যশোরের ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের এজলাস কক্ষ থেকে দুটি মামলার নথি চুরির অভিযোগে আবু সাঈদ মোল্যা নামে এক শিক্ষানবিশ আইনজীবীকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ট্রাইব্যুনালের সাঁটমুদ্রাক্ষরিক-কাম-কম্পিউটার অপারেটর আসাদুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করেছেন।
আটক আবু সাঈদ মোল্যা যশোর সদর উপজেলার জলকর গ্রামের আকেম আলী মোল্যার ছেলে।
সাঁটমুদ্রাক্ষরিক-কাম-কম্পিউটার অপারেটর আসাদুল ইসলাম জানান, বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে তিনি ও অফিস সহায়ক আব্দুল বারিক ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের এজলাস কক্ষে সরকারি কাজ করছিলেন। এ সময় শিক্ষানবিশ আইনজীবী আবু সাঈদ মোল্যা ট্রাইব্যুনাল কার্যালয়ে এসে ঘোরাফেরা করছিলেন।
কিছুক্ষণ পর অফিস সহায়ক মামুন মিয়া জানান, টেবিলে রাখা দুটি মামলার নথি পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর তাঁরা বিভিন্ন স্থানে নথি দুটি খুঁজতে থাকেন।
এর মধ্যে বিষয়টি জানাজানি হলে বিকেল ৩টার দিকে চৌগাছা সিভিল জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী শেখ আব্দুর বাছেদ মোবাইল ফোনে জানান, হারিয়ে যাওয়া দুটি নথিসহ আবু সাঈদ মোল্যাকে তাঁর অফিস কক্ষে আটক করা হয়েছে।
পরে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সেখানে গিয়ে নথিসহ আবু সাঈদ মোল্যাকে আটক করে বিচারক সুমাইয়া কাওসারের সামনে হাজির করেন। বিচারক এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা করার নির্দেশ দেন।
এরপর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দেবাশীষ হালদার আবু সাঈদ মোল্যাকে আটক করে থানায় নিয়ে যান।
তবে আবু সাঈদ মোল্যা নথি দুটি চুরির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে নথি দুটি নেননি। তাঁর অজান্তেই ডায়েরির সঙ্গে নথি দুটি চলে গিয়েছিল।
তিনি বলেন, ওই ডায়েরি তিনি চৌগাছা সিভিল জজ আদালতে রাখেন। পরে ডায়েরিটি দেখতে গিয়ে এর নিচে নথি দুটি দেখতে পান। এরপর তিনি নথি দুটি চৌগাছা সিভিল জজ আদালতে রেখে যান। পরে তাঁকে ডেকে এনে আটক করা হয়।
এ ঘটনায় করা মামলার পর পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।

