দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে র্যাম্প স্থাপন বাধ্যতামূলক করে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফাহমিদা আখতার জনস্বার্থে এ রিট আবেদনটি করেন।
রিটে আইন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত সচিব, স্থানীয় সরকার সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিবাদী করা হয়েছে।
রিট আবেদনে বলা হয়েছে, দেশের অধিকাংশ সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য প্রবেশগম্যতা (accessibility) এখনো নিশ্চিত হয়নি।
ফলে তারা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থানসহ মৌলিক নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা তাদের সাংবিধানিক ও মানবাধিকার পরিপন্থী।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বিদ্যমান প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩ থাকলেও এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হচ্ছে না।
তাই আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি নতুন করে স্পষ্ট নির্দেশনাসহ একটি বাধ্যতামূলক আইন প্রণয়ন প্রয়োজন বলে রিটে দাবি জানানো হয়েছে।
রিটে বলা হয়েছে, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সরকারি-বেসরকারি সকল স্থাপনায় প্রবেশ নিশ্চিত করতে র্যাম্প স্থাপন বাধ্যতামূলক করা না হলে তাদের সমঅধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এটি সংবিধানে বর্ণিত সমতা ও মর্যাদার নীতির সঙ্গেও অসঙ্গতিপূর্ণ।
এছাড়া একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত ‘ঢাকায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য চলাচল এখনো অনেক সময়ই অপ্রবেশযোগ্য থেকে যায়’ শীর্ষক প্রতিবেদন সংযুক্ত করে বাস্তব পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
আইনজীবী ব্যারিস্টার ফাহমিদা আখতার রিটে আদালতের কাছে আবেদন করেছেন, যেন দ্রুত আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রবেশযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, রিটটি গ্রহণ করে আদালত প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিলে দেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত হতে পারে এবং তাদের অধিকার বাস্তবায়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আসবে।

