আদালতের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে আইনজীবীকে মারধরের অভিযোগ তদন্তে ৩ বিচারকের কমিটি
আদালত ভবন, চট্টগ্রাম

আসামি গ্রেপ্তারে ফৌজদারি কার্যবিধির সংশোধনী অনুসরণের নির্দেশ চট্টগ্রামের সিএমএমের

চট্টগ্রামে আসামি গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির সর্বশেষ সংশোধনীর বিধান পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) এ.জি.এম. মনিরুল হাসান সরকার। তিনি বলেছেন, নিরপরাধ ব্যক্তি যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন এবং প্রকৃত অপরাধী যেন ছাড়া না পান, তা নিশ্চিত করতে হবে। তদন্তকাজে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অসহযোগিতা করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্সে সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কনফারেন্সে দ্রুত ও সঠিকভাবে মামলা নিষ্পত্তি, তদন্তের মান উন্নয়ন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল, সাক্ষীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা, জখমি সনদ ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন সংগ্রহ এবং আদালতের নিরাপত্তাসহ বিচারপ্রক্রিয়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

সমাপনী বক্তব্যে সিএমএম বলেন, তদন্তকাজে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে সহযোগিতা করতে সব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান বাধ্য। কেউ অসহযোগিতা করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যার ওপর যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তা আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করাই দেশপ্রেমের পরিচয়।

কনফারেন্সের শুরুতে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও ফোকাল পারসন মো. মহিদুল ইসলাম স্বাগত বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন : বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় দায়িত্ব ভাগ করে নিতে হবে

উপস্থাপনার মাধ্যমে তিনি চট্টগ্রাম মহানগর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেসির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মামলার সংখ্যা ও বিচারকের সংখ্যা তুলে ধরেন। মামলার সংখ্যা বাড়লেও বিচারকের সংখ্যা না বাড়ার বিষয়টিও আলোচনায় আনেন তিনি। পাশাপাশি বিভিন্ন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের প্রতি অনুরোধ জানান।

পরে ফৌজদারি কার্যবিধির সংশোধনী বিষয়ে আলোচনা করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলমগীর হোসেন। তিনি সংশোধিত আইনের বিধান অনুসরণ করে আসামি গ্রেপ্তার থেকে শুরু করে বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

কনফারেন্সে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি তারিক আহম্মদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. মাইনুদ্দিন দ্রুত ও সঠিকভাবে মামলার তদন্ত সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দেন। তারা জব্দ করা আলামত ধ্বংসের প্রক্রিয়া, আদালতে যাতায়াতের পথে প্রতিবন্ধকতা অপসারণ এবং আদালতে আসা আসামি ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পাশাপাশি আদালত প্রাঙ্গণে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।

মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর মো. মফিজুল হক ভূঁইয়া চট্টগ্রাম মহানগরীতে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের আইনের আওতায় আনা এবং আদালতের পরিবেশ রক্ষায় পুলিশের সহযোগিতা কামনা করেন।

চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের উদ্যোগে আয়োজিত এ কনফারেন্সে মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. হাবিবুর রহমান, উপপুলিশ কমিশনার (প্রসিকিউশন) মো. হাসান ইকবাল চৌধুরী, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর পরিচালক মো. আমিন উদ্দিন, বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম মহানগর এলাকার ১৬টি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।