গণপরিবহন সংকট নিরসনে সরকারি মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) বাস ভাড়া দেওয়া নিষিদ্ধ করে সব বাস সাধারণ যাত্রীদের জন্য উন্মুক্ত করার দাবিতে সরকারকে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন (SCBA ID 6202) জনস্বার্থে এ আইনি নোটিশ পাঠান।
নোটিশটি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো হয়েছে।
আইনি নোটিশে বিআরটিসির বহরে থাকা সব বাস সাধারণ মানুষের গণপরিবহন সেবায় নিয়োজিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়, সাধারণ নাগরিকদের নিরাপদ ও সাশ্রয়ী যাতায়াত নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই জনগণের করের অর্থে বিআরটিসি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে সংস্থাটির বহরের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাস সাধারণ যাত্রীদের পরিবহনের পরিবর্তে বিভিন্ন সরকারি মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে ভাড়ায় দেওয়া হচ্ছে।
এর ফলে সাধারণ মানুষ নিজেদের করের টাকায় কেনা বাস ব্যবহার করতে না পেরে পরিবহন সংকটে পড়ছেন। অন্যদিকে বিপুলসংখ্যক বাস সরকারি কর্মকর্তাদের যাতায়াতে ব্যবহৃত হচ্ছে। নোটিশে এ ব্যবস্থাকে সাধারণ জনগণকে রাষ্ট্রীয় গণপরিবহন থেকে বঞ্চিত করার বৈষম্যমূলক নীতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থনীতিতে ‘আয়ের বৃত্তাকার প্রবাহ’ ও ফিসক্যাল মাল্টিপ্লায়ারের যুক্তি
নোটিশে সামষ্টিক অর্থনীতির ‘আয়ের বৃত্তাকার প্রবাহ’ বা Circular Flow of Income তত্ত্বের উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে বলা হয়, সরকারি মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানগুলো যখন বিআরটিসি থেকে বাস ভাড়া নেয়, তখন রাষ্ট্রীয় অর্থ মূলত এক সরকারি খাত থেকে অন্য সরকারি খাতে আবর্তিত হয়। ফলে অর্থের একটি ‘বদ্ধ চক্র’ তৈরি হয় এবং সেই অর্থ বেসরকারি বাজার বা সাধারণ মানুষের কাছে প্রবাহিত হওয়ার সুযোগ কমে যায়।
একটি গতিশীল অর্থনীতির জন্য সরকারি অর্থ বেসরকারি খাতে প্রবাহিত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া Fiscal Multiplier Effect-এর কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, সরকারি ব্যয়ের অন্যতম উদ্দেশ্য বেসরকারি খাতকে চাঙ্গা করা। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব পরিবহন প্রয়োজন হলে তাদের নিজস্ব বাস কেনা অথবা বেসরকারি পরিবহন খাত থেকে বাস ভাড়া করা উচিত।
নোটিশ অনুযায়ী, এতে সরকারি অর্থ বেসরকারি পরিবহন ব্যবসায়ীদের কাছে যাবে, পরিবহন খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং সামগ্রিকভাবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল হবে।
আইনি নোটিশে আগামী ১০ দিনের মধ্যে সরকারি মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানে বিআরটিসির বাস ভাড়া দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে সংস্থাটির সব বাস সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে।
পাশাপাশি সরকারি সংস্থাগুলোর পরিবহন চাহিদা মেটাতে নিজস্ব বাস কেনা অথবা বেসরকারি পরিবহন খাত থেকে গাড়ি ভাড়া করার বিষয়ে বাধ্যতামূলক নির্দেশনা জারির অনুরোধ করা হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া না হলে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের অধিকার ও রাষ্ট্রীয় অর্থনীতি রক্ষায় বাংলাদেশের সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট পিটিশন (PIL) দায়ের করা হবে বলে নোটিশে জানানো হয়েছে।

