জামালপুর শহরে নিজ বাড়ির শয়নকক্ষে স্ত্রীকে ছুরিকাঘাত ও শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে দিয়ে ঘটনা ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে এক আইনজীবীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
নিহত গৃহবধূ তাহমিনা আক্তার তানিয়া (৩৬) শহরের মুকুন্দবাড়ি এলাকার আবু তাহেরের মেয়ে। অভিযুক্ত স্বামী হোসেন তাইফুর জামালপুর পৌর এলাকার ফুলবাড়িয়া দড়িপাড়া মন্ডলবাড়ি এলাকার প্রয়াত নজরুল ইসলামের ছেলে এবং পেশায় আইনজীবী। তাদের দুই সন্তান রয়েছে, এক ছেলে (১২) ও এক মেয়ে (১০)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে শহরের দড়িপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ওই সময় পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী তাহমিনাকে প্রথমে ছুরিকাঘাত এবং পরে শ্বাসরোধে হত্যা করেন স্বামী হোসেন তাইফুর। হত্যার পর ঘটনাটি আড়াল করতে তিনি বিছানায় আগুন ধরিয়ে দেন।
আগুন লাগার পর ঘর থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। দরজা বন্ধ থাকায় তারা জানালার কাঁচ ভেঙে ভেতরে তাকিয়ে বিছানার ওপর তাহমিনার নিথর দেহ দেখতে পান। পরে তারা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করেন। এ সময় পাশের একটি কক্ষ থেকে অভিযুক্ত স্বামী হোসেন তাইফুরকে আটক করা হয়। আগুনে নিহতের মরদেহ আংশিক পুড়ে যায় এবং একটি হাত পুড়ে যায় বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন : গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী সম্মাননা পাচ্ছেন খালেদা জিয়া
নিহতের স্বজনরা জানান, প্রায় ১৫ বছর আগে পারিবারিকভাবে তাহমিনা আক্তারের সঙ্গে হোসেন তাইফুরের বিয়ে হয়। তারা সম্পর্কে ফুফাতো-মামাতো ভাইবোন ছিলেন। সম্প্রতি তাইফুর মাদকাসক্ত হয়ে পড়ায় দাম্পত্য জীবনে প্রায়ই কলহ লেগে থাকত।
নিহতের মামা মনোয়ার ইসলাম বলেন, “তাহমিনা বাবার বাড়িতে ছিল। বৃহস্পতিবার রাতে তাকে এই বাড়িতে আনা হয়। পরে গভীর রাতে তাকে হত্যা করে মরদেহ পুড়িয়ে ঘটনা ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।”
এ ঘটনায় শুক্রবার (৬ মার্চ) দুপুরে নিহতের ছোট ভাই আবু সাঈদ তৌকির বাদী হয়ে জামালপুর সদর থানা-এ একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযুক্ত স্বামী হোসেন তাইফুরকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে।
মিজানুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), জামালপুর সদর থানা বলেন, “হত্যা এবং পরে মরদেহ গুম করার চেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাকে জামালপুর জেলা কারাগার-এ পাঠানোর নির্দেশ দেন।”
এর আগে ইয়াহিয়া আল মামুন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল), জামালপুর বলেন, পারিবারিক কলহের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। হত্যার পর ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নিতে ঘরে আগুন দিয়ে মরদেহ পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
তিনি জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং মামলার তদন্ত চলছে।

