কক্সবাজার আদালতে ভিন্নজনের নামে প্রক্সি দিয়ে জামিন নিতে এসে ধরা পড়েছেন মোহাম্মদ শাহজাহান নামে এক ব্যক্তি। মঙ্গলবার (৫ মে) কক্সবাজারের অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ ইরফানুল হক চৌধুরীর আদালতে এ চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। পরে আদালতের নির্দেশে ওই ভুয়া আসামিকে আটক করে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে কক্সবাজার সদর উপজেলার ভারুয়াখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা মাওলানা মোফাজ্জল হোসেন ৯ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন (সিআর নম্বর: ১০১৩/২০২২)। এই মামলার দুই আসামি মোহাম্মদ মামুন ও মোহাম্মদ আলতাজ মঙ্গলবার আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিনের আবেদন করেন।
শুনানির শুরুতে নিয়ম অনুযায়ী দুই আসামিকে আদালতের কাঠগড়ায় ডাকা হলে মোহাম্মদ মামুনের পরিচয় দেওয়া ব্যক্তির আচরণ এবং অসংলগ্ন কথাবার্তায় বিজ্ঞ বিচারকের সন্দেহ জাগে। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি আদালত থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে বিচারকের নির্দেশে পুলিশ তাকে আটক করে।
আটকের পর ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে জালিয়াতির আসল রহস্য। ধৃত ব্যক্তি স্বীকার করেন যে, তিনি প্রকৃত আসামি মোহাম্মদ মামুন নন; তাঁর আসল নাম মোহাম্মদ শাহজাহান। তিনি ভারুয়াখালী ইউনিয়নের বড় চৌধুরী পাড়ার মৃত মোহাম্মদ ইউনুসের ছেলে।
বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শওকত বেলাল জানান, মামলার মূল আসামি মোহাম্মদ মামুনের কাছ থেকে এক লক্ষ টাকা নিয়ে ‘আয়নাবাজি’র মাধ্যমে তাঁর হয়ে আদালতে প্রক্সি দিতে এসেছিলেন শাহজাহান। উদ্দেশ্য ছিল টাকার বিনিময়ে আসল আসামিকে আড়াল করে নিজের পরিচয় গোপন রেখে জামিন নিয়ে নেওয়া।
কক্সবাজার সদর আদালতের কোর্ট ইন্সপেক্টর জানিয়েছেন, জালিয়াতি ও আদালতকে বিভ্রান্ত করার অপরাধে শাহজাহানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। একই সাথে মূল আসামির বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
আদালত প্রাঙ্গণে এমন জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ পাওয়ায় আইনজীবীদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

