চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চুক্তির চলমান প্রক্রিয়ার বৈধতা প্রশ্নে জারি করা রুল খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর ফলে এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনে আর কোনো আইনগত বাধা থাকল না।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিচারপতি জাফর আহমেদের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম ও ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক।
এর আগে গত ৪ ডিসেম্বর এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির চলমান প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে দ্বিধাবিভক্ত রায় দেওয়া হয়। ওই বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ফাতেমা নজীব চুক্তি প্রক্রিয়াকে আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও অবৈধ ঘোষণা করেন। অপরদিকে একই বেঞ্চের জুনিয়র বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার রিটটি খারিজ করে চুক্তি প্রক্রিয়াকে বৈধ ঘোষণা করেন।
দ্বিধাবিভক্ত রায়ের কারণে সংবিধান ও আদালতের বিধান অনুযায়ী বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতি মামলাটি বিচারপতি জাফর আহমেদের একক বেঞ্চে পাঠান।
আরও পড়ুন : থানা ভাঙচুরের সময় কারাগারে থাকা আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন, পুলিশ কর্মকর্তাকে শোকজ
এর আগে গত ২৫ নভেম্বর এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির বৈধতা প্রশ্নে জারি করা রুলের শুনানি শেষ হয়। পরে আদেশের জন্য ২৯ জানুয়ারি দিন ধার্য করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ৩০ জুলাই হাইকোর্ট এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চুক্তির চলমান প্রক্রিয়া কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। একই সঙ্গে যেকোনো অপারেটরকে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইন ও নীতি অনুসারে ন্যায্য ও প্রতিযোগিতামূলক পাবলিক বিডিং (দরপত্র আহ্বান) নিশ্চিত করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, সে বিষয়েও ব্যাখ্যা চান আদালত।
এনসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে বাংলাদেশ যুব অর্থনীতিবিদ ফোরামের পক্ষে সংগঠনটির সভাপতি মির্জা ওয়ালিদ হোসাইন রিটটি দায়ের করেন। রিটে নৌপরিবহন সচিব, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এবং পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিবাদী করা হয়।
রিট আবেদনের পেছনে গত বছরের ২৬ এপ্রিল একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত ‘নিউমুরিং টার্মিনালে সবই আছে, তবু কেন বিদেশির হাতে যাচ্ছে’ শিরোনামের একটি প্রতিবেদনসহ এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ যুক্ত করা হয়। এসব প্রতিবেদনে এনসিটি পরিচালনায় ন্যায্য ও প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র আহ্বানের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছিল।
হাইকোর্টের সর্বশেষ রায়ে রুল খারিজ হওয়ায় এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনের পথে আর কোনো আইনগত জটিলতা রইল না বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

