ইনকিলাব সম্পাদকের বিরুদ্ধে নোমান গ্রুপের ২ হাজার কোটি টাকার মানহানি মামলা
মামলা (প্রতীকী ছবি)

সিএমএম আদালতের বিচারকের সিল-স্বাক্ষর জাল করে কোর্ট ম্যারেজ: আইনজীবীসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

কোর্ট রিপোর্টার, ঢাকা | ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের বিচারকের স্বাক্ষর ও অফিশিয়াল সিল জাল করে ভুয়া বিয়ের হলফনামা (কোর্ট ম্যারেজ) তৈরির অভিযোগে এক আইনজীবীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় একটি চাঞ্চল্যকর ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গতকাল রোববার (১৯ জুলাই ২০২৬) সিএমএম আদালতের নেজারত বিভাগের অফিস সহকারী মো. খালিদ হোসেন বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় সুনির্দিষ্ট তিন আসামির পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

আসামিরা হলেন— মো. নয়ন, মোসা. রিমা এবং আইনজীবী মো. তরিকুল ইসলাম (তরু) ফরাজী।

মামলার এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ জুলাই সিএমএম আদালতের ১১ নম্বর আদালতের বিচারক মো. নয়ন ও ফাহিমা ইসলাম রিয়া নামের দুই ব্যক্তির একটি বিয়ের হলফনামার বৈধতা ও তথ্যাদি যাচাই-বাছাই করার নির্দেশ দেন।

আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী হলফনামাটি নেজারত শাখায় যাচাই করতে গিয়ে বেরিয়ে আসে জালিয়াতির থলের বিড়াল। দেখা যায়, জালিয়াত চক্রটি যে স্মারক নম্বর ব্যবহার করে বিয়ের হলফনামাটি তৈরি করেছে, আদালতের মূল রেজিস্টার খাতায় সেই স্মারকটি সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ব্যক্তির নামে সংরক্ষিত রয়েছে।

আরও পড়ুন : অপ্রমাণিত তালাকের অজুহাতে স্ত্রীর দেনমোহর ও সন্তানের ভরণপোষণ বন্ধ করা যাবে না: হাইকোর্ট

অধিকতর তদন্তে উদঘাটিত হয় যে, অভিযুক্ত চক্রটি ১১ নম্বর আদালতের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের স্বাক্ষর ও আদালতের দাপ্তরিক সিল সুকৌশলে জাল করে প্রতারণামূলকভাবে এই ভুয়া বিয়ের হলফনামা তৈরি করেছিল।

এজাহারে আরও বলা হয়, চক্রটি শুধু ভুয়া বিয়ের হলফনামা তৈরি করেই ক্ষান্ত হয়নি; বরং পরবর্তীতে এই জাল নোটারি/হলফনামাটি ব্যবহার করে বরগুনার আমলী আদালতে একটি মিথ্যা মামলা দায়েরের অপচেষ্টাও চালায়। তবে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফ হোসাইন নথিপত্র সূক্ষ্মভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জালিয়াতির বিষয়টি ধরে ফেলেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে মামলাটি খারিজ করে দেন।

মামলার এজাহারে সুনির্দিষ্ট আইনি ব্যাখ্যা তুলে ধরে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী মুসলিম বিবাহ নিবন্ধনের (Registry) জন্য নিকাহ রেজিস্ট্রার বা কাজীর মাধ্যমে কাবিননামা সম্পাদন বাধ্যতামূলক। শুধু নোটারি পাবলিক বা আদালতের হলফনামার (কোর্ট ম্যারেজ) মাধ্যমে সম্পন্ন করা বিয়ের কোনো আইনগত বৈধতা বা কার্যকরতা নেই এবং এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে।

তা সত্ত্বেও আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা ও জালিয়াতির আশ্রয়ে জাল কাগজপত্র তৈরি করে আদালত এবং বিচারকের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করেছেন, যা দণ্ডবিধির অধীনে শাস্তিযোগ্য মারাত্মক অপরাধ।