বিপ্লব চন্দ্র দাস, আমতলী (বরগুনা) | বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলায় অবৈধভাবে জমি দখল করার অপরাধে খাদিজা বেগম নামে এক নারীকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত। একই সঙ্গে বেদখল হওয়া জমি থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে প্রকৃত মালিককে জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আমতলী উপজেলার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইফতি হাসান ইমরান গতকাল রোববার (১১ মে) বিকেলে সরেজমিনে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে এই সংক্ষিপ্ত বিচার বা সামারি ট্রায়াল সম্পন্ন করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, আমতলী উপজেলার আড়পাঙ্গাশিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. ইব্রাহিম দেওয়ান তাঁর জমি অবৈধভাবে দখল করে ঘর তোলার অভিযোগ এনে গত ১৬ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে আদালতে একটি মামলা (সিআর ১৫২০/২৫) দায়ের করেন।
তিনি ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের আওতায় তাঁর জমি উদ্ধারের দাবি জানান। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলেই সংক্ষিপ্ত বিচারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
রোববার বিকেল ৫:৩০টা থেকে সন্ধ্যা ৭:০০টা পর্যন্ত আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইফতি হাসান ইমরান আড়পাঙ্গাশিয়া গ্রামে সংশ্লিষ্ট বিরোধপূর্ণ জমিতে অবস্থান করেন। সেখানে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে তাঁদের মৌখিক ও দালিলিক সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শনে অপরাধটি প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাৎক্ষণিকভাবে রায় ঘোষণা করেন।
ম্যাজিস্ট্রেট ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৩-এর ৭ ধারায় আসামি খাদিজা বেগমকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। একই সঙ্গে উক্ত আইনের ২০ ধারা এবং ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮-এর ৫২২ ধারা মোতাবেক বিরোধপূর্ণ জমির ওপর নির্মিত অবৈধ ঘর ও স্থাপনা অপসারণ করে অভিযোগকারী ইব্রাহিম দেওয়ানকে জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. আবু বকর সিদ্দিক এই অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আদালতের এই সাহসী ও দ্রুত পদক্ষেপের ফলে দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত বিরোধের তাৎক্ষণিক নিষ্পত্তি সম্ভব হয়েছে। বিচারকের নিজে মাঠ পর্যায়ে গিয়ে সাধারণ মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার এই ঘটনা এলাকায় ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে এবং ভূমি দস্যুদের জন্য একটি কঠোর বার্তা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

