বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ‘ই-বেইলবন্ড’সিস্টেমের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ‘ই-বেইলবন্ড’সিস্টেমের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সারাদেশে ‘ই-বেইলবন্ড’ পদ্ধতি বিস্তৃত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি ও জনভোগান্তি কমাতে ‘ই-বেইলবন্ড’ বা ইলেকট্রনিক জামিননামা পদ্ধতি দেশের সব আদালতে পর্যায়ক্রমে চালুর ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এই ডিজিটাল সিস্টেমের উদ্বোধনকালে তিনি এ ঘোষণা দেন। প্রাথমিকভাবে বগুড়াসহ সাতটি জেলায় এই কার্যক্রম চালু হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সব আদালতে ই-বেইলবন্ড চালু করা গেলে বিচারপ্রাপ্তিতে বিলম্ব ও বৈষম্য অনেকাংশে কমে আসবে। এর মাধ্যমে একটি কার্যকর ও ন্যায়ভিত্তিক বিচার ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, অতীতে জামিনের আদেশ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র আদালতের বিভিন্ন দফতর ঘুরে কারাগারে পৌঁছাতে কয়েকদিন সময় লাগত, যা বিচারপ্রার্থীদের জন্য বড় ভোগান্তির কারণ ছিল। নতুন এই পদ্ধতিতে সেই দীর্ঘসূত্রিতা দূর হবে এবং কয়েক মিনিটের মধ্যেই জামিননামা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে যাবে।

সরকারপ্রধানের ভাষ্য অনুযায়ী, আগে যেখানে একটি জামিননামা সম্পন্ন করতে অন্তত ১৩টি ধাপ অতিক্রম করতে হতো, সেখানে ই-বেইলবন্ড চালুর ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি সহজ, দ্রুত এবং স্বচ্ছ হবে। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং জালিয়াতির সুযোগও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।

তিনি জানান, এই ডিজিটাল ব্যবস্থাকে পুলিশের কেস ডাটাবেজ (CDMS), আদালতের কেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এবং জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাইকরণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে করে বিচার ব্যবস্থার বিভিন্ন ধাপ একীভূত হয়ে আরও কার্যকর হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে গায়েবি মামলা ও ভুয়া ওয়ারেন্টের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে হয়রানির যে অভিযোগ ছিল, প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থার মাধ্যমে তা কমানো সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, বিচার বিভাগকে একটি নিরপেক্ষ ও জনগণের আস্থার জায়গা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সরকারের লক্ষ্য। আদালত যেন কোনোভাবেই হয়রানির কেন্দ্র না হয়ে ন্যায়বিচারের নিরাপদ স্থান হয়ে ওঠে, সে দিকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এসময় তিনি জেলখানায় বিনাবিচারে আটক থাকা প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষের জন্য আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে আইনমন্ত্রীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নতুন প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করার আহ্বান জানান।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ই-বেইলবন্ড পদ্ধতির বিস্তার ঘটলে বিচারপ্রক্রিয়ায় গতি বাড়বে, স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে এবং সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ আরও সহজ হবে।