজীবীদের পেশাগত ভাবমূর্তি চরমভাবে বিনষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে প্রকৃত বিচারপ্রার্থীদের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়ে আদালতে নানামুখী আইনি জটিলতা ও পেশাগত সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মঈনুদ্দীন চট্টগ্রামের আদালত পাড়ার সংশ্লিষ্ট সকল আইনজীবীকে এই ধরনের শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড থেকে অনতিবিলম্বে বিরত থাকার জোর অনুরোধ জানিয়েছেন।
বিজ্ঞপ্তির শেষাংশে তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন—
উক্তরূপ কর্মকান্ড থেকে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞ আইনজীবীগণকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে। অন্যথায় সমিতি বিধি মোতাবেক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে বাধ্য হবে।
চট্টগ্রামের বারের আইনজীবীরা সমিতির এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, অনেক সময় মক্কেল বা আসামির পরিবারের সাথে যোগাযোগ না করেই হাজতখানায় সই নেওয়ার এক ধরনের সস্তা প্রতিযোগিতা দেখা যায়, যা আইন পেশার গাম্ভীর্যের সাথে যায় না। চট্টগ্রাম জেলা বারের এই অন-স্পট কঠোর অবস্থান আদালত পাড়ার শৃঙ্খলা রক্ষা এবং মক্কেলদের আইনগত অধিকার সুরক্ষায় অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

