দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগের পর এবার হাইকোর্ট বিভাগেও ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগে সপ্তাহের প্রতি বুধ ও বৃহস্পতিবার ভার্চুয়ালি আদালত পরিচালনার যে নিয়ম চালু ছিল, তার অবসান ঘটলো।
রোববার (৩ মে) বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির আদেশক্রমে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন এ সংক্রান্ত পৃথক দুটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।
হাইকোর্ট ও আপীল বিভাগের সমন্বিত স্থগিতাদেশ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ নূরুল আমীন বিপ্লব জানান, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের (চেম্বার জজ আদালতসহ) সপ্তাহের প্রতি বুধবার ও বৃহস্পতিবার ভার্চুয়াল কোর্টের (Virtual Court) কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হলো। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
এর আগে দুপুরে আপীল বিভাগের রেজিস্ট্রার আশিকুল খবির স্বাক্ষরিত পৃথক এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল যে, আপীল বিভাগ ও চেম্বার আদালতের বুধ ও বৃহস্পতিবারের ভার্চুয়াল কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। বিকেলের নতুন বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এটি এখন সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের জন্যই কার্যকর হলো।
উল্লেখ্য, গত ২০ এপ্রিল বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সপ্তাহে দু’দিন (বুধ ও বৃহস্পতিবার) ভার্চুয়াল কোর্ট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। তৎকালীন রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, ২২ এপ্রিল থেকে এই ভার্চুয়াল কার্যক্রম কার্যকর হবে। তবে মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে পুনরায় সশরীরে (ফিজিক্যাল) আদালত পরিচালনার দিকে ফিরল সুপ্রিম কোর্ট।
উল্লেখ্য, ওই বিজ্ঞপ্তি জারি করার পর আইনজীবীরা এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
ভার্চুয়াল আদালত স্থগিতের এই আদেশের অনুলিপি অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন এবং আইন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এখন থেকে সপ্তাহের সকল কার্যদিবসেই সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগে সশরীরে উপস্থিতির মাধ্যমে বিচারকাজ পরিচালিত হবে।

