প্রধান বিচারপতি ফেলোশিপ বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে

‘ব্যালেন্সটা দুই জায়গায়—সৃষ্টিকর্তার কাছে চাওয়া আর নিজের পরিশ্রম’—আরিফুল করিম সিয়াম, ১ম স্থান অধিকারী, ১৮শ বিজেএস

লয়ার্স ক্লাব বাংলাদেশ ডেস্ক: বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষার ফলাফল মানেই যেন তরুণ মেধাবীদের নতুন এক স্বপ্নজয়ের গল্প। সদ্য প্রকাশিত ১৮শ বিজেএস পরীক্ষায় ঠিক তেমনই এক চোখধাঁধানো সাফল্যের গল্প রচনা করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী আরিফুল করিম সিয়াম।

দেশসেরা হওয়ার এই অসামান্য অর্জনের পর তাঁর কণ্ঠে নেই কোনো অহংকার, বরং রয়েছে পরম করুণাময়ের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা আর নিজের শেকড়ের প্রতি দায়বদ্ধতা।

সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছানোর নেপথ্য গল্প শোনাতে গিয়ে সিয়াম তুলে ধরেন এক গভীর জীবনদর্শন, যা হয়তো পথ দেখাতে পারে হাজারো স্বপ্নবাজ তরুণকে। তাঁর মতে, সফলতার কোনো জাদুর কাঠি নেই; এটি মূলত এক নিখুঁত ভারসাম্যের শিল্প।

সিয়াম বলেন, “আমি সবসময় বিশ্বাস করি, দুটো জায়গায় ব্যালেন্স করে চলতে হয়—একটা হচ্ছে সৃষ্টিকর্তার কাছে চাওয়া আর দ্বিতীয়ত নিজের পরিশ্রমটা করা। আমি সর্বপ্রথম যেটা বলব, সৃষ্টিকর্তা যদি না চান, তবে রিজিকের ফয়সালা হয় না। আল্লাহ চেয়েছেন বলেই আজ আমাকে এভাবে সম্মানিত করেছেন।”

তবে কেবল ভাগ্য কিংবা প্রার্থনার ওপর ভর করে অপেক্ষায় বসে থাকেননি তিনি। প্রস্তুতির দীর্ঘ ও কণ্টকাকীর্ণ এই যাত্রায় নিরলস পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাসই ছিল তাঁর প্রধান হাতিয়ার।

তিনি বলেন, “এর পাশাপাশি আমি আমার নিজের প্রচেষ্টা, একাগ্রতা এবং সততার মাধ্যমে লড়াইটা চালিয়ে গেছি।”

আরও পড়ুন : বিজেএস পরীক্ষা ২০২৫: চূড়ান্ত ফল প্রকাশ, সাময়িকভাবে মনোনীত ২০০

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনের পাঠ চুকিয়ে বিচারক হওয়ার এই দীর্ঘ ও কঠিন প্রস্তুতির পথটা মোটেও মসৃণ ছিল না সিয়ামের জন্য। জুডিশিয়ারি পরীক্ষার বিশাল সিলেবাস আর তুমুল প্রতিযোগিতার এই যাত্রায় নিজেকে শানিত করতে তিনি প্রস্তুতি নিয়েছিলেন ‘ডিজুরি একাডেমি’তে।

চূড়ান্ত সাফল্যের এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে নিজের প্রস্তুতির দিনগুলোর কথা এবং মেন্টরদের নীরব অবদানের কথা ভুলতে রাজি নন তিনি। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সিয়াম বলেন, “যখন আমি পরীক্ষাগুলো দিতাম, রিটেন বা এমসিকিউ প্রশ্ন নিয়ে কোনো কনফিউশন তৈরি হলে বা বুঝতে অসুবিধা হলে মেন্টরদের জানাতাম, আর তারা সবসময়ই আমাকে হেল্প করতেন।”

যারা আগামী দিনে বিচারক হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন, তাদের জন্য দেশসেরা এই তরুণের পরামর্শ খুবই সহজ, অথচ অত্যন্ত গভীর।

অনুজদের উদ্দেশে সিয়ামের বার্তা হলো, “সবচেয়ে জরুরি হলো নিজের প্রতি নিজের সৎ থাকা। নিজের চেষ্টায় যেন কখনো ঘাটতি না থাকে। যেকোনো পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধারণ করতে হবে। আর অবশ্যই প্রতিদিন সৃষ্টিকর্তার কাছে নিজের আবেদনটা যেন পৌঁছে দেওয়া হয়।”

মেধা, সততা আর প্রার্থনার এই অপূর্ব সমন্বয়ই আরিফুল করিম সিয়ামকে আজ সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছে দিয়েছে। তাঁর এই যাত্রা আগামী দিনের হাজারো পরীক্ষার্থীর জন্য হয়ে থাকবে এক অনন্য আলোকবর্তিকা।