দেশে চলমান জ্বালানি সংকট নিরসনে জ্বালানি তেল মজুদদারি ও কালোবাজারিদের বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের অধীনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং রাষ্ট্রের বকেয়া ৩৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ে জরুরি পদক্ষেপ নিতে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
রোববার (২৯ মার্চ ) মানবাধিকার সংগঠন ‘ল এন্ড লাইফ ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট’-এর পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব ও ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাওছার এ নোটিশ প্রেরণ করেন।
ইমেইল ও ডাকযোগে পাঠানো এই নোটিশটি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়, সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দেশে তীব্র জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে অসাধু ব্যবসায়ী, মজুদদার ও কালোবাজারিরা। বিভিন্ন অভিযানে বন্ধ পাম্প থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল উদ্ধার হওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে যে, অবৈধ মজুদদারি ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। তবে বিদ্যমান আইন থাকা সত্ত্বেও কঠোর প্রয়োগ না থাকায় এই অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।
আরও পড়ুন : বিচার বিভাগের ওপর শ্বেতপত্র প্রকাশ: দলীয় দুর্বৃত্তায়নকে ‘মূল শত্রু’ বলছে বাংলাদেশ ল অ্যালায়েন্স
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নামমাত্র জরিমানা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে না। ব্যক্তি পর্যায়েও জ্বালানি মজুদদারি শুরু হয়েছে, যা উদ্বেগজনক। ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫ ধারায় এসব অপরাধের জন্য সর্বনিম্ন ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এমনকি মৃত্যুদণ্ডের বিধান থাকলেও এর যথাযথ প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে না।
আইনি নোটিশে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন এবং পেট্রোবাংলার বিরুদ্ধে বিগত বছরগুলোতে জ্বালানি আমদানির বিপরীতে রাষ্ট্রের প্রাপ্য প্রায় ৩৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পরিশোধ না করার অভিযোগ আনা হয়েছে। এই বকেয়া রাজস্ব দ্রুত আদায়ের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এছাড়া জ্বালানি তেল আমদানি ও সরবরাহে রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলোর একক নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিকেও জনস্বার্থবিরোধী ও সংবিধান পরিপন্থী বলা হয়েছে। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো বাজারে শেয়ার বিক্রি করে মুনাফা অর্জন ও লভ্যাংশ ঘোষণা করলেও রাষ্ট্রের পাওনা রাজস্ব পরিশোধে ব্যর্থ হচ্ছে, যা আর্থিক অনিয়ম ও বৈষম্যের শামিল।
বর্তমান সংকট থেকে প্রতীয়মান হয় যে, একক নিয়ন্ত্রণ থাকা সত্ত্বেও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তাই অন্যান্য দেশের মতো জ্বালানি আমদানি ও সরবরাহ খাত বেসরকারি খাতে উন্মুক্ত করলে বিকল্প ব্যবস্থা সৃষ্টি হবে এবং সংকট মোকাবিলা সহজতর হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
সবশেষে, জ্বালানি খাতে একচেটিয়া ব্যবসা বন্ধ, কালোবাজারি দমন, বকেয়া রাজস্ব আদায় এবং জ্বালানি আমদানি ব্যবস্থার সংস্কারসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। নোটিশ প্রাপ্তির ১৫ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে জনস্বার্থে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

