বিশেষ প্রতিনিধি, বরিশাল | বরিশাল মহানগরীর নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ জীবনযাপন নিশ্চিত করতে সাধারণ বিচার ব্যবস্থার পাশাপাশি গতি পেয়েছে ‘সংক্ষিপ্ত বিচার’ বা সামারি ট্রায়াল (Summary Trial) কার্যক্রম। মাদক, চুরি, ছিনতাই, অনলাইন জুয়াসহ বিভিন্ন ছোট ও মাঝারি অপরাধ দমনে এই পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে অপরাধীদের তাৎক্ষণিক সাজা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ও আস্থা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আদালত ও পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল মহানগর পুলিশ (বিএমপি), মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এবং অন্যান্য সরকারি দপ্তরের সমন্বিত সহায়তায় বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সি.এম.এম) আদালতে এই সংক্ষিপ্ত বিচার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। মহানগরের বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং স্থানীয় জনগণের সরাসরি সহায়তায় আসামিদের গ্রেপ্তার করে দ্রুততম সময়ে শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায়, সদ্য সমাপ্ত জুন (১ জুন থেকে ৩০ জুন) মাসেই বরিশাল মহানগরে সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে বিভিন্ন অপরাধের মোট ১৬৭টি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এসব মামলায় মোট ৪৫৭ জন আসামিকে অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত।
বিচারিক কার্যক্রমের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধান ও যৌথ প্রয়াস
এই বিচারিক সফলতার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে বরিশাল সি.এম.এম আদালতের নাজির মোঃ কামরুল হাসান বলেন-
বরিশাল মহানগর আদালতের মাননীয় মহানগর দায়রা জজ মীর মোঃ এমতাজুল হক মহোদয়ের নির্দেশনায় এবং মাননীয় চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জহির উদ্দিন মহোদয়ের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে বরিশাল মহানগর এলাকায় মাদক, চুরি, ছিনতাই সহ বিভিন্ন অপরাধ দমনের নিমিত্বে বরিশাল মহানগর পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এবং অন্যান্য দপ্তরের সহায়তায় বরিশাল সি.এম.এম আদালতের বিজ্ঞ অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস.এম শরিয়তুল্লাহ, বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, মিরাজুল ইসলাম রাসেল এবং বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, নূরুন নাজনীন মহোদয় গুরুত্ব দিয়ে সংক্ষিপ্ত বিচার তথা সামারি ট্রায়াল পরিচালনা করে যাচ্ছেন।
তিনি আরও যোগ করেন যে, এই কার্যকর উদ্যোগের ফলশ্রুতিতেই শুধু জুন মাসেই ৪৫৭ জন আসামিকে দ্রুততম সময়ে সাজা দেওয়া সম্ভব হয়েছে এবং আইনগত শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ভবিষ্যতেও এই সামারি ট্রায়াল কার্যক্রম অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে চলমান থাকবে।
অপরাধীদের মনে ভীতি, আইন-শৃঙ্খলার উন্নতি
সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতির কারণে মাঠ পর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ইতিবাচক পরিবর্তনের কথা তুলে ধরে বরিশাল মহানগরের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম বলেন-
মাননীয় পুলিশ কমিশনার মহোদয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী জুন মাস ব্যাপী বিভিন্ন ধরনের অপরাধ যেমন মাদক, চুরি, ছিনতাই অনলাইন জুয়া এর বিরুদ্ধে অভিযান চলমান ছিল। তারই ধারাবাহিকতায় বিজ্ঞ সি.এম.এম আদালত এই ধরনের অপরাধ নির্মূলে সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে অপরাধীদের তাৎক্ষনিক সাজা প্রদান করায় বরিশাল মেট্রোপলিটন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে মনে করি। অপরাধীদের মনেও ভীতির সৃষ্টি হয়েছে। এই ধারা অব্যাহত রাখতে পারলে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি সাধিত হবে।
আইনজীবী ও আদালতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, নিয়মিত বিচারিক প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা এড়িয়ে এভাবে ছোট অপরাধগুলোর তাৎক্ষণিক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে অপরাধীদের বড় অপরাধী হয়ে ওঠার প্রবণতা অনেকাংশে কমে আসবে, যা একটি নিরাপদ সমাজ বিনির্মাণে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

