সশস্ত্র সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) জন্য তৈরি ২০ হাজার পোশাক জব্দের মামলার প্রধান আসামি সাহেদুল ইসলামের জামিন জালিয়াতির ঘটনায় হাইকোর্টের এক বেঞ্চ অফিসারকে বরখাস্ত করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ওই কর্মকর্তার নাম জাকির হোসেন। তাকে বরখাস্তের পাশাপাশি কেন তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।
গত ২৯ এপ্রিল এই ভয়াবহ জালিয়াতির তথ্য প্রধান বিচারপতির নজরে আনেন অ্যাটর্নি জেনারেল। বিষয়টি শোনার পর প্রধান বিচারপতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং পুরো ঘটনা তদন্তে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেন। সেই তদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রায় সাত মাস আগে চট্টগ্রামের ‘রিংভো অ্যাপারেলস’-এর মালিক সাহেদুল ইসলাম হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেন। ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি আব্দুল্লাহ ইউসুফ সুমনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে আবেদনটি শুনানির জন্য আসে।
আরও পড়ুন : সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগে ভার্চুয়াল আদালত স্থগিত: প্রধান বিচারপতির নতুন নির্দেশনা
শুনানির সময় সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি মামলার এজাহার ও তথ্য উপস্থাপন করে আদালতকে বিভ্রান্ত করা হয়, যেখানে ‘কুকি-চিন’ সংশ্লিষ্ট কোনো অভিযোগ ছিল না। আদালতের সরল বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে জামিন পাওয়ার পর মূল জালিয়াতিটি করা হয় লিখিত আদেশে। আদেশের প্রথম পৃষ্ঠায় থাকা মামলার তথ্য, থানার নাম ও অভিযোগের ধারা পরিবর্তন করে সেখানে কুকি-চিনের পোশাক জব্দের মামলার নম্বর ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ধারা বসানো হয়। এই ভুয়া আদেশ দাখিলের মাধ্যমেই কারা কর্তৃপক্ষ থেকে মুক্তি পান সাহেদুল।
ঘটনাটি সম্প্রতি প্রকাশ পায় যখন একই মামলার আরেক আসামি উচ্চ আদালতে জামিন চাইতে গিয়ে পূর্বের এই ভুয়া জামিন আদেশকে নজির (Precedent) হিসেবে উপস্থাপন করেন। তখনই নথিতে বড় ধরনের অসঙ্গতি ধরা পড়ে এবং বিষয়টি প্রধান বিচারপতির কান পর্যন্ত পৌঁছায়।
২০২৫ সালের ১৭ মে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামি এলাকায় ‘রিংভো অ্যাপারেলস’-এর গুদাম থেকে কেএনএফ-এর জন্য তৈরি ২০ হাজার ৩০০টি পোশাক জব্দ করা হয়। গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, প্রায় দুই কোটি টাকার বিনিময়ে এসব পোশাকের ক্রয়াদেশ দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হলে সাহেদুল ইসলামসহ গোলাম আজম (৪১) ও নিয়াজ হায়দারকে (৩৯) আসামি করা হয়।
আদালত প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হাইকোর্ট বিভাগের কোনো বেঞ্চ কর্মকর্তা বা ফৌজদারি শাখার কর্মচারীর গভীর যোগসাজশ ছাড়া এত বড় জালিয়াতি সম্ভব নয়। তাই এই চক্রের সাথে জড়িত অন্যান্য কর্মচারীদের চিহ্নিত করতে তদন্তের পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে।

