কোর্ট রিপোর্টার, ঢাকা | বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে কর্মরত অফিস সহকারী মো. আলমগীর হোসেনকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টেরই এক কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগ পরীক্ষায় অন্য প্রার্থীর পক্ষে প্রক্সি (ব্যবহারিক পরীক্ষা) দিতে গিয়ে হাতেনাতে আটক ও পরবর্তীতে ফৌজদারি আদালতে সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলো।
গতকাল বুধবার (১ জুলাই) সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে জারিকৃত এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
সুপ্রিম কোর্টের জারিকৃত বিজ্ঞপ্তির বিবরণ অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টে সরাসরি জনবল নিয়োগের লক্ষ্যে আয়োজিত ‘কম্পিউটার অপারেটর-কাম-কম্পিউটার’ পদের ব্যবহারিক (প্র্যাক্টিক্যাল) পরীক্ষা চলাকালে এই জালিয়াতির ঘটনা ঘটে। হাইকোর্ট বিভাগে কর্মরত অফিস সহকারী মো. আলমগীর হোসেন নিজে সরকারি কর্মচারী হওয়া সত্ত্বেও জালিয়াতি ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে অন্য একজন পরীক্ষার্থীর পক্ষে ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নেন।
পরীক্ষা চলাকালীন দায়িত্বরত পরীক্ষা বোর্ডের সদস্যদের সন্দেহ হলে তাৎক্ষণিকভাবে আলমগীরের প্রবেশপত্রটি যাচাই করা হয়। পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাইয়ে দেখা যায়, প্রবেশপত্রটি আলমগীরের নিজের নয়, বরং অন্য এক প্রার্থীর। পরবর্তীতে পরীক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধিরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। এর মাধ্যমে বোর্ড নিশ্চিত হয় যে, তিনি অবৈধভাবে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ পাইয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে অসদুপায় অবলম্বন করেছেন। এছাড়া জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়ার পর তিনি দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সঙ্গে অত্যন্ত অশালীন, অসংযত ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করেন।
শাহবাগ থানায় মামলা ও ফৌজদারি আদালতে সাজা
এই নজিরবিহীন জালিয়াতির ঘটনায় গত ৫ মে রাজধানীর শাহবাগ থানায় মো. আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে একটি নিয়মিত ফৌজদারি মামলা (প্রসিকিউশন নং-৩০৯) দায়ের করা হয়।
পরবর্তীতে মামলাটি বিচারের জন্য স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সংক্ষিপ্ত বিচার আদালতে স্থানান্তরিত হলে (সি.আর মামলা নং-১৩৪০/২০২৬) গত ৫ জুন বিজ্ঞ আদালত চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন। রায়ে আসামি আলমগীর হোসেনকে ডিএমপি অধ্যাদেশ ১৯৭৬-এর ৭৫ ধারা এবং দণ্ডবিধি (Penal Code) ১৮৬০-এর ৪১৭ ধারা অনুযায়ী দোষী সাব্যস্ত করে ৬ (ছয়) মাসের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
দাপ্তরিক শৃঙ্খলা পরিপন্থি কাজের চূড়ান্ত শাস্তি
সুপ্রিম কোর্টের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, মো. আলমগীর হোসেনের এই জঘন্য কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণভাবে দাপ্তরিক শৃঙ্খলা পরিপন্থি, চরম অসদাচরণের শামিল এবং একটি গুরুতর গুরুদণ্ডযোগ্য অপরাধ। একজন বিচারিক কর্মচারীর এমন ফৌজদারি অপরাধ ও নৈতিক স্খলনের গুরুত্ব ও ভয়াবহতা বিবেচনা করে সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃপক্ষ তাকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত (Suspension) করার এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

