রাজবাড়ী জেলা বার এসোসিয়েশন–এর সদস্য আইনজীবী অ্যাডভোকেট বকুল ভৌমিক–এর বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও সহকর্মীদের সঙ্গে খারাপ আচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তার সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে বার এসোসিয়েশনের ভোটার তালিকা ও ওকালতনামা থেকে নাম কর্তন এবং সব ধরনের আর্থিক সুবিধা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রোববার (৮ মার্চ) প্রকাশিত এক নোটিশে এ তথ্য জানান রাজবাড়ী জেলা বার এসোসিয়েশনের সম্পাদক মো. আব্দুর রাজ্জাক।
নোটিশে বলা হয়, বার এসোসিয়েশনের সদস্য অ্যাডভোকেট খান মোহাম্মাদ নাজমুল হক গত ৩ মার্চ ২০২৬ তারিখে কার্যনির্বাহী কমিটির কাছে অ্যাডভোকেট বকুল ভৌমিকের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে বলা হয়, একই দিন দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে অ্যাডভোকেট বকুল ভৌমিক অ্যাডভোকেট নাজমুল হকের টেবিলে গিয়ে উপস্থিত আইনজীবী, মহরার ও মক্কেলদের সামনে তাকে নাম ধরে গালাগালি করেন এবং চড়-থাপ্পড় মারার হুমকি দেন।
পরে ৩ মার্চ বিকেল ২টায় বার এসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়। সভায় অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
নোটিশে আরও বলা হয়, অ্যাডভোকেট বকুল ভৌমিক এর আগেও একাধিক আইনজীবীর সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছেন এবং অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দিয়েছেন।
যাদের মধ্যে রয়েছেন—
-
অ্যাডভোকেট অশোক কুমার সাহা
-
অ্যাডভোকেট মো. মাহবুব রহমান
-
অ্যাডভোকেট মো. রফিকুল ইসলাম
-
অ্যাডভোকেট মো. আলাউদ্দিন বেপারী
-
অ্যাডভোকেট মুহা. আ. লতিফ মিঞা (রতন)
-
অ্যাডভোকেট মো. আরিফ উদ্দিন খান (দিপু)
-
অ্যাডভোকেট বাসুদেব প্রামানিক
-
অ্যাডভোকেট মো. আরব আলী
-
অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ নাজিরুল ইসলাম
-
অ্যাডভোকেট সুখেন্দু চক্রবর্তী
-
অ্যাডভোকেট জাহিদ উদ্দিন মোল্লা
এসব অভিযোগের সত্যতাও কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় প্রমাণিত হয়েছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
নোটিশ অনুযায়ী, এ ধরনের আচরণ পেশাগত অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হওয়ায় এটি রাজবাড়ী জেলা বার এসোসিয়েশনের গঠনতন্ত্রের ৭৬ ধারার আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
এ কারণে কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে অ্যাডভোকেট বকুল ভৌমিকের সদস্যপদ স্থগিত করার পাশাপাশি তাকে ভোটার তালিকা ও ওকালতনামা থেকে নাম কর্তন এবং সকল আর্থিক সুবিধা বন্ধের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযোগের বিষয়ে শুনানির আগে তাকে বার এসোসিয়েশনের সভাপতি, সহ-সভাপতি ও প্রধান করণিক অবগত করলেও শুনানির সময় তিনি বারে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে হাজির হননি।
এ পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, নোটিশ পাওয়ার পর থেকে অ্যাডভোকেট বকুল ভৌমিক মামলার বাদী, আসামি বা সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত হওয়া ছাড়া আদালত ভবন, আদালত চত্বর এবং বার ভবনে প্রবেশ করতে পারবেন না।
একই সঙ্গে বার এসোসিয়েশনের সদস্যদের তাকে কোনো মামলা সংক্রান্ত লেনদেন না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।

