খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এজলাস চলাকালীন বিচারকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনজীবীকে সতর্ক করে কারণ দর্শানোর (শোকজ) দায় হতে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত আইনজীবী নিজের ভুলের জন্য অনুতপ্ত হয়ে আদালতের নিকট নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করায় আদালত এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
আদালত ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ এপ্রিল দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. ফরিদুজ্জামানের এজলাসে লবণচরা থানার একটি মামলার জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মামলার নথি পেতে দেরি হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে বিএনপিপন্থী আইনজীবী আবুল হোসেন হাওলাদার বিচারকের সঙ্গে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ও অবমাননাকর আচরণ করেন।
একপর্যায়ে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, বিচারক অপমানিত বোধ করে এজলাস ত্যাগ করেন। এর ফলে আদালতের বিচারিক কার্যক্রম প্রায় দুই ঘণ্টা বন্ধ থাকে, যা সাধারণ বিচারপ্রার্থীদের চরম ভোগান্তিতে ফেলে।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রেক্ষিতে বিচারক মো. ফরিদুজ্জামান আদালত অবমাননার দায়ে আইনজীবী আবুল হোসেন হাওলাদারকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন। গত ২৮ এপ্রিল আইনজীবী তার লিখিত জবাবে উল্লেখ করেন, “মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনো ভুলত্রুটি হলে তাহা ক্ষমার যোগ্য।” একই সঙ্গে তিনি প্রকাশ্য আদালতে নিজের আচরণের জন্য অনুতপ্ত হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
গত ৩০ এপ্রিল জারিকৃত এক আদেশে বিচারক মো. ফরিদুজ্জামান উল্লেখ করেন, বার এবং বেঞ্চের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখার দায়িত্ব আইনজীবী ও আদালত উভয়েরই। বিচার বিভাগের আয়না হলো আইনজীবী সমাজ। আইনজীবী আবুল হোসেন হাওলাদার একজন বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্য হওয়ায় আদালত তার নিকট থেকে পেশাদারিত্ব প্রত্যাশা করে।
আদেশে আরও বলা হয়, ভবিষ্যতে আদালতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয় এমন কোনো আচরণ থেকে বিরত থাকার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করে আইনজীবীকে কারণ দর্শানোর দায় হতে অব্যাহতি প্রদান করা হলো।
ঘটনার পর খুলনা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মোল্লা মাসুম রশিদ এবং সাধারণ সম্পাদক মো. মশিউর রহমান নান্নুসহ অন্য নেতারা বিচারকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাঁরা বিষয়টিকে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেন। সমিতির নেতাদের কার্যকর মধ্যস্থতায় এবং আইনজীবীর নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার মাধ্যমেই এই তিক্ত ঘটনার সমাপ্তি ঘটল।

