৯৭ সহকারী জজ নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন
বিচারক (প্রতীকী ছবি)

১৮শ বিজেএসে বাজিমাত: প্রথম হওয়া সিয়ামসহ ডিজুরি থেকে সুপারিশপ্রাপ্ত ৩৪

ল’ইয়ার্স ক্লাব বাংলাদেশ ডেস্ক: বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় বিচারক হওয়ার স্বপ্ন দেখেন আইনের হাজারো শিক্ষার্থী। সদ্যপ্রকাশিত ১৮শ বিজেএস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফলে সেই গল্পের অন্যতম অংশীদার হয়ে উঠেছে ‘ডিজুরি একাডেমি’। এবারের মেধাতালিকায় ১ম ও ৩য় স্থান অধিকারীসহ এই প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৩৪ জন শিক্ষার্থী সিভিল জজ (সহকারী জজ) হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।

এবারের মেধাতালিকায় যিনি দেশসেরা হয়েছেন, সেই আরিফুল ইসলাম সিয়াম ছিলেন ডিজুরি একাডেমির ‘Run for 18th BJS Preli’ এবং ‘18th BJS Written Exam batch’-এর নিয়মিত শিক্ষার্থী।

তাঁর এবং অন্যান্যদের এই অভাবনীয় সাফল্যে উচ্ছ্বসিত একাডেমির শিক্ষক ও সহপাঠীরা। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সিয়াম বলেন, “যখন আমি পরীক্ষাগুলো দিতাম, রিটেন বা এমসিকিউ প্রশ্ন নিয়ে কোনো কনফিউশন তৈরি হলে বা বুঝতে অসুবিধা হলে মেন্টরদের জানাতাম, আর তারা সবসময়ই আমাকে হেল্প করতেন।”

ধারাবাহিক সাফল্য

বিচারক নিয়োগে প্রতিষ্ঠানটির এই সাফল্য অবশ্য আকস্মিক নয়; বরং এটি তাদের ধারাবাহিকতারই প্রতিচ্ছবি। বিগত বছরগুলোর পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ১৫শ বিজেএসে প্রথম স্থানসহ ৭ জন, ১৬শ-তে দ্বিতীয় স্থানসহ ১১ জন এবং ১৭শ-তে তৃতীয় স্থানসহ ২৬ জন সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশ পেয়েছিলেন।

সব মিলিয়ে একটি প্রতিষ্ঠান থেকে বিগত ৪ বছরে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসে বিচারক হলেন ৭৮ জন।

বিচার বিভাগের গণ্ডি পেরিয়ে আইন পেশাতেও ছায়া ফেলছেন এখানকার শিক্ষার্থীরা। এখন পর্যন্ত ৯৪৯ জন শিক্ষার্থী বার কাউন্সিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে দেশের বিভিন্ন আদালতে সুনামের সঙ্গে অ্যাডভোকেট হিসেবে কাজ করছেন।

প্রযুক্তিনির্ভর প্রস্তুতি

প্রতিযোগিতামূলক এই পরীক্ষার বিশাল সিলেবাস সহজে আয়ত্ত করতে প্রযুক্তিকে দারুণভাবে কাজে লাগাচ্ছে একাডেমিটি। নিজস্ব মোবাইল অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইন-অফলাইন লাইভ ক্লাস এবং পরীক্ষার সুযোগ থাকায় দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে প্রস্তুতি নিতে পারছেন শিক্ষার্থীরা।

নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাসের কারণেও প্রতিষ্ঠানটি আলাদা প্রশংসা কুড়িয়েছে।

ক্যারিয়ার সেশনে বরেণ্য ব্যক্তিত্বরা

শুধু রুটিনমাফিক পড়াশোনা নয়, শিক্ষার্থীদের মানসিক জড়তা কাটাতে বরেণ্য ব্যক্তিত্বদের নিয়ে নিয়মিত ক্যারিয়ার সেশনের আয়োজন করে একাডেমিটি।

এর আগে বিচার বিভাগের কিংবদন্তি মাজদার হোসেন এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ১৮তম অ্যাটর্নি-জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলের মতো বরেণ্য ব্যক্তিত্বরা ক্যাম্পাসে এসে শিক্ষার্থীদের উজ্জীবিত করেছেন।

সাফল্যের কারণ জানালেন পরিচালক

ধারাবাহিক এই সাফল্য নিয়ে ডিজুরি একাডেমির পরিচালক রফিকুল ইসলাম শিমুল বলেন, “আমাদের এই অর্জনের মূল চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে সাবজেক্টিভ ও মডেল টেস্টের প্রশ্নপত্রের গুণগতমান এবং অত্যন্ত যত্নের সাথে খাতা মূল্যায়নের মধ্যে। আমাদের সম্মানিত মেন্টররা সবসময় চূড়ান্ত পরীক্ষার স্ট্যান্ডার্ড ও প্যাটার্ন মাথায় রেখে ক্লাসগুলো পরিচালন করেন। প্রতিটি পরীক্ষার খাতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে শিক্ষার্থীদের ভুলগুলো শুধরে দেওয়া হয়। এই নিখুঁত ও বাস্তবমুখী প্রস্তুতির ফলে মূল পরীক্ষার হলে প্রশ্নপত্রটি শিক্ষার্থীদের কাছে অনেকটাই পরিচিত ও সহজবোধ্য মনে হয়, যা তাদের চূড়ান্ত বিজয়কে ত্বরান্বিত করে।”