প্রতি মাসের ৭ তারিখের মধ্যে অধস্তন আদালতের বিচারকদের মাসিক কর্মসম্পাদন বিবরণী অনলাইনে পূরণের নির্দেশ
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট লোগো

আদেশ অমান্য ও বিদ্রোহ উসকে দেওয়ার অভিযোগ: সুপ্রিম কোর্টের ৪ কর্মচারী বরখাস্ত

সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান না করা এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় শৃঙ্খলা পরিপন্থি বক্তব্য দিয়ে বিদ্রোহ উসকে দেওয়ার অভিযোগে চারজন কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) এই আদেশ কার্যকর করা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

বরখাস্তকৃত কর্মচারীরা হলেন— মো. আসাদুজ্জামান, মো. মিরাজ, মো. মেহেদী হাসান ও মোসা. রক্ষুন নিশা। তারা সবাই এম.এল.এস.এস পদে কর্মরত ছিলেন।

সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ এপ্রিল এই চার কর্মচারীকে হাইকোর্টের চার বিচারপতির বাসভবনে বদলি করা হয়। দুইদিনের মধ্যে বদলিকৃত কর্মস্থলে তাদের যোগদান করতে বলা হয়। কিন্তু এই চারজন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান করতে অস্বীকৃতি জানান।

ঘটনার এখানেই শেষ নয়, গত ৩ মে তারা সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে একটি মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন এবং সেখানে প্রকাশ্যে জানান যে তারা বিচারপতিদের বাসায় কাজ করবেন না। ওই দিনই কর্তৃপক্ষের কোনো প্রকার পূর্ব অনুমতি ছাড়াই তারা ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় অফিস শৃঙ্খলা বিরোধী বক্তব্য প্রদান করেন।

পরদিন ৪ মে তারা পুনরায় সুপ্রিম কোর্টের এ্যানেক্স ভবনের সামনে একটি সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত হন। সেখানে তারা বিচারপতিদের বাসায় বদলি সংক্রান্ত প্রশাসনের আদেশকে ‘অবৈধ’ বলে উল্লেখ করেন। এছাড়াও তারা বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অন্যান্য কর্মচারীদের স্বাভাবিক দায়িত্ব পালনে বাধা প্রদান করেন এবং সহকর্মীদের মধ্যে বিদ্রোহের মনোভাব তৈরি করার চেষ্টা চালিয়ে যান।

এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরাসরি অফিস শৃঙ্খলা পরিপন্থি হওয়ায় এবং দাপ্তরিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয় বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

এদিকে, আরিব শেখ নামে এক পরিচ্ছন্নতাকর্মীকেও সাময়িক বরখাস্ত করেছে প্রশাসন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি প্রশাসনিক ভবন-২ এর নিচতলায় কোর্ট কিপিং শাখার কম্পিউটর রুম থেকে ইউপিএস চুরির চেষ্টা করেছিলেন। এ ছাড়াও সুপ্রিম কোর্টের লোগোযুক্ত সাদা রঙের ৭টি বান্ডিল—যেখানে মোট ১৪০০টি ফাইল কাভার ছিল, তা চুরি করে আনন্দবাজারের একটি দোকানে বিক্রি করার সুনির্দিষ্ট অপরাধে তাকে বরখাস্ত করা হয়।