সরকারি কার্যালয়গুলোতে জাতীয় পতাকা সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে।
গত রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ আদেশ প্রকাশিত হয়।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী, মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে তিন সদস্যের এই কমিটি গঠন করতে হবে। কমিটিতে একজন বিচারিক কর্মকর্তা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন প্রতিনিধি এবং একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক থাকবেন।
এর আগে গত ২৫ আগস্ট বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে দায়ের করা একটি রিটের শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। আইনজীবী শরীফ সরকার ও ব্যারিস্টার এইচ এম সানজীদ সিদ্দিকীর মাধ্যমে রিটটি দায়ের করা হয়।
পূর্ণাঙ্গ আদেশে হাইকোর্ট মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থায় জাতীয় পতাকা ব্যবহারের বিষয়ে প্রয়োজনীয় বিজ্ঞপ্তি বা নির্দেশনা জারি করতে বলেছেন।
আদালতের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আইন অনুযায়ী যারা জাতীয় পতাকা ব্যবহারের অধিকারী নন, এমন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যেন তাদের অফিসকক্ষে চেয়ার বা সোফার পেছনে জাতীয় পতাকা প্রদর্শন, ঝোলানো বা উত্তোলন থেকে বিরত থাকেন।
এ ছাড়া জাতীয় পতাকাকে অফিসের অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা, অলংকরণ কিংবা ব্যক্তিগত দাপ্তরিক ব্যাকগ্রাউন্ড হিসেবে ব্যবহার না করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে এ বিষয়ে একটি রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে, সরকারি ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থার কার্যালয়ে আইন অনুযায়ী যেসব কর্মকর্তার জাতীয় পতাকা উত্তোলন বা প্রদর্শনের অধিকার নেই, তাদের চেয়ার ও সোফার পেছনে দণ্ডে উল্লম্বভাবে জাতীয় পতাকা টাঙানো বা প্রদর্শন কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না।
এ ছাড়া ‘বাংলাদেশ জাতীয় সংগীত, পতাকা ও প্রতীক আদেশ, ১৯৭২’ এবং ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের পতাকা বিধিমালা, ১৯৭২’ অনুযায়ী সরকারি ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থার কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নিয়মকানুন কঠোরভাবে মেনে চলা নিশ্চিত করার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না—রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

