রাম চন্দ্র দাশ
রাম চন্দ্র দাশ

গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় আইনজীবীদের আরো শক্তিশালী ভূমিকা প্রয়োজন

রাম চন্দ্র দাশ : আধুনিক কল্যাণমূলক রাষ্ট্রে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানাবাধিকারকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পেশাজীবী হিসেবে আইনজীবীরা এসব বিষয়ের সাথে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। তাই রাজনীতিতে অর্থাৎ রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রাচীনকাল থেকেই আইনজ্ঞ ও আইনজীবীদের উজ্জ্বল পদচারণা এবং তাদের ভূমিকাও সর্বাদাই অগ্রগণ্য। আইনজীবীরা পেশাজীবী হিসাবে সংবিধান ও মৌলিক মানবাধিকার এবং উচ্চ নৈতিকতা সমুন্নত রাখতে শপথবদ্ধ । আইনজীবীদের একটি অবশ্য পালনীয় আচরণবিধিও আছে যা পেশাজীবী হিসেবে ডাক্তার ছাড়া খুব কম পেশাতেই আছে। এছাড়া আইনজীবীরা অফিসার ‘অব দ্য কোর্ট’ হিসেবে ন্যায় বিচারে সহায়তা করে থাকেন।

সর্বোপরি, আইনজীবীরা সিভিল সোসাইটির অগ্রগামী সদস্য হিসেবেও বিবেচিত হন অর্থাৎ তারা অন্যের ন্যায্য অধিকার ও স্বার্থ আদায়ে কাজ করে থাকেন। তাছাড়া আইনজীবীদের আছে সংবিধিবদ্ধভাবে সাংগঠন (বার কাউন্সিল ও বার এসোসিয়েশন) পরিচালনার অভিজ্ঞতা যা খুব কম পেশাজীবীদেরই আছে। আইনপেশার এসকল গুরুত্ব বিবেচনা করে সামাজিক আইন বিজ্ঞানের পুরোধা দার্শনিক রসকো পাউন্ড আইজীবীদের সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে অভিহিত করেছেন।

বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে আইনজীবীদের আছে উজ্জ্বল ভূমিকা এবং স্বাধীনতা পরবর্তী দেশ পুর্নগঠনেও আদালতের পাশাপাশি রাজনীতিতে আছে আইনজীবীদের নেতৃত্ব দেবার ইতিহাস। এছাড়াও বাংলাদেশে আশির দশকে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে এবং সর্বশেষ ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানেও আইনজীবীদের আছে এক উজ্জ্বল ভূমিকা। এতসব ঐতিহ্য ও অভিজ্ঞতা থাকায় সাধারণ জনগণ, অন্যান্য পেশা এবং আইনপেশার তরুণদের আছে এই পেশার প্রতি অনেক প্রত্যাশা। তাই আইনজীবীদের সংগঠন বার কাউন্সিল ও বার এসোসিয়েশনগুলো রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যান্য সংগঠনের জন্য মডেল সংগঠন হওয়ার সুযোগ অনেক বেশি।

কারণ, আইনজীবীরা সংবিধান ও আইন জানেন, প্রয়োগ করার ক্ষমতা ও সুযোগ আছে; জনগণের অধিকার ও মানবাধিকার রক্ষায় তাদের কাজ করার সুযোগ আছে এবং কেউ কেউ করছেনও বটে। কাজের পরিবেশের মাধ্যেই গণতান্ত্রিক আচরণের প্রধান গুণ যুক্তিশীলতা, সহনশীলতা, সমবেদনা ও অপরের মাতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীলতার চর্চার সুযোগ রয়েছে; অনকেই এই চর্চা করেও থাকেন। এছাড়া সাংগঠনিক কাজের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক চর্চার সুযোগও তাদের অনেক বেশি।

উপরোক্ত অনুকুল পরিবেশ ও সুযোগ থাকা সত্বেও আমারা আইনজীবীরা কী আমাদের পেশার প্রতি আমরা সুবিচার করতে পারছি? এই প্রশ্ন গত ৫/৭ বছর যাবৎ আইনাঙ্গনে ও সাধারণ জনগণের মধ্যে ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং পরিস্থিতি ক্রমাগত অবনতি হচ্ছে। বিশেষ করে ২০২৪ গণঅভ্যুত্থানের পর গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা সম্পর্কে মানুষের প্রত্যাশা যখন আকাশচুম্বী তখন থেকে আমাদের আদালত প্রাঙ্গনের বিশেষ করে আমাদের কতিপয় আইজীবীদের আচরণিক দুর্বলতায় বিজ্ঞ আইনজীবী সমাজ ও সাধারণ জনগণ স্তম্ভিত হয়ে যান। এসকল বিষয় স্থানীয় ও জাতীয় প্রিন্ট ও ইলেট্রনিক মিডিয়ায় প্রকাশিত হচ্ছে যা আমাদের আইনজীবীদের ও আদালতের সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষুন্ন করছে। এ বিষয়ে অভিজ্ঞ সিনিয়ররা বলেন যে, এর আগে কখনোই এরকম অবস্থা পরিলক্ষিত হয় নাই।

এ সমায়কালে নিচের প্রবণতাগুলো বেশি পরিলক্ষিত হয়-

(১) কতিপয় বিজ্ঞ আইনজীবী কর্তৃক ঢাকা চট্রগ্রামসহ বেশ কিছু বারে কিছু আসমীদের উপর আক্রমণ করা;
(২) কিছু কিছু বারে বিরোধী রাজনৈতিক সমর্থক বিজ্ঞ আইনজীবীদের উপর আক্রমণ করা, চেম্বার ভাংচুর করা, মামলা পরিচালনায় ও কোর্টে আসতে বাধা প্রদান এবং তাদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা রুজ্জু করা ইত্যাদি;
(৩) কিছু বারে নিয়মিত নির্বাচন না করে এডহক কমিটির মাধ্যমে বার পরিচালনা করা; কেউ কেউ এটাকে বার দখলও বলে থাকেন।
(৪) কিছু বারে বিরোধী রাজনৈতিক সমর্থক বিজ্ঞ আইনজীবীদের নির্বাচন না করতে দেওয়া ও একতরফা নির্বাচন করা; এবং
(৫) কিছু কিছু বারে বিচারককে প্রভাবিত করা ও বিচারককে হুমকি প্রদান, বদলিতে প্রভাবিত করা এবং এর ফলে বার ও বেঞ্চের সম্পর্কের অবনতি এবং কিছু ক্ষেত্রে অচলাবস্থাও তৈরি হয়েছে।

সবচেয়ে পরিতাপের বিষয় হল, উপরোক্ত ঘটনাগুলোর বিরুদ্ধে তেমন কোন ব্যাবস্থা নেওয়া হয়নি এবং আগামীতে যাতে না ঘটে তার জন্য বার কাউন্সিল, বার এসোসিয়শন ও বিচার প্রশাসন থেকে তেমন কোন উদ্যোগও গ্রহণ করা হয়নি। যার ফলে বহুমুখী ক্ষতির আশংকা তৈরি হয়েছে, যেমন (১) এগুলো প্রতিহিংসার উদাহরণ ও প্রবণতা হয়ে থেকে গেল; (২) বিচার বিভাগের বিশেষ করে বিজ্ঞ আইনজীবী সমাজের সম্মান মারাত্মকভাবে ক্ষুন্ন হয়েছে; (৩) বিচারপ্রর্থীদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির জন্য একটি অন্তরায় হিসেবে কাজ করবে।

আমাদের মনে রাখতে হবে, এমনিতেই আমাদের বিচারবিভাগের ইতোমধ্যে প্রাধান ২টি সীমাবদ্ধতা আছে। প্রথমত, বিচারে দীর্ঘসূত্রিতা ও মামলা জট; দ্বিতীয়ত, বিচার বিভাগে দুর্নীতি ও অনিয়ম যা টিআইবি সহ বিভিন্ন গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে। এর ফলে অনেক বিচারপ্রার্থী আদলতে আসতে স্বাচ্ছন্দবোধ করেন না অর্থাৎ স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও আমরা আদালতকে অনেকক্ষেত্রেই বিচারপ্রার্থী-বান্ধব করতে পারিনি। এর সাথে উপরোক্ত সাম্প্রতিক প্রবণতাগুলো আমাদের আইনজীবী সমাজকে কোথায় নিয়ে যাবে, এটা কি ভাবা যায়? আমাদের বিচার বিভাগের জন্য এই পরিস্থিতি কি কারো কাম্য হতে পারে? বস্তুত, বিচার প্রশাসনের প্রধান স্টেকহোল্ডার বিজ্ঞ বিচারকবৃন্দ, বিজ্ঞ আইনজীবীবৃন্দ ও বিচারপ্রার্থী কারো জন্য এই বিষয়গুলো কাম্য হতে পারে না। তাই আমাদেরকে অনেক গুরুত্ব দিয়ে এর কারণ খুঁজে বের করতে হবে এবং এর সমাধান করতে হবে।

আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে প্রধান যে কারণসমূহ পাই তা হল-

(১) দলীয় রাজনীতির নেতিবাচক সংস্কৃতির প্রভাব আমাদের বারে পড়েছে (একদল অন্যদলকে সহ্য করতে না পারা এবং আইনপেশার সিনিয়রদের মান্যগণ্যের রীতি অনেকাংশেই কমে যাচ্ছে);
(২) বার এসোসিয়েশনে প্রতিবছর (ঘন ঘন) নির্বাচন এবং নির্বাচনে অনেক বিজ্ঞ সদস্য অনেক ব্যয়/বিনিয়োগ করেন (কারো কারো আচরণে মনে হয় এটা লাভজনক পদবী) ও নির্বাচন পরিচালনা বেশ কষ্টসাধ্য। ফলে যে কোনভাবে নির্বাচনে জিততে হবে এই মনোভাব অনেকেই পোষণ করেন, যা থেকে কারো কারো মধ্যে উগ্রতা তৈরি হয় এবং কেউ কেউ নির্বাচন প্রভাবিত করতে চেষ্টা করেন;
(৩) বার কাউন্সিল অভিভাবক সংগঠন হিসাবে দুর্বল হয়ে যাওয়া, ফলে এসকল সমস্যা সমাধানে তাদের তেমন কোন জোরালো ভূমিকা থাকেনা;
(৪) আইনজীবী সমাজের বেশ কিছু বিজ্ঞ সদস্যদের মধ্যে শপথ ও আচরণবিধি জানা, অনুধাবন করা ও মানার তেমন কোন বালাই না থাকা;
(৫) বার এসোসিয়েশনের নির্বাচিত কমিটিগুলো ও নেতৃবৃন্দ অনেকক্ষেত্রেই কার্যকরভাবে উদ্ভূত সমস্যাগুলোর প্রতিরোধ ও প্রতিকার করতে পারছে না;
(৬) সর্বোপরি সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান হিসাবে বার কাউন্সিল ও বার এসোসিয়েশনগুলো নতুন পরিস্থিতির সাথে তাল মিলিয়ে নিজেদেরকে গতিশীল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিনির্মাণ করতে পারছে না; অনেকেই মনে করেন এর জন্য আমরা সমষ্টিগতভাবে দায়ী এবং এর সমাধানের জন্য আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধভাবে নতুন করে ভাবতে হবে এবং কাজ করতেই হবে।
৭) আমাদের আরো মনে রাখতে হবে, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে আমাদের নিস্তার পেতেই হবে কারণ, এর সাথে জড়িত আমাদের পেশার অস্তিত্ব ও সুনামের প্রশ্ন এবং বিচার প্রার্থীদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির অধিকার রক্ষার প্রশ্ন জড়িত। যেখান থেকে আমাদের সরে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই।

আমি আমার স্বল্প অভিজ্ঞতা দিয়ে ও কিছু কিছু সদস্যের সাথে আলোচনা করে বিজ্ঞ আইনজীবী সমাজের চিন্তার খোরাক হিসেবে নিচের সম্ভাব্য সমাধানগুলোর প্রস্তাব করছি-

প্রথমত, আমাদের বার কাউন্সিল, বার এসাসিয়েশন ও বিজ্ঞ আইনজীবীদের পেশা অন্তর্নিহিত উদ্যেশ্যকে পুনর্বিন্যাস করে আইনজীবীদের উন্নতির পাশাপাশি ‘অফিসার অব দ্য কোর্ট’ হিসেবে ন্যায়বিচারে সহায়তা করার পবিত্র দায়িত্বকে গুরুত্ব দিয়ে এবং আদালতকে বিচারপ্রার্থী-বান্ধব আদালতে রূপান্তরিত করার আয়োজন করতে বার কাউন্সিল ও বার এসোসিয়েশগুলোকে আরো শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার কথা চিন্তা করা প্রয়োজন।

দ্বিতীয়ত, বারের কার্যক্রমকে রাজনীতি মুক্ত ঘোষণা করা যেতে পারে এবং বারের বিজ্ঞ সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সাথে রাজনীতির সাথে সরাসরি সম্পর্কিতরা সিনিয়র নেতারা বসে এবিষয়ে একটি কিছু আচরণবিধি তৈরি করা যেতে পারে।

তৃতীয়ত, বার কাউন্সিলের মতো ৩ বছর পর পর নির্বাচন করা যেতে পারে। একনাগারে ১ পদে একবার এবং একপদে সর্বোচ্চ ২ বারের বেশি নির্বাচন নিরুৎসাহিত করা যেতে পারে।

চতুর্থত, নির্বাচনী প্রচারণা ও ভোটগ্রহণ ও গণনা অনলাইনে/ডিজিটাল পদ্ধতিতে করা যেতে পারে।

পঞ্চমত, বর্তমান সময়ের ও পেশার উদ্দেশ্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ করে বর্তমান আচরণবিধিকে পুনর্বিন্যাস করে নতুনভাবে সুনির্দিষ্ট আচরণ বিধি প্রণয়ন করা প্রয়োজন। সঠিকভাবে শপথ পরিচালনা ও আচরণবিধি সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ সকল সদস্যকে দিতে হবে; শক্তিশালী চলমান মনিটরিং এর ব্যবস্থা নিতে হবে।

ষষ্ঠত, বার কাউন্সিলকে এক্ষেত্রে আরো কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। এর জন্য প্রত্যেক বার থেকে কয়েকজন প্রতিনিধি (সিনিয়র ও জুনিয়র সদস্য) এনে একটি কর্মশালা করে বার কাউন্সিলকে গতিশীল করার সুপারিশ নিয়ে কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। প্রয়োজনে আইন ও বিধিমালা সংশোধনের ব্যাবস্থা নিতে হবে।

সপ্তমত, বার এসোসিয়েশনগুলো বছরে অন্তত ২টি করে (আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থী) ৪টি গণশুনানী করা যেতে পারে যাতে তাদের সমস্যা ও সুপারিশগুলো বারের নেতৃবৃন্দ জানতে পারেন। এক্ষেত্রে বিচার প্রশাসনকেও যুক্ত করা যেতে পারে। প্রত্যেক বারে ৭-৯ জন বিজ্ঞ সিনিয়র সদস্য নিয়ে একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা যেতে পারে যাতে বারের সমস্যা চিহ্নিত করতে ও উদ্ভূত সমস্যা সমাধানে তারা সহযোগিতা করতে পারেন।

অষ্টমত, আচরণবিধি লংঘনের সালিশ/বিচারকে আরো দ্রুত ও কার্যকরী করতে হবে। আদালত প্রাঙ্গনে কোন ফৌজদারী অপরাধ যেমন- আসামী বা আইনজীবীকে আক্রমণ করলে, চেম্বার ভাংচুর করলে বা পেশা পরিচালনা করতে বাধা দিলে বা নির্বচন করতে বাধা দেওয়াকে জিরো-টলারেন্স নীতির আওতায় এনে চরম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে এবং ভিকটিমকে বার এসোসিয়েশন এবং বার কাউন্সিল থেকে সালিশসহ আইনগত ব্যবস্থা নিতে সহযোগিতা করার ব্যাবস্থা করতে হবে।

পরিশেষে বলা যেতে পারে যে, আমাদের শপথ অনুযায়ী সংবিধান, আইনের শাসন এবং মৌলিক মানবাধিকার রক্ষার পেশাগত প্রতিজ্ঞা নিয়ে আমাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে। এর জন্য আমাদের অভিভাবক সংগঠন বার কাউন্সিল ও বার এসোসিয়েশনগুলোকে নতুনভাবে সাজাতে হবে এবং এর জন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী বাস্তবধর্মী পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে আমাদের সিনিয়র অভিজ্ঞ সদস্যদের মতামত ও সহযোগিতা নিতে হবে।

আমাদের এই পেশাগত অঙ্গীকার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য অনুকরণীয় হবে এটাই আমাদের ও অন্যান্য অংশীজনের প্রত্যাশা। কতিপয় বিভ্রান্তদের কাছে আমারা নতি স্বীকার করতে পারি না এবং ভাতৃঘাতী বিশৃংখলাকে প্রশ্রয় দিতে পারি না; আমারা বিভ্রান্ত বিজ্ঞ বন্ধুদের শৃংখলায় ফিরিয়ে আনবো এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের অভিযাত্রায় আমরা আইনজীবী সমাজ অগ্রণী ভূমিকা পালন করবো- এটাই হোক আমাদের দৃঢ় অঙ্গীকার।

লেখক : রাম চন্দ্র দাশ; আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।