সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়

রিট খারিজের তথ্য গোপন: আবেদনকারী ও আইনজীবীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

পূর্বে দায়েরকৃত রিট খারিজ হওয়ার তথ্য গোপন করে একই বিষয়ে পুনরায় রিট দায়ের করার প্রেক্ষাপটে রিট আবেদনকারী এবং তাঁর আইনজীবীর কাছে লিখিত ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীর এবং বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এই আদেশ প্রদান করেন।

আদালতের আদেশ অনুযায়ী, তথ্য গোপনের কারণে রিট আবেদনকারী মো. রফিকুল ইসলামকে ৫০ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট আইনজীবী আনোয়ার হোসেনকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা কেন করা হবে না, সে বিষয়ে দুজনকে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। আগামী ২৫ আগস্টের মধ্যে তাঁদের লিখিত ব্যাখ্যা দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তানিম খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। শুনানিতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আনোয়ার হোসেন এবং প্রাইম ব্যাংকের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

রাষ্ট্রপক্ষের নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি অর্থঋণ আদালতের দেওয়া একটি আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আমান ট্রেডিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পার্টনার মো. রফিকুল ইসলাম হাইকোর্টে প্রথম রিটটি করেন। পরবর্তীতে হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চে রিট আবেদনটি খারিজ হয়।

এরপর একই আদেশের বৈধতা নিয়ে তিনি পুনরায় দ্বিতীয় রিট আবেদনটি করেন। দ্বিতীয় রিটের সাপেক্ষে ইস্যু হওয়া রুলের শুনানিকালে প্রাইম ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল আদালতে তুলে ধরেন যে, একই বিষয়ে পূর্বেও রিট করা হয়েছিল এবং তা খারিজ হয়েছে, যা দ্বিতীয় আবেদনের নথিপত্রে গোপন রাখা হয়েছে।

গত ২৯ জুলাই শুনানির সময় আদালত রিট আবেদনকারী এবং তাঁর আইনজীবীকে ৪ আগস্ট আদালতে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন। নির্দেশ অনুযায়ী মঙ্গলবার রিট আবেদনকারী ও আইনজীবী আদালতে উপস্থিত হন।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তানিম খান জানান, আগের রিট খারিজ হওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট আইনজীবী জানতেন এবং শুনানিকালে তিনি তা আদালতের কাছে স্বীকার করেন। শুনানি শেষে বিচারকদ্বয় রিট আবেদনকারী ও আইনজীবীকে শোকজ করে লিখিত জবাব দাখিলের আদেশ দেন।