জিয়াউল

আইনজীবী আমিনুল গণি টিটোর মৃত্যু: জিয়াউল আহসানের মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ পিছিয়ে ২১ জুন ধার্য

কোর্ট রিপোর্টার, ঢাকা | বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে সংঘটিত শতাধিক গুম ও বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (NTMC) প্রাক্তন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে চলমান বিচারিক প্রক্রিয়ার নির্ধারিত সাক্ষ্যগ্রহণ পিছিয়ে গেছে। আগামী ২১ জুন সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী নতুন তারিখ ধার্য করেছেন আদালত।

আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই আদেশ প্রদান করেন।

মূলত আসামিপক্ষের প্রধান কৌঁসুলির আকস্মিক প্রয়াণের প্রেক্ষিতে আইনজীবীদের আবেদনের ওপর ভিত্তি করেই আদালত এই শুনানির তারিখ পুনর্নির্ধারণ করেছেন।

প্রসিকিউশন দল থেকে জানানো হয়েছে, মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় আজ মঙ্গলবার বিজ্ঞ আদালতে পঞ্চম সাক্ষীর (5th Witness) জবানবন্দি গ্রহণের সুনির্দিষ্ট কার্যতালিকা (কজ লিস্ট) ছিল। সেই অনুযায়ী রাষ্ট্রপক্ষের ওই সাক্ষী যথাসময়ে ট্রাইব্যুনাল কক্ষে উপস্থিতও হয়েছিলেন।

তবে, গত ৭ জুন (রবিবার) রাতে এই মামলার প্রধান ডিফেন্স আইনজীবী ও ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ অ্যাডভোকেট আমিনুল গণি টিটো রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আকস্মিক মৃত্যুবরণ করেন। প্রধান আইনজীবীর এই আকস্মিক প্রয়াণের কারণে ট্রাইব্যুনালে নতুন আইনজীবী নিয়োগ এবং প্রস্তুতির জন্য সময় প্রার্থনা করে আজ সকালে একটি লিখিত আবেদন পেশ করে আসামিপক্ষ।

ট্রাইব্যুনাল আসামিপক্ষের এই যৌক্তিক ও আইনি আবেদনটি মঞ্জুর করে সাক্ষ্যগ্রহণ মুলতবি ঘোষণা করেন এবং আগামী ২১ জুন পরবর্তী দিন ঠিক করেন।

এর আগে, ২৩ এপ্রিল চার নম্বর সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেওয়া হাবিবুর রহমান মল্লিকের জেরা সম্পন্ন হয়। ২২ এপ্রিল তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন ট্রাইব্যুনাল।

এদিকে, আজ সকালে কারাগার থেকে জিয়াউল আহসানকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে পুলিশ। সাক্ষ্যগ্রহণ না হওয়ায় পরে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।

চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি তিনটি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে জিয়াউলের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। অভিযোগে বলা হয়, ২০১১ সালের ১১ জুলাই গাজীপুরের পুবাইলে তিনজনকে হত্যা, ২০১০-২০১৩ সাল পর্যন্ত বরগুনায় ৫০ জন এবং একই সময়ে আরও ৫০ জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।