দেশের আদালতগুলোতে ক্রমবর্ধমান মামলার জট কমাতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ‘মধ্যস্থতা’ বা মেডিয়েশন কার্যক্রম জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া সফল হলে নতুন মামলা দায়েরের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যহারে হ্রাস পাবে।
শনিবার (২ মে) রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার অডিটোরিয়ামে ‘ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমে প্রক্রিয়াগত প্রতিবন্ধকতা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহর সভাপতিত্বে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
বিচারকদের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, “ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় জুডিশিয়াল অ্যাকটিভিজম (বিচারিক সক্রিয়তা) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। মামলা দীর্ঘায়িত করার প্রবণতা রোধে বিচারকদের আরও সক্রিয় হতে হবে।” পাশাপাশি আইনজীবীদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে নিয়মিত প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
আইন প্রণয়ন ও সংশোধনের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, “আইন কেবল আবেগের বশবর্তী হয়ে নয়, বরং গবেষণা ও বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে হওয়া উচিত। আমাদের দেশের সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনা করেই কার্যকর আইন প্রণয়ন সম্ভব।”
আরও পড়ুন : অধস্তন আদালত মনিটরিংয়ে দায়িত্ব পেলেন ১৩ বিচারপতি
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে মন্ত্রী নিশ্চিত করেন যে, বিচারকদের আইনসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সরকার প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ও সহায়তা দেবে। তবে তিনি বিচার ব্যবস্থায় বিদ্যমান আমলাতান্ত্রিক ও ছোট ছোট প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার বিষয়গুলো তুলে ধরে বলেন, “প্রশাসনিক জটিলতার কারণে অনেক সময় বিচারকাজ দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হয় না। এসব সমস্যা সমাধানে বিচারকদের ক্ষমতায়ন এবং দ্রুত প্রশাসনিক সংস্কার প্রয়োজন।”
সেমিনারে মন্ত্রী দেশের বিচার ব্যবস্থার একটি উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেন:
-
বর্তমানে দেশে ৪০ লাখের অধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
-
এর মধ্যে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অধীনেই রয়েছে প্রায় ৩ লাখ মামলা।
-
সীমিত বিচারক নিয়ে এই বিশাল মামলার পাহাড় মোকাবিলা করা বড় চ্যালেঞ্জ।
এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিচার বিভাগের সক্ষমতা বাড়াতে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর দেন আইনমন্ত্রী।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ উম্মে কুলসুম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল হোসেন। অনুষ্ঠানে বিচার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইনজীবী, বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

