কোর্ট রিপোর্টার, ঢাকা | দেশের অসচ্ছল ও সুবিধাবঞ্চিত বিচারপ্রার্থীদের সরকারি খরচে আইনি সহায়তা কার্যক্রম আরও বেগবান ও শক্তিশালী করতে বিচার বিভাগে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসে রাজস্ব খাতে স্থায়ীভাবে ৮২টি নতুন লিগ্যাল এইড (আইনগত সহায়তা) পদ সৃজন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসে লিগ্যাল এইড কার্যক্রমের কাঠামোগত আমূল পরিবর্তন ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সম্প্রতি এই প্রজ্ঞাপন জারি করেছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ।
বিচারিক পদ সৃজন কমিটির সুনির্দিষ্ট সুপারিশ এবং মহামান্য রাষ্ট্রপতির সদয় অনুমোদনক্রমে দেশের বিচার ব্যবস্থার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এই নতুন পদগুলো স্থায়ীভাবে রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
নতুন সৃষ্ট পদসমূহের গ্রেড ও বিন্যাস
আইন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সৃজিত ৮২টি পদের বিন্যাস নিচে ক্রমান্বয়ে তুলে ধরা হলো:
জাতীয় বেতন স্কেলের গ্রেড-৩ এর অধীনে সর্বমোট ৭২টি ‘চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার’ পদের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই পদগুলোর মধ্যে দেশের ৬৪টি জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের জন্য ৬৪টি পদ এবং ঢাকা, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা ও বরিশাল মহানগর লিগ্যাল এইড অফিসের জন্য ৮টি পদ সুনির্দিষ্টভাবে বরাদ্দ থাকবে।
এর বাইরেও সুপ্রিম কোর্টের লিগ্যাল এইড কার্যক্রম গতিশীল করতে গ্রেড-৩ এর আওতায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের জন্য আরও ২টি ‘লিগ্যাল এইড অফিসার (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ)’ পদ সৃজন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, মাঠপর্যায়ে মহানগরগুলোতে আইনি সহায়তার পরিধি বাড়াতে গ্রেড-৪ এর অধীনে ৮টি ‘লিগ্যাল এইড অফিসার (সিনিয়র সহকারী জজ)’ পদ সৃজন করা হয়েছে। নতুন সৃষ্ট এই ৮টি পদ দেশের ৮টি বিভাগীয় মহানগর লিগ্যাল এইড অফিসে কর্মরত থাকবেন।
সুপ্রিম কোর্টের লিগ্যাল এইড অফিসারের পদের নাম পরিবর্তন ও বাজেট
প্রজ্ঞাপনে নতুন পদ সৃষ্টির পাশাপাশি একটি বিদ্যমান পদের নাম পরিবর্তনের বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। পূর্বে সৃজিত ‘সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসার (অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ)’ পদের নামটির আংশিক পরিবর্তন করে এখন থেকে ‘চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার (অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ), সুপ্রিম কোর্ট’ করা হয়েছে। তবে পদের নাম পরিবর্তিত হলেও এর পূর্বনির্ধারিত বেতন স্কেলে কোনো ধরনের পরিবর্তন আনা হয়নি।
নতুন এই বিশাল বিচারিক কাঠামোর আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নতুন সৃষ্ট মোট ৮২টি পদের বিপরীতে বেতন-ভাতাসহ যাবতীয় প্রয়োজনীয় ব্যয়ভার আইন ও বিচার বিভাগের আওতাধীন বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের নিজস্ব বরাদ্দকৃত সরকারি বাজেট থেকেই নিয়মিত বহন করা হবে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে সরকারি খরচে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা বা লিগ্যাল এইড অফিসগুলো এতদিন মূলত অতিরিক্ত বা ডেপুটেশনাল দায়িত্বে পরিচালিত হতো। এখন রাজস্ব খাতে স্থায়ীভাবে চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার ও যুগ্ম জেলা জজ মর্যাদার স্থায়ী বিচারিক পদ তৈরি হওয়ার ফলে দেশের প্রান্তিক ও দরিদ্র মানুষ অনেক দ্রুত আইনি প্রতিকার পাবেন এবং এর মাধ্যমে জুডিসিয়ারির জবাবদিহিতাও নিশ্চিত হবে।

