বিশেষ সংবাদদাতা, ঢাকা | মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গুমের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার নিরপেক্ষ তদন্তের অংশ হিসেবে রাজধানীর উত্তরায় র্যাব-১ সদর দপ্তরে অবস্থিত র্যাবের আলোচিত টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল বা গোপন বন্দিশালা ‘আয়নাঘর’ সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর পূর্ণাঙ্গ তিন সদস্যের বিচারক প্যানেল ও চিফ প্রসিকিউটরের নেতৃত্বাধীন প্রসিকিউশন দল।
আজ শনিবার (১ আগস্ট ২০২৬) বেলা ১১টার দিকে বিচারকমণ্ডলী ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট আইনজীবীগণ রাজধানীর উত্তরায় র্যাব-১ সদর দপ্তরের অভ্যন্তরে অবস্থিত এই বিতর্কিত বন্দিশালায় সরাসরি প্রবেশ করেন এবং পরিদর্শনের কাজ সম্পন্ন করেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর এই ঐতিহাসিক সরজমিনে পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার, ট্রাইব্যুনালের সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এই বিচারক প্যানেলের পাশাপাশি ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে প্রসিকিউশন টিমের সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন। আইন প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবীরাও টিএফআই সেল পরিদর্শনের সময় সঙ্গে ছিলেন।
প্রসিকিউশন টিমের মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, শাইখ মাহদী, সহিদুল ইসলাম সরদার এবং তাসমিরুল ইসলাম পরিদর্শনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
পরিদর্শনের পটভূমি ও বিচারিক সিদ্ধান্ত
আদালত সূত্রে জানা যায়, বিগত ২১ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে এই বিশেষ পরিদর্শনের সুনির্দিষ্ট আবেদন জমা দেওয়া হয়েছিল। ওই দিন ট্রাইব্যুনালের শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম এলিট ফোর্স র্যাব, ডিজিএফআই (DGFI) এবং ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (DB) বিভিন্ন গোপন বন্দিশালা বা ‘আয়নাঘর’-এর অস্তিত্বের তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরেন।
আবেদনে ট্রাইব্যুনালকে জানানো হয়, বিগত আওয়ামী লীগের টানা দীর্ঘ শাসনামলে রাজনৈতিক বিরোধী মতাদর্শের মানুষ, অধিকারকর্মী ও সাধারণ নাগরিকদের আইনবহির্ভূতভাবে তুলে নিয়ে এসব অতি গোপন বন্দিশালায় মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর গুম করে রাখা হতো। সেখানে তাঁদের ওপর চালানো হতো অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।
প্রসিকিউশনের এই যুক্তিসঙ্গত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সার্বিক মানবতাবিরোধী অপরাধের তথ্য-প্রমাণ ও সাক্ষ্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে ট্রাইব্যুনাল-১ গোপন বন্দিশালাগুলো সরাসরি পরিদর্শনের চূড়ান্ত আদেশ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় আজ শনিবার উত্তরায় অবস্থিত র্যাবের টিএফআই সেলে প্রথম সরজমিনে তদন্ত সম্পন্ন হলো।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিচারের পূর্বে ট্রাইব্যুনালের মাননীয় বিচারকদের নিজেদের চোখে কথিত ‘আয়নাঘর’ ও নির্যাতিত স্থানগুলো পরখ করে দেখার এই দৃষ্টান্ত দেশে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গুমের নিরপেক্ষ বিচারে এক যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক আলামত হিসেবে বিবেচিত হবে।

