রুহুল কুদ্দুস কাজল
অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল

গুম রোধ ও মানবাধিকার সুরক্ষায় প্রস্তাবিত আইন বাস্তবে কার্যকর হতে হবে : অ্যাটর্নি জেনারেল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা |প্রস্তাবিত গুম সংক্রান্ত এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিষয়ক আইনগুলো কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবে রূপ দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

রোববার (১৭ মে) বিকেলে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং গুম সংক্রান্ত বিষয়ে আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে আয়োজিত এক অংশীজন সভায় আমন্ত্রিত অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল আমাদের দেশের প্রচলিত আইন প্রণয়নের একটি বিশেষ প্রবণতা তুলে ধরে বলেন, “আমাদের দেশে প্রায় প্রতিটি আইনেই একটি ‘ওভাররাইডিং ক্লজ’ (অন্যান্য আইনের ওপর এই আইনের প্রাধান্য পাওয়ার বিধান) যুক্ত করার প্রবণতা দেখা যায়। কিন্তু আমরা এমন কিছু লিখতে বা আইনি কাঠামো তৈরি করতে চাই, যা বাস্তবে প্রকৃতভাবে প্রয়োগ ও কার্যকর হবে। এটি কেবল লেখার জন্যই লেখা হওয়া উচিত নয়।”

মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অঙ্গীকারের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, “মানবাধিকার, মানবিক মর্যাদা এবং ব্যক্তি স্বাধীনতা রক্ষা করা রাষ্ট্রের একটি অন্যতম প্রধান সাংবিধানিক দায়িত্ব। সরকার ইতিমধ্যেই গুম থেকে সকল ব্যক্তিকে সুরক্ষার আন্তর্জাতিক কনভেনশনে (International Convention for the Protection of All Persons from Enforced Disappearance) স্বাক্ষর করেছে, যা এই প্রস্তাবিত বিশেষ আইনের শুরুতেই সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।”

আরও পড়ুন : গুম প্রতিরোধে অংশীজনদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে কঠোর আইন করা হবে: আইনমন্ত্রী

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনের সংস্কারের বিষয়ে মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা সংস্থাকে কেবল নিরঙ্কুশ ও একচ্ছত্র ক্ষমতা দেওয়ার চেয়ে প্রাতিষ্ঠানিক ভারসাম্য বজায় রাখা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, এমপি-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব ড. হাফিজ আহমেদ চৌধুরী।

সভায় গুমের শিকার পরিবারের প্রতিনিধি হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য ও গুম হওয়া বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীর সহধর্মিণী তাহসিনা রুশদী এবং গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের প্ল্যাটফর্ম ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি, এমপি। এছাড়াও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষে ইউএনডিপি (UNDP) বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন লিলার সভায় বক্তব্য রাখেন।

উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে আইন বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার কর্মীরা গুম প্রতিরোধে বাস্তবসম্মত আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে গুমের অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী কঠোর শাস্তির মেয়াদ নির্ধারণ, তদন্তকারী কর্মকর্তার ন্যূনতম যোগ্যতার একটি পেশাদার মানদণ্ড প্রবর্তন এবং অপরাধের সার্বিক বিচারিক কার্যক্রমকে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার (Timeframe) মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য আইনি বিধি সংযোজনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।